রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯, ০৩ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

পুলিশের লাঠিচার্জ, গরম পানি, টিয়ারশেলে

প্রকাশের সময় : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম | আপডেট : ৯:২৩ এএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

পন্ড বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন গ্রেফতার দেড় শতাধিক : আহত ২৩০
স্টাফ রিপোর্টার : সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার প্রতিবাদে কালো পতাকা প্রদর্শনও করতে পারেনি বিএনপি। পুলিশের লাঠিচার্জ, গরম পানি নিক্ষেপ, গ্রেফতারে পন্ড হয়ে গেছে দলটির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। গতকাল (শনিবার) সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচি পালনে জড়ো হওয়া নেতা-কর্মীদের লাঠিপেটা এবং জল কামান থেকে পানি ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।
আটক করা হয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বেশ কয়েকজন নেতাকে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ২২ ফেব্রæয়ারি রাজধানীতে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছিল দলটি। তবে পুলিশ খোলা জায়গায় সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। বরং ঘরের ভেতরে সভা করতে বলে।
সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার প্রতিবাদে গতকাল কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। ঘোষিত কর্মসূচি পালনের জন্য গতকাল সকাল ৯টার পর থেকেই বিএনপি নেতা-কর্মীরা নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হচ্ছিলেন। অন্যদিকে কার্যালয়টি ঘিরে পুলিশও জলকামান ও সাঁজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সাবেক এমপি নীলোফার চৌধুরী মনি ছিলেন সেখানে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সহ¯্রাধিক কর্মী কার্যালয়ের সামনে সড়কে কালো পতাকা নিয়ে বসে পড়েন। খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে ¯েøাগান শুরু করেন তারা। সঙ্গে সঙ্গে লাঠিপেটা শুরু করে পুলিশ; জলকামান থেকে রঙিন পানিও ছুড়তে থাকে। পুলিশের হামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, লাঠিপেটায় ফজলুল হক মিলন ও মনি আহত হন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। এসময় ১১ জনকে আটক করে পুলিশের ভ্যানে তুলতে দেখা যায়। গরম রঙিন পানিতে আক্রান্ত বিএনপি মহাসচিবসহ অন্য নেতারা কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নেন। ভেতর থেকে ফটক আটকে ¯েøাগান দিতে থাকেন কর্মীরা। কার্যালয়ের বাইরে যে প্যান্ডেল করা হয়েছিল, তা পুলিশ ভেঙে দেয়। কালো পতাকাগুলো ছড়িয়ে পড়ে থাকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে। ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন গলিতে আশ্রয় নেওয়া বিএনপির কর্মীদের আটকে অভিযান চালাতে থাকে পুলিশ। সকাল ১১টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান কার্যালয়ে ঢোকার সময় আরেক দফা আক্রমণ চালায় পুলিশ। লাঠিপেটার পাশাপাশি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ও কেন্দ্রীয় নেতা হালিমা নেওয়াজ আরলিকে আটক করা হয়। পুলিশি হামলার নিন্দা এবং গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়ে হামলার দুপুর ১২টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে সংবাদ সম্মেলন করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, তাদের ‘সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি’তে পুলিশ বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়ে অনেককে আহত এবং অসংখ্য জনকে গ্রেফতার করেছে।
বিএনপির অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় ঘটনাস্থলে থাকা ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ কমিশনার এ এস এম শিবলী নোমান সাংবাদিকদের বলেন, সড়ক দখল করে যান চলাচলে বিঘœ ঘটানো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হতে পারে না। তাই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। সংবাদ সম্মেলন শেষে নিচে নামার পর কার্যালয়ের সামনে থেকে আলালকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর বেলা দেড়টার দিকে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আহত নারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। এর পরপরই মির্জা ফখরুল, মির্জা আব্বাস, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবদিন ফারুক, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস কার্যালয়ের ভেতরে থাকা নেতা-কর্মীদের নিয়ে বেরিয়ে যান। বিকালে রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে দেড় শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আহত হয়েছেন অন্তত ২৩০ জন।পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সোমবার ঢাকায় থানায় থানায় এবং সব মহানগর ও জেলা সদরে প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, কালো পতাকা মিছিলে গতকাল গ্রেফতার হয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সহ-স¤পাদক ডাঃ রফিকুল কবির লাবু, ত্রাণ বিষয়ক সহ-সম্পাদক নেওয়াজ হালিমা আরলি, বিএনপি নেতা শামিমা সুলতানা সিলা, আবদুর রহিম হাওলাদার সেতু, লিটন মিয়া, ইফতেখার আলম, মোঃ ইসলাম, মোঃ ওবায়দুল, মহিলা দলের বেবী, মনিরা, হেনা, ফেরদৌসী, মনিকা, মায়া, নাসিমা, নাসরিন, ডাঃ নাসিমা তালুকদার, খোরশেদা, শারমিন, শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নাসির মোল্লা, ইমতিয়াজ হোসেন বাবু, সেলিম হাওলাদার, সোহান, সাব্বিরকে দেড় শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া আহত হয়েছেন ২৩০ জন। এদের মধ্যে বিএনপি নেতা জয়নুল আবদীন ফারুক, আতাউর রহমান ঢালী, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, আবদুস সালাম আজাদ, নিলুফা চৌধুরী মনি, আমিনুল ইসলাম, নিপুন রায় চৌধুরী, সাবেরা আলাউদ্দিন, শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, গাজী রেজওয়ান হোসেন রিয়াজ, সাইদুল ইসলাম সাইদুর, আজিজুর রহমান মোসাব্বির, জাকির হোসেন মিজান, মান্নান হোসেন, ডালিম শিকদার, তোফাজ্জেল হোসেন লিটন, রাসেল মাহমুদ, শফিকুল ইসলাম বাদল, মহিউদ্দিন লোবান, আবুল কালাম আজাদ, গাজী মোঃ মহিউদ্দিনসহ বহুসংখ্যক নেতৃবৃন্দ। মহিলা দলের ইয়াসমিন আরা হক, মিনা বেগম (মিনি), আরিফা জেসমিন, রুনা লায়লা, জেসমিন জাহান, সোনিয়া, জাসাস নেত্রী শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা, শাহিনুর প্রমূখ। ছাত্রদলের মনিরা আকতার রিক্তা, নুরুল হুদা বাবু, মফিজুর রহমান আশিক, নাছিমা আক্তার কেয়া, নাসির উদ্দিন শাওন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শাহিনুর সাগর, শাহিনুর আকতার স্মৃতি, জাবেদ হোসেন, সোহেল খান, জাবি আবদুর রহিম সৈকত, খালিদ হাসান জাকির, মাহবুবুর রহমান পলাশ, ওমর ফারুক ডালিম, হাবিবুল বাশার, সোনিয়া, ইব্রাহিম বিপ্লব, মোঃ ওয়ালিউদ্দিন, আমানউল্লাহ, বি এম অপু, সালাউদ্দিন আহমেদ, শরীফ মাইনউদ্দিন, হিমেল, রশিদ, শাহ জামান, সজিব, ফরহাদ ভ‚ঁইয়া, মোর্শেদ আলম, রফিকুল ইসলাম রফিক, শফিকুল ইসলাম ইমন, মোঃ ইউনুছ রহমান (রিমন), আমির হোসেন বাদশা, শাহজাহান সরকার, আবদুল কাদের, যুবদলের নজরুল ইসলাম, ওমর নবী বাবু, সাইদুজ্জামান মাসুদ, মোঃ মিজানুর রহমান পাটোয়ারী, আবদুর রহিমসহ অসংখ্য নেতাকর্মী।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (4)
আরজু ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১:৪৬ এএম says : 0
এটা খুব বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে
Total Reply(0)
ইয়াকুব ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১:৪৬ এএম says : 0
রশি বেশি টাইট দিলে ছিড়ে যেতে পারে।
Total Reply(0)
উবায়েদ ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১:৪৭ এএম says : 0
দেশটা এখন মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে
Total Reply(0)
গনতন্ত্র ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৫:৩৬ এএম says : 0
জ্ঞানী-গুনিজন বলে, উঁই পোকার পাখা গজায়, মরিবার কালে;চৈত্র মাসে ... বারে, ডুবে মরতে জলে।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps