ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭, ১০ সফর ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

অমিতাভ বচ্চনের বিরুদ্ধে নতুন প্রমাণ

পানামা পেপার্স

প্রকাশের সময় : ২২ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : পানামা পেপার্স নামে পরিচিত ফাঁস হওয়া নতুন নথিপত্রে কয়েকটি অফশোর কোম্পানির সঙ্গে ভারতের সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চনের যোগাযোগের নতুন প্রমাণ সামনে এসেছে তারপরই মিঃ বচ্চন জানিয়েছেন তিনি এর তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করবেন।
অমিতাভ বচ্চন দিনকয়েক আগেই অবশ্য দাবি করেছিলেন যে চারটি অফশোর কোম্পানির সঙ্গে তার নাম জড়ানো হয়েছে সেগুলো নিয়ে তিনি কিছুই জানেন না। ‘‘আমি কোনও দিনই এই কোম্পানিগুলোর বোর্ডে ডিরেক্টর হিসেবে ছিলাম না। ফলে আমার নাম কীভাবে এই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে তা আমি নিজেও জানতে উৎসুক’’, এক বিবৃতিতে বলেন তিনি।
কিন্তু ভারতে পানামা পেপার্স তদন্তে সামিল হয়েছে যে পত্রিকাটি, সেই ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা নতুন নথিতে দাবি করা হয়েছে মিঃ বচ্চন পানামা-ভিত্তিক দুটি কোম্পানি ট্র্যাম্প শিপিং লিমিটেড ও সি বাল্ক শিপিং কোম্পানির ডিরেক্টরদের বোর্ড মিটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
এই নথিতে দেখা গেছে, ১৯৯৪র ডিসেম্বরে টেলিফোন কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে তিনি ওই বোর্ড মিটিংয়ে যোগ দেন। দুটি কোম্পানির ডিরেক্টরদের তালিকা এবং ‘সার্টিফিকেট অব ইনকামবেন্সি’তে পদাধিকারীদের মধ্যেও তার নাম ছিল।
এই নতুন নথি সামনে আসার পরই মিঃ বচ্চন গতকাল আর একটি বিবৃতি জারি করে বলেছেন, ‘‘সরকার দশদিন আগেই আমাকে একটি নোটিশ পাঠিয়েছিল এবং তাতে তোলা সব প্রশ্নেরই আমি জবাব দিয়েছি। আমি তদন্তে সব রকম সহযোগিতা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত’’।
ওই বিবৃতিতে অমিতাভ বচ্চন আরও বলেছেন, ‘‘সরকার যদি আমার কাছে আরও কিছু জানতে চায় তাহলে আমি অবশ্যই জানাব। আমাদের উচিত হবে সরকারকে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে দেওয়া’’।
পানামা পেপার্সের তদন্তের সূত্র ধরে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এর আগে জানিয়েছিল, ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে অমিতাভ বচ্চন অন্তত চারটি অফশোর শিপিং কোম্পানির ডিরেক্টর পদে ছিলেন যা ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার নীতিমালার পরিপন্থী।
পানামার মোসাক ফনসেকা সংস্থা থেকে ফাঁস হওয়া নথিপত্রে প্রায় শ-পাঁচেক ভারতীয় নাগরিকের নাম ছিল যারা অফশোর ট্যাক্স হাভেনে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন বা কোম্পানির পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন।
এই পাঁচশো ভারতীয়র মধ্যে শুধু অমিতাভ বচ্চনই নন বর্তমানে তার পুত্রবধূ ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনেরও নাম ছিল।
অফশোর কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অমিতাভ বচ্চনের যোগসাজশ এখনও প্রমাণসাপেক্ষ ঠিকই, কিন্তু এইসব নথিপত্র যে ভারতের সম্ভবত সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকাকে বেশ বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
ভারত সরকারের পর্যটন বিভাগ তাদের ‘ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া’ ক্যাম্পেইনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে অমিতাভ বচ্চনের নাম ঘোষণা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছিল, কিন্তু সেটাও এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সরকারি সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, পানামা পেপার্স তদন্তে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণ করতে পারার আগে অমিতাভ বচ্চনকে ওই ক্যাম্পেইনের অ্যাম্বাসাডর হিসেবে নিয়োগ করার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে পানামা পেপার্সে নাম জড়ানো সব ভারতীয়র বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মহারাষ্ট্রে বাঘ সংরক্ষণের জন্য অমিতাভ বচ্চন সরকারের যে ‘সেভ টাইগার’ প্রকল্পের জন্য ক্যাম্পেইন চালিয়ে থাকেন, সেখান থেকেও তাকে সরানোর দাবি তুলেছে বিরোধী কংগ্রেস দল।
সূত্র : বিবিসি।                






 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন