ঢাকা, বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৪ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

সরকারি চাকরিতে শূন্য পদ ৩ লাখ ৩৭ হাজার

সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম | আপডেট : ১২:১৩ এএম, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, সরকারের বিভিন্ন অফিস ও মন্ত্রণালয়ে তিন লাখ ৩৬ হাজার ৭৪৬টি সরকারি পদ শূন্য। এর মধ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে শূন্য রয়েছে তিন হাজার ৮৫৪টি পদ। এসব শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল জাতীয় সংসদে মো. আনোয়ারুল আজীম (আনার) ও শামসুল হক টুকুর ভিন্ন ভিন্ন তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রী জানান, ৩৭তম বিসিএসের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারের এক হাজার ২৮৯টি পদে নিয়োগের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সুপারিশ করেছে। সুপারিশকৃত প্রার্থীদের প্রাক-চাকরির বৃত্তান্ত যাচাই করার জন্য যথাযথ সংস্থাকে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রাক-চাকরি যাচাই প্রতিবেদন, মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত নিয়োগ দেয়া হবে। তিনি বলেন, ৩৮, ৩৯ ও ৪০তম বিসিএসের মাধ্যমে যথাক্রমে দুই হাজার ২৪টি, চার হাজার ৭৯২টি ও এক হাজার ৯০৩টিসহ মোট আট হাজার ৭১৯টি বিভিন্ন ক্যাডারের শূন্য পদে নিয়োগের কাজ চলছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ এবং এর অধীন সংস্থার চাহিদার প্রেক্ষিতে সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে ১০ থেকে ১২ গ্রেডে (দ্বিতীয় শ্রেণি) শূন্য পদে জনবল নিয়োগ করা হয়ে থাকে। ১৩ থেকে ২০ এর (তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি) পদে স্ব স্ব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বা সংস্থা নিয়োগ বিধি অনুযায়ী নিয়োগ করে থাকে।
মন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ ধারাবাহিকভাবে সকল মন্ত্রণালয় বা বিভাগের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন পদ সৃজনের সম্মতি প্রদান করে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ নিয়োগবিধি অনুযায়ী ওই পদে জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে। আদালতের কার্যক্রম শেষ না হওয়া এবং পদোন্নতিযোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় কিছু শূন্য পদ পূরণ করা যায় না।
সংসদে নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচার আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই করা হবে।
নেত্রকোনা-৫ আসনের এমপি জানতে চান, যুদ্ধাপরাধীর দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কি-না, থাকলে তা কী? এর উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচার প্রক্রিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী তৈরি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে পুনরায় ওই সংশোধনী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হবে, যাতে এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা যায়।
আনিসুল হক জানান, ১৯৯৮ সালে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বিএনপি চারদলীয় জোট গঠন করে। যে জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে রাজনৈতিকভাবে দৃঢ় ও প্রকাশ্য অবস্থান নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তাদের বাড়ি এবং গাড়িতে চারদলীয় জোট জাতীয় পতাকা উড়ায়। কিন্তু বর্তমান সরকার সবসময়ই আইনের শাসনে বিশ্বাসী। এ সরকারই বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে এ দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। এ দেশের মাটিতেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীদের একাধিক মামলার রায়ে আদালত জামায়াতে ইসলামী দল হিসেবে যুদ্ধাপরাধে জড়িত ছিল মর্মে উল্লেখ করেছেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন