ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

অভ্যন্তরীণ

বোরোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা গৌরীপুরে লোডশেডিংয়ে জনজীবনে

প্রকাশের সময় : ৫ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) উপজেলা সংবাদদাতা

গৌরীপুরে পিডিবির বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে পরীক্ষার্থী, কৃষক ও গ্রাহকরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার কারণে অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অচলাবস্তার সৃষ্টি হয়েছে। বিগত কয়েকমাস যাবত দিনের বেশিরভাগ সময় চলে লোডশেডিং এবং সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাতেও চলে লোডশেডিং। একটু বাতাস ও আকাশ মেঘলা হলেই চলে যায় বিদ্যুৎ। বর্তমানে লোডশেডিংয়ের কারণে গত ৩১ মার্চ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট গণনা ও নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার কাজে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হয়। নির্বাচনের রাতে সংবাদ কর্মী এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রার্থীরা তাদের ফলাফল জানতে এসে বিপাকে পড়েন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা একেএম মোসা জানিয়েছেন, বিদ্যুতের কারণে তাদের কাজ কর্মে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। মোমবাতি ও জেনারেটর চালিয়ে নির্বাচনী কাজ করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণের এ সমস্যার দরুণ উপজেলার সরকারি অফিস আদালতসহ ব্যাংকের কাজকর্ম করতে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। গৌরীপুরে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্পিনিং মিলসহ ছোট-বড় রাইসমিল ও ক্ষুদ্র শিল্প কারখানা। ফটোকপি ও কম্পিউটার কম্পোজ ব্যবসায়ীরাও পড়ছেন বিপাকে। চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদেরও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। নতুন বিদ্যুৎ লাইন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের অজুহাতে শুক্রবার ও প্রায় প্রতিদিন সারাদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। গৌরীপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. সাদেকুর রহমান জানান, উপজেলায় এবার বোরো মৌসুমে ২০ হাজার ৯শ’ ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮১ হাজার ৫শ’ ৬৪ মে. টন। বিদ্যুতের আওতায় ৩১টি গভীর নলকূপের অধীনে ৩শ’ ১ ও ২ হাজার ৭০০টি অগভীর নলকূপের অধীনে ৬ হাজার ৭শ’ হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। এভাবে বিদ্যুতের লাগাতার লোডশেডিং চলতে থাকলে কৃষি জমিতে সেচ কাজ বিঘিœত হওয়ায় কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে যাবে। বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নতি হলেও গৌরীপুর বিদ্যুতের উন্নতি হয়নি। যদিও গৌরীপুরে শম্ভুগঞ্জ গ্রিড থেকে ৩৩ কেভি নতুন লাইনের কাজ শেষ হয়েছে এবং গৌরীপুরে অভ্যন্তরীণ নতুন লাইনের কাজও প্রায় শেষের পথে কিন্তু তারপরও বিদ্যুতের নাজুক অবস্থা। এ বিষয়ে গৌরীপুর বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী কাজল কুমার কেওয়াটখালীর জাতীয় গ্রিডের বিভিন্ন সমস্যার দোহাই দিয়ে জানিয়েছেন বর্তমানে বৃষ্টির কারণে গাছপালা ভেঙে যায় এবং ওখান থেকে বিদ্যুৎ বিতরণ বন্ধ করে দেয়। নতুন বিদ্যুৎ লাইন হওয়ার পরও ঘন ঘন লোডশেডিং কেন জানতে চাইলে বলেন এখনও পুরোপুরি কাজ শেষ হয়নি। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অভিযোগ গৌরীপুরে বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীরা নতুন সংয়োগসহ অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কারণে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেই সাথে সময় মতো বিদ্যুৎ না পেয়েও মাসে মাসে ভূতুরে বিল গুণতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন