ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১২ চৈত্র ১৪২৫, ১৮ রজব ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

বুড়িগঙ্গা-তুরাগে অভিযান ৫৫ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

ঢাকার বুড়িগঙ্গা-তুরাগ নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডবিøউটিএ)। গতকাল সকাল ৯টার দিকে ১৮তম দিনের মতো এই অভিযান শুরু হয়। অভিযানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ৫৫টি স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিআইডবিøউটিএ বলছে, বুড়িগঙ্গা-তুরাগে উচ্ছেদ অভিযানের ২য় পর্বের ২য় পর্যায়ের গতকাল ছিল শেষ দিন। ২য় পর্বের ৩য় পর্যায়ের কাজ আগামী ১৯ মার্চ সকাল ৯টা থেকে তুরাগ নদীতে গাবতলী থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত নদীর তীর দখলমুক্ত করতে তিন দিন উচ্ছেদ অভিযান চলবে। বিআইডবিøউটিএর যুগ্ম-পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন বলেন, গতকাল সাভারের বড় বরদেশী মৌজা, গাবতলী ও আমিনবাজারে তুরাগ নদীর উভয় তীরে ৫৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পাকা বাউন্ডারি ওয়াল ২০টি, বাঁশের জেটি ১৫টি ও টিনের ঘর ২০টি।
এছাড়া গত ২৯ জানুয়ারি থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১৮ কার্যদিবসে মোট ২ হাজার ২৬টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবমুক্ত করা হয়েছে ৫২ একর জমি। এ সময় নিলামের মাধ্যমে আয় হয় ৩১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। বিআইডবিøউটিএ সূত্র জানায়, ২৯ জানুয়ারি অভিযান শুরুর পর থেকে সপ্তাহে তিনদিন করে প্রথম দফায় ১২ দিন উচ্ছেদ চালানো হয়। এরপর ১২ দিন বিরতি দিয়ে ৫ মার্চ থেকে দ্বিতীয় দফায় অভিযান শুরু হয়। গতকাল ছিল দ্বিতীয় দফার দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযানের শেষ দিন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসীন্দা বলেন, ভূমিদস্যুরা এসব জায়গা অবৈধভাবে দখল করে আবাসন প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে প্লট বা ফ্ল্যাট আকাড়ে বিক্রি করছে। তারা নদীর সীমানা প্রাচীর তুলে ফেলে নতুনভানে সীমানা নির্ধারণ করে দীর্ঘদিন এসব কাজ করে আসছে। তবে উচ্ছেদের শিকার ভুক্তভোগী সাধারণ ক্রেতাদের অনেকে এসব জায়গা কেনা বেঁচার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানান। স্থানীয়রা আরও বলেন, প্রতিবার উচ্ছেদের পরপরই স্থানীয় ও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা এসব জায়গা আবারও দখল করে। যার কারণে উচ্ছেদ চালানো হলেও কার্যত স্থায়ী কোন সফলতা আসে না। তাদের ভাষ্য, এসব জমি উচ্ছেদের সাথে সাথে সীমানা প্রাচীর চিহ্নিত করে নদী ও নগরবান্ধব স্থায়ী কোন স্থাপনা নির্মাণ করা গেলে এসব জায়গা রক্ষা করা সম্ভব। এছাড়া ক্ষমতাশালী ভূমিদস্যু চক্রগুলোর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেক বৈঠকে ঢাকার চারপাশের নদী ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দূষণ বন্ধ ও নাব্যতা ফিরিয়ে এনে নদী রক্ষায় টাস্কফোর্স গঠন করে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় এ উচ্ছেদ কার্যক্রম চলছে। নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি সংসদে বলেন, নদী তীরে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ঠেকাতে কারও প্রভাবই খাটবে না। বিআইডবিøউটিএ যে অভিযান শুরু করেছে, তা অব্যাহত থাকবে। জানা গেছে, অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত জায়গায় ওয়াকওয়ে নির্মাণ, সবুজায়ন ও লাইটটিংয়ের কাজ করবে বিআইডাবিøউটিএ। এ জন্য সাড়ে ৮শ’ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন