ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ০৬ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা ঝুঁকির মধ্যে

টিআইবি’র গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১২:০০ এএম

অনিয়মের নিম্ন আদালতে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান : ১৮ দফা সুপারিশ করেছে
নিম্ন আদালতের ওপর আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। বর্তমানে বিচারকদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির বিষয়গুলো আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে, যা কিছু ক্ষেত্রে অধস্তন আদালত ব্যবস্থার কার্যক্রমকে প্রভাবিত করায় বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)‘র গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। আরো আরো বলা হয়েছে, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, বাজেট, জনবল, প্রশিক্ষণ ও কার্যকর জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতার ঘাটতি, মামলা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে ঘুষ লেনদেনসহ নানাবিধ দুর্নীতি ও অনিয়মের ফলে অধস্তন আদালত ব্যবস্থায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। নিম্ন আদালতগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শুদ্ধাচার চর্চা নিশ্চিতকরণে ১৮ দফা সুপারিশ করেছে টিআইবি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে এক সংবাদ অধস্তন আদালত ব্যবস্থা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক গবেষণার পর্যবেক্ষণে এসব কথা বলা হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, সংবিধানে ১০৯, ১১৫ ও ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের উপর হাইকোর্ট বিভাগের তত্ত¡াবধান ও নিয়ন্ত্রণ বিদ্যমান। এই দ্বৈত প্রতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ফলে নিন্ম আদালত সংক্রান্ত কোনো উদ্যোগ বা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি ও টানাপোড়েন রয়েছে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ বা দীর্ঘসূত্রতা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া কর্মচারীদের জন্য পৃথক আচরণবিধি না থাকা, বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অধস্তন আদালতগুলোর অংশগ্রহণের বিধান না থাকাসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হয়েছে। বিচারক ও কর্মচারীদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, কিছু ক্ষেত্রে কর্মচারী নিয়োগে পদ অনুযায়ী দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ না দেয়া, কর্মচারীদের নিয়মিত বদলি না হওয়া, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনার প্রাধান্য গবেষণায় পরিলক্ষিত হয়েছে।
গবেষণার আওতাভুক্ত জেলাসমূহের নিন্ম আদালতগুলোতে পর্যাপ্ত জনবলের অভাব, বদলি, অবসর গ্রহণ, ছুটি ইত্যাদি কারণে কিছু পদ সাময়িকভাবে দীর্ঘদিন শূন্য থাকা, ৬২১টি আদালতে ১১৪ জন বিচারকের সাময়িক ঘাটতি এবং ৫৭৯ জন সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ শূন্য, লিগ্যাল এইড অফিসে পর্যাপ্ত জনবলের ঘাটতি ও অনেক ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড অফিসারের অনুপস্থিতির কারণে সেবা প্রদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। বিচারক ও কর্মচারীদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা। কিছু ক্ষেত্রে কর্মচারী নিয়োগে পদ অনুযায়ী দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ না দেয়া। কর্মচারীদের নিয়মিত বদলি না হওয়া; রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবীদের নিয়োগেরাজনৈতিক বিবেচনার প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়। মামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন ব্যক্তিদের ঘুষ বা নিয়ম বহির্ভূত অর্থ প্রদান করতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলার ধরন, গুরুত্ব, বিবাদী বা আসামীর সংখ্যা, কাজের অত্যাবশ্যকীয়তা, বিচারপ্রার্থীর সামর্থ্য ও এলাকার ওপর নির্ভর করে সর্বনিম্ন ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অনেক প্রতিকূলতা সত্তে¡ও নিম্ন আদালত বিচার ব্যবস্থা মানুষের ন্যায় বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গবেষণাটি চলতি বছরের জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ের মধ্যে পরিচালিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাম্মী লায়লা ইসলাম ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন