ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

খেলাধুলা

‘ক্ষমা না চাইলে আইনের আশ্রয় নেবো’

প্রকাশের সময় : ১০ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্পোর্টস রিপোর্টার : স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক ও দেশবরেণ্য সাবেক তারকা ফুটবলার জাকারিয়া পিন্টু বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ক্ষমা না চাইলে আমি আইনের আশ্রয় নেবো।’ পিন্টুর বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে সালাউদ্দিন বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য দেন তা খÐন করতেই মিডিয়ার মুখোমুখী হন সাবেক এই ফুটবলার। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংগঠন সেভ দ্য স্পোর্টসের আয়োজনে গতকাল ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সেভ দ্য স্পোর্টসের চেয়ারম্যান জাকারিয়া পিন্টু বলেন,‘আমি বাফুফের গত নির্বাচনের আগে সালাউদ্দিনের কাছ থেকে কোন টাকা নেইনি। বাফুফে সভাপতি মিথ্যে বলছেন। তিনি আমার সম্মান নিয়ে খেলছেন।’ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কো-চেয়ারম্যান খায়রুল কবির খোকন, মহাসচিব দিলদার হাসান দিলু, মোহামেডান হকি কমিটির সদস্য আরিফুল হক প্রিন্স ও জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই মইন উদ্দিন আহমেদ মইন উপস্থিত ছিলেন।
পিন্টু আরো বলেন, ‘আমি মুসলমান। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। কোরআন শরীফ পড়ি। ক্যারিয়ারে রোজা রেখে খেলেছি অনেক ম্যাচ। আমি আল্লাহ’র কসম খেয়ে বলছি বাফুফের গত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে সালাউদ্দিনের কাছ থেকে কোন টাকা নেইনি।’ এই জীবনে আমি সালাউদ্দিনের দু’টি উপকার করেছি। এক তাকে জেল থেকে ছাড়িয়েছি। আর অন্যটি হলো নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলাম। ১৯৮২ সালে সালাউদ্দিনরা যখন জেলে গিয়েছিল, তখন তাদের ছাড়াতে জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের কাছে গিয়েছিলাম। সালাউদ্দিনের জন্য যা করেছি তার প্রতিদান সে দিলে আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে। আমি সালাউদ্দিনের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, তুমি খেলোয়াড়দের শ্রদ্ধা করো, স্নেহ করো, তাহলে তুমিও শ্রদ্ধা পাবে। সতীর্থদের সম্মান করো, নিজেও সম্মান পাবে। খেলোয়াড় হিসেবে তুমি সন্দেহাতীতভাবে ভালো। কিন্তু সংগঠক হিসেবে কোনভাবেই সফল নও।’
পিন্টু আরো বলেন, ‘ফিফার নির্দেশনা রয়েছে, ৭২ বছরের বেশী বয়সী কেউ নির্বাচন করতে পারবেন না। ২০১২ সালে আমার বয়স ছিলন ৭৩ বছর। আমি পরিবারের চাপে মনোয়নপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। অথচ আজ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক হিসেবে ৭৭ বছর বয়সে আমাকে মিথ্যা অপবাদ শুনতে হলো। সালাহউদ্দিনকে এই মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করার আল্টিমেটাম দিচ্ছি। আমি টাকা নিয়েছি এটি প্রমাণ করতে না পারলে তাকে ক্ষমা চাইতে হবে।’ পিন্টু বলেন, ‘সালাউদ্দিন টিপু, মঞ্জুদের চেয়ে বড় ফুটবলার নয়। মঞ্জু বিদেশে ট্যাক্সি চালিয়েছে, বাফুফের টাকা তো চুরি করেনি। সালাউদ্দিনকে সবাই দূর্নীতিবাজ বলে। কই আমাকে তো বলে না।’
জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই সাবেক ফুটবলার মইন উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি ও সালাউদ্দিন এক সঙ্গে ফুটবল খেলেছিলাম। আমার সঙ্গে তার বন্ধুসূলভ ঘণিষ্টতা রয়েছে। বাফুফের বিগত নির্বাচনে পিন্টু ভাই নির্বাচন করবেন শুনে আমি রাগ করেছিলাম। পিন্টু ভাই অসুস্থ ছিলেন। নির্বাচনী চাপ তিনি নিতে পারবেন না তাই, পরিবারের কেউ আমরা চাইনি তিনি নির্বাচন করুক। আমাদের কারণেই বড় ভাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। অন্য কারো চাপ কিংবা প্রলোভনে নয়। একদিন সালাউদ্দিন তার রুমে আমাকে ডেকে নিয়ে যায়। সে বললো, মইন অনেক দৌঁড়াদৌড়ি করেছ, অনেক টাকা খরচ হয়েছে। ২৫ হাজার টাকা রাখো। আমি টাকা নিতে রাজি হইনি। কিন্তু সালাউদ্দিন জোর করে আমার পকেটে টাকা গুজে দেয়। এরপর অন্য খরচের কথা বলে আরেক জনের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলো সালাউদ্দিন। এর বাইর কোন টাকা আমি কিংবা বড় ভাই নেননি। এটা আমি হলফ করে বলতে পারি।’ সেভ দ্য স্পোর্টসের কো-চেয়ারম্যান খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘ক্রীড়াঙ্গণেও দলীয়করন চলছে। মহাসচিব দিলদার হাসান দিলুর কথা, ‘আমাদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সালাউদ্দিন যেসব কথা বলেছেন, সে জন্য আমরা এর নিন্দা জানাই। আসুন এসব কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি না করে সবাই সবাইকে সম্মান করি। শ্রদ্ধা করতে শিখি।’

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন