ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

সবজি চাষে সফলতা পাচ্ছেন শ্যামনগরের নারীরা

স্মার্টফোনে তথ্য সংগ্রহ

| প্রকাশের সময় : ২ মার্চ, ২০১৮, ১২:০০ এএম

সাতক্ষীরা থেকে আবদুল ওয়াজেদ কচি
স্মাট ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে গুগলের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে সবজি চাষে সফলতা পাচ্ছেন সাতক্ষীরা শ্যামনগরের এলাকার নারীরা। নোনা এলাকায় বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত সবিজ চাষ করে পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আয় করছে বাড়তি অর্থ। কম খরচে বাড়ির পাশের পতিত জমিতে চাষ করে লাভবান হওয়া দিনে দিনে আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ পদ্ধতি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অর্থনীতিতে আরো অবদান রাখতে পারেন এ অঞ্চলের নারীরা।
এলাকাবাসী জানায়, ২০০৯ সালের প্রলয়ঙ্করি আইলার প্রবল জলোচ্ছাস উপক‚লীয় জেলা শ্যামনগরে নোনা পানির জন্য চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়ে। হতাশার কাল মেঘ ভর করে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে। পরবর্তিতে অস্ট্রেলিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে, অক্সফ্যামের সহযোগিতায় সুশীলন রি-কল প্রকল্প নারীদের নিয়ে কাজ শুরু করে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে শ্যামনগর উপজেলার বড়কুপট গ্রামে একশত জন নারী কৃষাণীকে স্মাট ফোন বিতরণ, ফোন ব্যবহারের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান, ফেসবুক আইডি খুলে দেয়া, মোবাইলে মেগাবাইট সরবারহ করা, ফোনের মাধ্যমে উপজেলা কৃষি অফিস, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার ও প্রতীক কল সেন্টার, প্রতীক এসএমএস ও প্রতীক ভয়েস এসএমএসের মাধ্যমে কৃষি তথ্য সংগ্রহ করে সবজি চাষ করা বিষয়ে ব্যবহার করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এ অঞ্চলের নারীরা।
তারা আরো জানায়, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের বড়কুপট গ্রামের লবণাক্ততার কারণে এক সময় শাক-সবজি চাষ করতে পারত না চাষিরা। চাষ করতে না পারায় পতিত থাকত বেশির ভাগ জমি। বর্তমানে এসব এলাকায় স্মাট ফোনে তথ্য প্রাপ্তি জন্য কমিউনিটি ভিত্তিক নারীদের কৃষি সার্ভিস সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। তারা টাওয়ার বা থ্রি-ডি পদ্ধতি, বস্তাপদ্ধতি (বস্তার মধ্যে মাটি ও জৈবসার মিশিয়ে বস্তায় ভরে বস্তার ভেতরে সবজি চাষ), ১.৫ ফুট মাটির নিচে পলিথিন বিছিয়ে জৈবসার প্রয়োগের মাধ্যমে সবজি চাষ, লবণ পানির এলাকায় মাটিতে গর্ত করে পলিথিন ও ত্রিপাল বিছিয়ে মিষ্টি পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে সবজি চাষ, বাগদা রেনু বহনকারী কর্কসিটে জৈব সার ও মাটি ভরাট করে সবজি চাষ শুরু করে সফলতা পাচ্ছে। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারীরা বাড়ির পাশে পতিত জমিতে ওলকপি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বীটকপি, টমেটো, বেগুন, মিষ্টিকুমড়া, লালশাক, পালংশাক, মুলা, গাজর, পুঁইশাক, কচুরমুখী, লাউ, চালকুমড়া, গোলআলু, ঝিঙ্গা, ডাটাশাক, শিম, বরবটি, ঢেঁড়স, তরুল, পেঁয়াজ, রসুন, ওল, কচু, চিচিঙ্গা ও মরিচসহ বিভিন্ন সবজি উৎপাদন করছে।
এসব সবজিতে আলুর ধ্বসা রোগ, বেগুনের ডগা ছিদ্র কারী পোকার আক্রমন, টমেটোর নাভি ধ্বসা রোগ, শিম, মরিচ, বরবটি গাছের জাব পোকার আক্রমন, লালশাক, পালংশাক, মরিচ গাছ, টমেটো গাছের ছত্রাকে আক্রমণ বা মাজা পচা রোগের আক্রমনসহ সবজির বিভিন্ন প্রকার রোগ দেখা দিলে প্রতিকারের জন্য স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে গুগোল এ্যাপস বা প্রতীক কল সেন্টার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা প্রয়োগ করে লবণাক্ত এলাকাতে আগের তুলনায় চার-পাঁচগুণ পর্যন্ত ফলন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে।
বর্তমানে এ অঞ্চলের নারীরা সংসারের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি বাড়ির কাছের পতিত জমিতে সবিজ চাষ করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রয় করে বাড়তি অর্থ আয় করছেন। সুশীলনের প্রোগ্রাম অফিসার তাপস কুমার মিত্র বলেন, আইলার পরে এ অঞ্চলে নোনা হওয়া যখন সফল ফলাতে না পেওে কৃষকার হতাশ হয়ে পড়ে তখন থেকে তারা কৃষি উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে এ অঞ্চলেন প্রযুক্তি ব্যবহারে ফলে কৃষির ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে। তারা নিজেদেও পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করেও বাড়তি টাকা আয় করতে সক্ষম হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, এ অঞ্চলের কৃষক-কৃষাণীরা স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে শাক-সবজি চাষ করছে। এর মাধ্যেমে সহজেই তারা প্রযুক্তিগুলো পাচ্ছে এবং সেগুলো মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কয়েকটি জনপ্রিয় অ্যাপস রয়েছে- সেগুলো কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ কওে যাচ্ছি। মাঠ পর্যায়েও এই অ্যাপসগুলোর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সাতক্ষীরা কৃষকরা এই অ্যাপস ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন