ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৫ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

কুমিল্লার লাল টমেটোতে রঙিন কারওয়ান বাজার

প্রকাশের সময় : ২৪ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

সাদিক মামুন, কুমিল্লা থেকে : অগ্রহায়ণের মাঝামাঝিতে বীজতলা তৈরি করে টমেটোর চারা উৎপাদনের পর তা ক্ষেতে রোপণ করা হয়। ফাল্গুন ও চৈত্রের শেষ সময় পর্যন্ত তোলা যায় উন্নত ফলনশীল এ টমেটো। ঢাকার পাইকাররা ক্ষেত থেকেই টমেটো দরদাম করে কিনে নিয়ে যান। আবার কৃষকরা নিজেও ক্ষেত থেকে টমেটো তুলে ক্যারেটে ভর্তি করে ট্রাকযোগে রাতেই নিয়ে যান ঢাকায়। পরদিন ভোরের আলোতে কুমিল্লার দেবীদ্বারের লাল টুকটুকে টমেটোতে রাঙিয়ে উঠে কাওরান বাজার।
এবছর কুমিল্লায় এক হাজারের বেশি হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রা অনেক ছাড়িয়ে গেছে। গত দশ বছরে এতো অধিক পরিমাণ টমেটো কুমিল্লায় আর চাষ হয়নি। কুমিল্লার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের নজরদারি ও উপজেলা পর্যায়ে চাষীদেরকে কৃষি কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ, পরামর্শসহ সবধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়াতে এবং আবহাওয়া সময়োপযোগী হওয়ায় এবারে লক্ষ্যমাত্রা অনেক ছাড়িয়ে গেছে। এবারে টমেটোর বাম্পার ফলনে কুমিল্লার টমেটো চাষীদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে। জানুয়ারি থেকে শুরু করে এখনো বাজারগুলো টমেটোতে সয়লাব। তারপর জেলার অনেক উপজেলায় শুরু হবে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের পালা। কুমিল্লা জেলায় সবচেয়ে বেশি টমেটো চাষ হয়ে থাকে চান্দিনা, দাউদকান্দি, হোমনা, দেবীদ্বার, বুড়িচং ও বরুড়া উপজেলায়। চান্দিনা, দাউদকান্দি, হোমনায় উৎপাদিত টমেটো কুমিল্লার বাইরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রামের বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণ করে থাকে। এসব অঞ্চলের টমেটো জানুয়ারি থেকে মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহ পর্যন্ত কুমিল্লার বাইরে বিভিন্ন জেলার বাজারগুলোতে স্থান পেয়ে থাকে। আর দেবীদ্বার অঞ্চলের টমেটো মার্চ থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত মিলবে ঢাকার বাজারে। দেবীদ্বারের বেশক’টি গ্রাম মাটি ও আবহাওয়ার দিক থেকে টমেটো চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
কুমিল্লার দেবীদ্বারের অন্তত ২৫টি গ্রামে টমেটোর চাষ হয়ে থাকে। টমেটো চাষে এক নতুন সম্ভাবনা উঁকি দিয়েছে দেবীদ্বারের টমেটো চাষীদের মাঝে। ঢাকা ছাড়াও স্থানীয় বাজারে দেবীদ্বারের টমেটো বিক্রি হয়ে থাকে। এবারে কেবল ফলনে বাম্পার নয়, দামেও বাম্পার দর পাচ্ছেন টমেটো চাষীরা। সোমবার দেবীদ্বারের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে গেছা গেছে, ক্ষেত থেকে টমেটো তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাঠ থেকে লাল টুকটুকে টমেটোর ঝুড়ি মাথায় নিয়ে রাস্তার পাশের খোলামেলা বড় জায়গায় এনে রাখছেন চাষীরা। তার ২৫ কেজি ওজনের প্লাস্টিকের ক্যারটে ভর্তি করা হয় এসব টমেটো। ওইদিন তুলাগাঁও গ্রামে গিয়ে দেখা মেলে টমেটো চাষী জামাল হোসেনের। নিজের ও ভাতিজা মিজানের ক্ষেতে চলছে টমেটো তোলার পর্ব। জামাল হোসেন জানান, এবারে দেবীদ্বারের বেশিরভাগ গ্রামেই বেশ ভালো ফলন হয়েছে টমেটোর। অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি থেকে শেষ সময় পর্যন্ত চারা লাগানো হয়েছিল। ফাল্গুন থেকেই এখানে টমেটো তোলার কাজ শুরু হয়েছে। টমেটোর পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়ারও ব্যাপক ফলন হয়েছে এখানে। কৃষক জামাল হোসেন আরও জানান, দেবীদ্বারের এসময়ের উৎপাদিত লাল টুকটুকে টমেটো ঢাকার কাওরান বাজারে তারাই নিয়ে যান। রাতে টমেটোবাহী ছোট-বড় ট্রাক নিয়ে রওয়ানা হয়ে ভোরে পৌঁছানো হয়। ভোরের আলোতে লাল টমেটোর হাজারো ক্যারেটে রঙিন হয়ে উঠে কাওরান বাজার। টমেটো চাষীরা জানালেন, এবারে ২৫ কেজির প্রতি ক্যারেট ৫শ’ থেকে ৫২০ টাকা পর্যন্ত বেচাবিক্রি হচ্ছে। বিক্রিতে যে লাভ আসছে তা টমেটো চাষের খরচের দ্বিগুণ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন