ঢাকা, বুধবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

টাকা উদ্ধারের সম্ভাবনা নেই

ফিলিপাইনের সিনেট কমিটির মন্তব্য

প্রকাশের সময় : ১৮ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে লোপাট হওয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার উদ্ধারের খুব একটা আশা দেখছে না ফিলিপিন্সের ‘ব্লু রিবন’ সিনেট কমিটি। ফিলিপিন্সের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এই অর্থ পাচারের ঘটনার তদন্তে থাকা এই কমিটির চেয়ারম্যান তেওফিস্তো গুংগোনা  বলেছেন, “ওই অর্থ উদ্ধার করা খুবই কঠিন হবে, কেননা তা এরই মধ্যে ব্ল্যাক হোলে ঢুকে পড়েছে।”
বুধবার সিনেট কমিটির শুনানিতে সিনেটর গুংগোনার এই বক্তব্য আসে বলে ফিলিপিন্সের ডেইলি ইনকোয়ারার খবর দিয়েছে। কমিটির সদস্য সিনেটর সের্গিও ওসমেনাকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিলিপিন্সের একটি ব্যাংকে আসার পর ক্যাসিনোর জুয়ার টেবিলে চলে যাওয়া ওই টাকা এরই মধ্যে দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারির শুরুতে ‘সুইফট ম্যাসেজ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে’ অর্থ লোপাটের ওই ঘটনা বাংলাদেশের মানুষ জানতে পারে ২৯ ফেব্রুয়ারি ইনকোয়ারারের এক  প্রতিবেদনে। সিনেট কমিটির অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফেডারেল রিজার্ভ অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঞ্চিত ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ৫ ফেব্রুয়ারি ফিলিপিন্সের মাকাতি শহরে রিজল ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখায় ভুয়া নামে খোলা চারটি অ্যাকাউন্টে জমা হয়। পরে তা তুলে স্থানীয় মুদ্রা পেসোয় রূপান্তর করা হয়। এর মধ্যে ৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার দুটি ক্যাসিনোর জুয়ার টেবিলে চলে যায় বলে সিনেট কমিটিকে জানিয়েছে ফিলিপিন্সের অ্যামিউজমেন্ট গেমিং করপোরেশন (পিএজিসিওআর), যারা ক্যাসিনোগুলোতে আর্থিক লেনদেনের নজরদারির দায়িত্বে রয়েছে। সিনেটর ওসমেনাকে উদ্ধৃত করে ইনকোয়ারার লিখেছে, ওই টাকা কোথায় গেছে, তার পথ খোঁজার বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করছে ক্যাসিনোগুলোর ওপর। ইনকোয়ারার-এর আগে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার ক্যাগায়ান প্রদেশের সোলায়ার রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনোতে এবং আরও ২ কোটি ডলার ইস্টার হাওয়াই ক্যাসিনো অ্যান্ড রিসোর্টে ঢোকে। কিন্তু বাকি টাকা কোথায় গেছে, সে তথ্য পিএজিসিওআর কর্মকর্তারা উদঘাটন করতে পারেনি। তারা বলছেন, বড় জুয়াড়িদের জন্য এসব ক্যাসিনোতে বাকিতে চিপস কেনার সুবিধা রয়েছে। রিজল ব্যাংকের সেই সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্টের টাকা জুয়াড়িদের অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার আগেই বাকির সুবিধা নিয়ে তারা খেলতে শুরু করেছিলেন।
ফিলিপিন্সের আইন অনুযায়ী ক্যাসিনোতে জুয়ায় জেতা অর্থ থেকে নির্ধারিত ট্যাক্স দিলে তা বৈধ আয় বিবেচিত হয়। সেভাবেই ওই টাকা হাতবদল হয়ে পাচার হয়ে গেছে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। বুধবার সিনেট কমিটির শুনানির পর সিনেটর ওসমেনা ফিলিপিন্সের সাংবাদিকদের বলেন, ক্যাসিনোগুলো কার কাছ থেকে ওই টাকা পেয়েছে এবং পরে কার হাতে টাকাগুলো গেছে সে তথ্য খোঁজার চেষ্টা করবেন তারা, যদিও টাকা উদ্ধারের খুব বেশি আশা তারা দেখছেন না। “আমরা ক্যাসিনোগুলো থেকে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করব। সোলায়ারের প্রেসিডেন্টকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারিনি, কেননা তিনি দেশে ছিলেন না। আর যে আইনজীবীকে তারা পাঠিয়েছিল, সে বিস্তারিত তথ্য জানে না।” ওসমেনা বলেন, সিনেট কমিটি ওই অর্থের ‘ইলেকট্রনিক ট্রেইল’ খোঁজার চেষ্টা করবে। তবে আইনে অনেক ‘ফাঁক’ থাকায় ক্যাসিনোগুলো কতোটা তথ্য শেষ পর্যন্ত দেবে, সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
অর্থ ছাড় না করলে খুন হতে হবে বলেছিলেন সেই ম্যানেজার:
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনে দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে ব্যাংক কর্মকর্তা রোমাল্ডো অগার্ডো সিনেটরদের জানান, রিজাল ব্যাংকের জুপিটার শাখায় টাকা হস্তান্তরের সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকার কথা জানিয়েছিলেন রিজাল ব্যাংকিং করপোরেশনের শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতো। অগার্ডো আরও বলেন, ৫ ফেব্রুয়ারি একটি ব্যাগে করে দেগুইতোর গাড়িতে যে ২০ মিলিয়ন পেসো তোলা হয়েছিল সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া টাকা বলে তাঁর ধারণা।
তবে অগার্ডোর বক্তব্যের প্রতিবাদ করে দেগুইতো বলেন, তিনি তাঁর বক্তব্যের সময় এ বিষয়টি খোলাসা করবেন। মায়া সান্তোস দেগুইতোর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে ফিলিপাইনের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট। সিনেটর ভিসেন্তে সোতোর প্রশ্নের জবাবে অগার্ডো বলেন, জ্যেষ্ঠ কাস্টমার রিলেশনস অফিসার অ্যাঞ্জেলা তোরেস তাঁর সঙ্গে ছিলেন। ওই সময়ে দেগুইতো জুপিটার ব্যাংকের একটি কক্ষে ছিলেন, তাঁকে সে সময় খুব ভীত সন্ত্রস্ত দেখাচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘দেগুইতো তখন তাঁদের বলেছিলেন, হয় আমাকে এ অর্থ ছাড় করতে হবে, না হয় আমি বা আমার বাবা খুন হব।’ অগার্ডো বলেন, ‘কারা তাঁকে মৃত্যুর হুমকি দিচ্ছে সে বিষয়ে আমি জিজ্ঞেস করিনি।’
এদিকে দেগুইতোর সঙ্গে বৈঠক করেছে দেশটির সিনেট কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রিজাল ব্যাংকিং করপোরেশনের শাখা ব্যবস্থাপক দেগুইতো তথ্য দেবেন বলে জানানোর পর এ বৈঠক হয়। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে বিষয়টি জড়িত বলে বৈঠকের আলোচনা  প্রসঙ্গে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে সিনেটরদের ওই বৈঠকে ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ উপস্থিত ছিলেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন