ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

পাক-ভারত সীমান্ত-পরিস্থিতি বারুদের স্তূপে দাঁড়িয়ে আছে

পাল্টা জবাব দেয়া হবে : জেনারেল বাজওয়া

ইনকিলাব ডেস্ক: | প্রকাশের সময় : ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তান ও-ভারতের মধ্যে পুনরায় গুলি বিনিময়ের পর উত্ত্জেনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা পাক-ভারত সীমান্তের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্ত‚পের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। এ অবস্থায় ভারতকে পাল্টা জবাব দেয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। এদিকে ভারত ও পাকিস্তানকে সংযম প্রদর্শন করার আহবান জানিয়ে কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী নেতা সৈয়দ আলি গিলানি বলেছেন, দুই পারমাণবিক শক্তির মধ্যে যুদ্ধ বিশে^র জন্য বিধ্বংসী হতে পারে। সীমান্তে প্রচন্ড গোলাবর্ষণের প্রেক্ষিতে ভারত একটি সীমান্ত শহরের ৩৬ হাজার অধিবাসীকে সরিয়ে নিয়েছে। খবর এপি ও জিও নিউজ।
জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে একদিন গুলি বিনিময় বন্ধ থাকার পর রবিবার রাতে আবার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রচন্ড গোলাগুলি শুরু হয়। সোমবার সকাল পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে একজন বেসামরিক লোক নিহত ও ৩ জন আহত হয় বলে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান। সোমবার দিনের শেষদিকে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, পাক-ভারত সীমান্তের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্ত‚পের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। এদিকে গত কয়েকদিন ধরে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করার প্রেক্ষিতে সোমবার ভারতকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। তিনি বলেন, লাগাতার সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য ভারতই দায়ী। তাই পাকিস্তান ভারতকে এর পাল্টা জবাব দেবে। এদিন পাকিস্তান সীমান্তে অবস্থিত খুইরাত্তা এবং রাত্তা আরিয়ান সেক্টর পরিদর্শন করেন বাজওয়া। সেখানে কমান্ডারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ কালে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তাকে সীমান্তে ভারতীয় হামলা ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। জেনারেল বাজওয়া পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রশংসা করেন। তিনি বেসামরিক লোকদের রক্ষায় বাংকার নির্মাণের জন্য সৈন্যদের নির্দেশ দেন।
এদিকে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী নেতারা ভারত ও পাকিস্তানকে সংযম ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়ার আহবান জানিয়েছেন। শীর্ষস্থানীয় কাশ্মীরী নেতা সৈয়দ আলি গিলানি বলেন, উভয় দেশেরই কাশ্মীর সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে ইতিবাচক ভ‚মিকা পালন করা উচিৎ। দু’পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুধু এ অঞ্চলই নয়, বিশে^র জন্যও ধ্বংসকর হবে।
সীমান্তে সম্প্রতি সংঘর্ষ বৃদ্ধি পাওয়ায় দু’পক্ষে ১৩ জন বেসামরিক লোক নিহত ও ৯ জন সৈন্য আহত হয়েছে। সংঘর্ষের কারণে দু’দিকেই ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দু’পক্ষই সীমান্ত এলাকা থেকে নিজ নিজ অধিবাসীদের সরিয়ে নিচ্ছে। দু’ পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা সোমবার কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশে সংঘর্ষের কথা নিশ্চিত করেন। তারা বলেন, পাকিস্তানি সৈন্যরা ভারতীয় হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে।
কর্মকর্তারা বলেন, সর্বশেষ সহিংসতার কারণে সীমান্তে অধিবাসীদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি হয়েছে। তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। সরকারী ভবনগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র করা হয়েছে। লোকজন সেগুলোতে বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে।
এদিকে ভারত পাকিস্তানের প্রচন্ড গোলাবর্ষণের মুখে সীমান্ত থেকে ৩৬ হাজার লোককে অপসারণ করেছে। মহকুমা পুলিশ অফিসার সুরিন্দার চৌধুরী জানান, আরনিয়া শহরের লোকদের নিরাপত্তার জন্য তাদের অপসারণ করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলো থেকেও লোকজনকে সরানো হয়েছে। জম্মুর জেলা প্রশাসক কুমার রাজীব রঞ্জন বলেন, আর্নিয়া ও সুচেতগড়ের সব লোককে আরো ভিতরের এলাকায় স্থানান্র করা হয়েছে। আশা রাণী নামের এক বয়স্কা মহিলা বলেন, ১৯৬৫ ও ১৯৭১-এর পর সীমান্তে আর এত প্রচন্ড গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন