ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ০১ আষাঢ় ১৪২৮, ০৩ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

গর্ভপাত করালে নারীদের শাস্তি দেয়া উচিত মন্তব্যের পর ট্রাম্পের অস্বীকৃতি

দলের অন্য কারো প্রতি আর আনুগত্য দেখাবেন না ট্রাম্প

প্রকাশের সময় : ১ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যকার লড়াই আর ভোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আগে থেকেই শুরু হওয়া কথার লড়াই এখন চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে দলীয় অঙ্গীকার ভঙ্গের মাধ্যমে। নিজ দলের সমালোচনা করে রিপাবলিকান দলের পক্ষে এগিয়ে থাকা ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দলের পক্ষ থেকে তার প্রতি খুব অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। তিনি অঙ্গীকার করে বলেছেন, নিজেকে ছাড়া দলের নির্বাচিত কোনো প্রার্থীর প্রতি তিনি আনুগত্য প্রদর্শন করবেন না। অন্তরে দ্বিমত থাকলেও এ ব্যাপারে মুখে অবশ্য স্পষ্ট করে কিছু বলেননি অন্য দুই প্রার্থী ট্রেড ক্রুজ ও জন ক্যাসিচ।
গত নভেম্বরেই প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর আগে দল নির্বাচিত প্রার্থীকে সমর্থন করার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিলেন সব রিপাবলিকান প্রার্থী। ট্রাম্প ও ক্রুজের মধ্যকার পরস্পর আক্রমণাত্মক কথা ছোড়াছুড়ির এটি সর্বশেষ ঘটনা। পরস্পরের স্ত্রীদের নিয়ে আগেই বিতর্কে জড়িয়েছিলেন দুজন। ক্রুজকে সমর্থন করা একটি গোষ্ঠী ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানির একটি নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশ করে। পাঁচ বছর পুরোনো এ বিতর্কের সূত্রপাত এখান থেকেই। পাল্টা উত্তর হিসেবে ক্রুজের স্ত্রী হেইডির একটি অশোভন ছবি টুইট করেন ট্রাম্প। এ বিতর্ক নিয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সোজাসাপ্টা উত্তর দেন, ক্রুজ এটি শুরু করেছে। পাশাপাশি প্রার্থী নির্বাচনে তার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। নভেম্বরে করা দলীয় অঙ্গীকার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আমি আর এ অঙ্গীকার বজায় রাখব না। একই প্রশ্নের উত্তরে ক্রুজের মন্তব্য, যে আমার স্ত্রী ও পরিবারের ওপর আক্রমণ করতে পারে তাকে সমর্থন করার অভ্যাস আমার নেই। ক্রুজ বলেন, ডোনাল্ড কখনোই গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টির (রিপাবলিকান পার্টির অন্য নাম) মনোনয়ন পাবে না, আমরা তাকে হারাবোই। দলীয় প্রার্থীদের সমর্থন প্রয়োজন নেই জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের ব্যাপক সমর্থন আমার পক্ষে আছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতাসহ অনেক ইস্যুতে দলীয় পর্যবেক্ষক ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কাছে বর্তমানে ব্যাপক সমালোচিত এ রিয়েল এস্টেট মোগল।
অপর দিকে গর্ভপাত করালে নারীদের শাস্তি দেয়া উচিত, এমন মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ট্রাম্পের এ মন্তব্যের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে কয়েক ঘণ্টা পরেই নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসেন ট্রাম্প। তার বদলে এখন ট্রাম্প বলছেন, গর্ভপাত করাতে সাহায্য করেন যেসব চিকিৎসক তাদের শাস্তি দেয়া উচিত। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে প্রশ্নোত্তরের এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেন, গর্ভপাতের জন্য শাস্তি দেয়ার বিষয়টি কি আপনি বিশ্বাস করেন? জবাবে ট্রাম্প বলেন, এজন্য অবশ্যই নারীদের শাস্তি দেয়া উচিত। ট্রাম্পের ঐ মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান দলের আরেক গভর্নর জন কেইসেক। তিনি বলেছেন, ধর্ষণ, পরিবারের সদস্যদের দ্বারা নিপীড়নের শিকার, বা অন্য কোনো অপরাধে নারী-পুরুষ যে কারো শাস্তি হতে পারে। কিন্তু গর্ভপাতের জন্য কোনো নারীকে শাস্তি দেবার কথা ভাবাও যায়না। ১৯৭৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত বৈধ। তবে, ট্রাম্প যখন ডেমোক্রেট দলে ছিলেন তখন নারীদের গর্ভপাতের অধিকারের পক্ষে ছিলেন। প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়নের জন্য প্রচারনার শুরু থেকেই বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য খ্যাতি পান ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবরে বলা হয়, গত বুধবার টাউন হলে অনুষ্ঠান চলার সময় গর্ভপাত সংক্রান্ত নিজের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে সুপ্রিম কোর্টে রুল জারির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত বৈধ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। ১৯৯৯ সালে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন তিনি ক্ষমতায় গেলে কখনও গর্ভপাত নিষিদ্ধ করবেন না। তিনি সবার পছন্দকে সম্মান দেওয়ার পক্ষপাতী বলেও সে সময় দাবি করেন ট্রাম্প। তবে আগে যে অবস্থানই থাকুক না কেন এখন ব্যতিক্রমী কোনও ঘটনা ছাড়া সাধারণত গর্ভপাতের ওপর নিষেধাজ্ঞার পক্ষপাতী ট্রাম্প। বুধবারের অনুষ্ঠানে ম্যাথিউস ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, আপনি কি গর্ভপাতের জন্য সাজাপ্রদানে বিশ্বাস করেন? হ্যাঁ অথবা না- কোন নীতিতে বিশ্বাসী? জবাবে ট্রাম্প বলেন, এক্ষেত্রে কিছু সাজার ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। ম্যাথিউস আবার জিজ্ঞেস করেন, নারীদের জন্য? ট্রাম্প বলেন, হ্যাঁ কয়েক ধরনের সাজার ব্যবস্থা থাকতে পারে। কেমন ধরনের সাজা? দশ সেন্ট জরিমানা নাকি দশ বছরের কারাদ-, কেমন ধরন সেটি? জানতে চান ম্যাথিউস। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, আমি সেটা জানি না। বিবিসি, গার্ডিয়ান।             

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন