ঢাকা রোববার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ০৩ মাঘ ১৪২৭, ০২ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

লড়াই নৌকা-ধানের শীষের বিরাজ করছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

খুলনার ৬৭ ইউনিয়নে ভোট আজ

প্রকাশের সময় : ২২ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

এ.টি.এম. রফিক/আশরাফুল ইসলাম নূর, খুলনা থেকে

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উৎসবের আমেজ চাপা পড়েছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায়। দফায় দফায় বিরোধী দল-মতের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর, পোস্টার ছেঁড়া, প্রচার-প্রচারণায় ব্যাপক বাধা, হুমকি-ধমকি ও ভোটের পর দেখে নেয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণে ভীতসন্ত্রস্ত ভোটাররা। তাছাড়া খুলনার ৯টি উপজেলায় ৬৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪২৭টিই ঝুঁকিপূর্ণ। এই প্রথম দলীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আয়োজন করায় দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর পর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নৌকা আর ধানের শীষের ভোট লড়াই। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে দেশের ৭৩৮টি, বিভাগের ২৫২ ও খুলনা জেলার ৬৭টি ইউনিয়নে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জেলা নির্বাচন অফিসের সূত্র মতে, খুলনায় ৯টি উপজেলায় ৩০৬ জন চেয়ারম্যান, ২ হাজার ৬১২ জন সদস্য এবং ৭৭৫ জন সংরক্ষিত (মহিলা) সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তেরখাদা সদর ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেয়ায় একজন চেয়ারম্যান বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া খুলনায় ৮ জন সদস্যও বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। খুলনার ৬৭টি ইউনিয়নে ১২ লাখ ১৪ হাজার ২৮৫ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। দলীয় সূত্র জানায়, খুলনার ৬৭টি ইউনিয়নেই আ.লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। রয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থীও। তবে বিএনপি খুলনার ৬১টি ইউনিয়নে প্রার্থী দেয়। তার মধ্যে দুইজনের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন। আর দু’জন চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলার শীর্ষ নেতাদের বিনাঅনুমতিতে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। এছাড়া ৯টি ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কার করে বিএনপি। জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ২৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী লড়ছেন খুলনায়। স্বতস্ত্র প্রার্থীর আবরণে মাঠে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীও। তাছাড়া বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন ৪৫টি ইউনিয়নে এবং বিএনএফ ও জাসদ কয়েকটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিয়েছে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সর্বশেষ নৌকা আর ধানের শীষের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল দেশে। আর গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি বিএনপি। তাই দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় এই দুই প্রতীকেই ভোটের লড়াইয়ে মনোনীত প্রার্থীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনৈতিক সুবিধা না দেয়ায় পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন আ.লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। শুধু তাই নয়; খুলনার ৯টি উপজেলার ৬৭টি ইউনিয়নেই আ.লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে অনৈতিক সুবিধা প্রত্যাশা করছেন বলে অভিযোগ সরকারি কর্মকর্তাদের। তবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠতে পারে, এমন আশঙ্কায় মুখ খুলছেন না তারা। এর মধ্যে রূপসার শ্রীফলতলা ও আইচগাতী ইউনিয়নের রিটার্নিং অফিসার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: এ বি এম জাকির হোসেন অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। খুলনাতে প্রায় প্রতিদিনই কোনো কোনো ইউনিয়নে সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছেন না বলে অভিযোগ বিরোধী দল-মতের প্রার্থীদের। তাই নির্বাচন কমিশনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের এবং থানায় কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ভোট কারচুপির আশঙ্কা বিরোধী দল-মতের প্রার্থীদের। জেলা পুলিশের সূত্র জানায়, ৯ উপজেলার ৫৯৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। সে হিসেবে জেলায় ৭১ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি, উত্তর বেদকাশি, মহেশ্বরীপুর, মহারাজপুর, পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী, কপিলমুনি, গদাইপুর, রূপসা উপজেলার নৈহাটি, টিএস বাহিরদিয়া, আইচগাতী, শ্রীফলতলা, দীঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি, ডুমুরিয়ার উপজেলার রংপুর, ধামালিয়া, গুটুদিয়া, বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা, সুরখালী, আমীরপুর ও ভা-ারকোট। ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ সব কেন্দ্রেই একজন অফিসারের (এসআই) নেতৃত্বে দু’জন সশস্ত্র সিপাহি (কনস্টেবল) ও ১৪ জন আনসার দায়িত্ব পালন করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকছে না। জেলায় র‌্যাব, বিজিবি, ১২৮টি মোবাইল টিম, ৯টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ১০টি নৌ টহল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ২৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২০ মার্চের পর থেকে তৃণমূলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। খুলনার ৯ উপজেলায় ২৯ জন রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন। খুলনা সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, খুলনার প্রত্যেকটি কেন্দ্রে সুন্দরভাবে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচন সামগ্রী পৌঁছে গেছে। জনগণ ও প্রার্থীদের সহযোগিতা থাকলে অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটারদের নির্ভয়ে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোটদানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মো: হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত রয়েছেন। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে পুলিশ জনগণের পাশেই থাকবে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে পুলিশ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হবে।’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন