‍বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯ ফাল্গুন ১৪৩০, ১১ শাবান সানি ১৪৪৫ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কালাইয়ের কৃষক

বিএমডিএর গাফিলতিতে সেচ ব্যাহত

প্রকাশের সময় : ১৮ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মুহাম্মদ আবু মুসা, জয়পুরহাট থেকে
জয়পুরহাটের কালাইয়ে ‘বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (বিএমডিএ)-এর পার্টিসিপেশন গভীর নলকূপ চালু না করায় চলতি মৌসুমে ৩শ’ বিঘা জমির ইরি-বোরো সেচ কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সেচ অভাবে অনেক জমি অনাবাদি আছে। পার্শ্ববর্তী পুকুর ও জলাশয় থেকে সেচ দিয়ে চারা রোপণ করলেও বর্তমানে ওই জলাশয়গুলো পানিশূন্য হওয়ায় ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিতায় আছেন কৃষকরা। তাদের দাবী, বিএমডিএর গাফিলতির জন্যেই তারা এ দুর্ভোগের মুখে পরেছে। তবে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবী, পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের অসহযোগিতাই এ সমস্যার জন্য দায়ী। তারা সহযোগিতা করলে ১৫ দিনের মধ্যে ওই গভীর নলকূপ চালু করা সম্ভব। উপজেলার বুড়ইল চাকলমুয়া মৌজায় ১৯৭২-৭৩ অর্থ বছরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) ভাড়াভিত্তিক গভীর নলকূপ স্থাপন করে। বিএডিসির স্থাপিত গভীর নলকূপ দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের জমিতে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে। গত মৌসুমে বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ কৃষকদের ভুল তথ্য দিয়ে বিএডিসির গভীর নলকূপ উত্তোলন করার শর্তে বিএমডিএ আধুনিক প্রযুক্তির সাব-মারসিবল পাম্প সম্বলিত পাটির্সিপেশন গভীর নলকূপ স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করা হয়। কৃষকরা চলতি মৌসুম শুরুর আগেই বিএমডিএর কালাই জোনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে পার্টিসিপেশন ফি বাবদ এক লাখ টাকা জমা দিয়ে বিএডিসির গভীর নলকূপ উত্তোলন করে এবং একই স্থানে বিএমডিএর পাটির্সিপেশন গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে মৌসুমের প্রায় দু’মাস অতিবাহিত হলেও ওই গভীর নলকূপটি চালু হয়নি। এতে প্রায় ৩শ’ বিঘা জমির ইরি-বোরো সেচ কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ ব্যাপরে বুড়ইল চাকলমুয়া মৌজার বিএমডিএর গভীর নলকূপের অপারেটর আলহাজ শাহজাহান আলী জানান, বিএমডিএ কর্তৃপক্ষের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে বিএডিসির গভীর নলকূপ উত্তোলনের পর ওই স্থানে বিএমডিএর গভীর নলকূপ খনন এবং ঘর দরজা, আন্ডার গ্রাউন্ড পাইপলাইন নির্মাণ করা হলেও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে আজও গভীর নলকূপটি চালু করা হয়নি। পার্শ্ববর্তী জলাশয় থেকে সেচ দিয়ে ধান লাগালেও ওই জলাশয়গুলো পানিশূন্য হওয়ায় এখন সেচ সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে বিএমডিএ কালাই জোনের ম্যাকানিক আব্দুর রাজ্জাক সেচ সঙ্কটের কথা স্বীকার করে বলেন, বিএমডিএ গভীর নলকূপ স্থাপনের সব প্রক্রিয়া শেষ করেছে। এ পরিস্থিতির জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিই দায়ী। তারা সহযোগিতা করলে ১৫ দিনের মধ্যেই ওই গভীর নলকূপ চালু করা সম্ভব। বিএমডিএ কালাই জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গভীর নলকূপ চালু করা এতো সহজ কাজ নয়। চালুর আগে অনেক ব্যাপার আছে। তাছাড়া, পল্লী বিদ্যুতেরও কিছু কাজ আছে। ওই গভীর নলকূপটি চালু হবে, তবে আরও সময় লাগবে। এ ব্যাপারে জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহ-মহাব্যবস্থাপক (এজিএম-এমএস) অমল কুমার বোষ বিএমডিএর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিএমডিএর গাফিলতির জন্যই সংযোগ বিলম্বিত হচ্ছে। কেননা তাদেরকে আমরা সব সময় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংযোগ দিয়ে থাকি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন