রোববার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯, ২৫ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

কিউবা সফর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ করে দিয়েছে : ওবামা

প্রকাশের সময় : ২২ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : তিনদিনের এক ঐতিহাসিক সফরে এক সময়ের প্রবল শত্রুদেশ কিউবা পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত রোববার বিকেলে বৃষ্টির মধ্যে ওবামা ও তার পরিবার কিউবার রাজধানী হাভানার হোসে মার্তি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগুয়েজ তাদের লালগালিচা সংবর্ধনায় স্বাগত জানান। বিমানবন্দর থেকে হাভানার একটি হোটেলে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় দূতাবাসকর্মীদের সঙ্গে মিলিত হন ওবামা ও ফাস্ট লেডি মিশেল ওবামা।
ঐতিহাসিক এই সফরে গতকাল সোমবার কমিউনিস্ট কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে ওবামার বৈঠক করার কথা রয়েছে। দুই নেতা বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে কথা বলবেন বলে জানা গেছে। বহুদিন পর নতুনভাবে কাজ শুরু করা দূতাবাসকর্মীদের উদ্দেশে ওবামা বলেন, কিউবার জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ এটি। তিনি বলেন, ১৯২৮ সালে প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কোলিজ ব্যাটেলশিপে চড়ে এখানে এসেছিলেন। এখানে আসতে তার তিনদিন লেগেছিল। কিন্তু আমার মাত্র তিনঘণ্টা লাগলো। এই প্রথম এয়ার ফোর্স ওয়ান কিউবায় অবতরণ করল এবং আমরাও প্রথমবারের মতো এলাম। তিনি বলেন, এই সফর তাকে এক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ দিয়েছে যা অতীতের চেয়ে উজ্জ্বলতর হবে। দূতাবাসকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার পর ওবামাদম্পতি দুই কন্যা সাশা ও মালিয়াকে নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে ছাতা মাথায় হাভানার পুরনো শহর দেখতে বের হন। ওবামার গাড়িবহর পুরনো শহরের দিকে যাওয়ার সময় হাভানাবাসীরা বারান্দায় ও অন্যান্য সুবিধানজনক জায়গায় দাঁড়িয়ে তা দেখেন। পুরনো শহরে পৌঁছানোর পর প্রবল বৃষ্টির মধ্যে সেখানে উপস্থিত একদল কিউবাবাসী ‘ভিভা ওবামা, ভিভা ফিদেল’ বলে স্লোগান দেন। রাতের খাবার গ্রহণের পর এলাকাটি ছেড়ে যায় ওবামা পরিবার।
উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে কমিউনিস্ট ফিদেল ক্যাস্ট্রোর নেতৃত্বে সংঘটিতে বিপ্লবে কিউবার যুক্তরাষ্ট্রপন্থি সরকারের পতন হলে দুদেশের মধ্যে শত্রুতার সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে প্রতিবেশী দেশ দুটি। এরপর কিউবার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র যা ৫৪ বছর ধরে বলবৎ ছিল।
২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ওবামা ও কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রো বিরোধ অবসানের বিষয়ে একমত হলে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয় এবং টেলিযোগাযোগ ও বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে চুক্তি সই হয়। এরপর ৮৮ বছরের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রেসিডেন্ট কিউবা সফরে গেলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের কিউবা সফর এক সময় একটি অকল্পনীয় ব্যাপার ছিল। সফরে কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিপ্লবের নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে ওবামার দেখা হচ্ছে না। তাদের দুজনের কোনো সাক্ষাৎপর্ব সফর তালিকায় নেই। বিবিসি, রয়টার্স।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps