ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

নকল প্রসাধনীতে সয়লাব ঝিনাইগাতী

এস.কে সাত্তার. ঝিনাইগাতী ( শেরপুর ) : | প্রকাশের সময় : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

নকল প্রসাধনীতে ভরে গেছে ঝিনাইগাতী। উপজেলা সদরের ভেতর বাজার থেকে শুরু করে বড় বড় দোকান পর্যন্ত সাজিয়ে রাখা হয়েছে নামী-দামি ব্র্যান্ডের কসমেটিকসহ নানা প্রসাধনী। জানা যায়, লোভনীয় অফার আর সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে এসব নকল প্রসাধনী তাই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে গ্রহক। পক্ষান্তরে উপজেলা সদরের প্রসিদ্ধ দোকান আতিক ষ্টেশনারী এন্ড কনফেকশনারী, বনফুল, পাঠান ষ্টোরসহ বড় বড় দোকানগুলো আসল এবং দামি জিনিস বিক্রি করতে গিয়ে লাভতো দূরের কথা বুঝতেই পারছেন না যে কোনটা আসল আর কোনটা নকল। ফলে আসল প্রসাধনী নিয়ে বসে থাকা ব্যকসায়ীদের পুঁজি ভেঙ্গে ভেঙ্গে খরচ করতে হচ্ছে বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য, ভেতর বাজারসহ দুই নম্বরী দোকানগুলোতে থরে থরে সাজিয়ে রাখা নানা প্রসাধনী কিনে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে এলাকার সহজ-সরল হাজার হাজার মানুষ। অথচ নেই কোন প্রতিরোধ-প্রতিকার।
শীত এবং বিশেষ দিনকেন্দ্রিক আনা এ সব প্রসাধনসামগ্রীর বাজার দখল এবং দাপটে কারো বোঝার উপায় থাকে না যে, এগুলো নকল। সবই নামী-দামি ব্র্যান্ডের নকল কসমেটিকস। কিন্তুু কিনে নিয়ে বাসায় যাওয়ার পর চিচিং ফাঁক !
আবার বিদেশী নামী-দামি ব্র্যান্ডের কসমেটিকস মেলে কোন কোন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। কিন্তুু মেয়াদোত্তীর্ণ। সস্তায় এসব নকল প্রসাধনী কিনে সাধারণ মানুষ যেমন প্রতারিত তেমনই হচ্ছে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত। এগুলো ব্যবহার করে বাড়ছে চর্মরোগের নানাবিধ ঝুঁকি। এসব নামী-দামি ব্র্যান্ডের নকল প্রসাধনী ঢাকা অথবা অন্যত্র তৈরি করে তা অবাধে বাজারজাত করা হচ্ছে। শুধু যে ঢাকায় তা নয় এসব নকল প্রসাধনসামগ্রী তৈরির কারখানা রয়েছে দেশের অন্যান্য স্থানেও। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ নকল প্রসাধনসামগ্রীর ব্যবসা। এরা পারফিউম,টেলকম পাউডার, সুগন্ধি কেশ তেল, বিউটি ক্রিম, স্যাম্পু, কন্ডিশনার, সেভিং ফোম, সেভিং লোশন/ক্রিমসহ বিভিন্ন প্রসাধনী তৈরি করে বাজারজাত ও অবাধে বিক্রি করছে।
ঢাকার বিভিন্ন পারফিউমারি দোকান থেকে কেমিক্যাল সংগ্রহ করে এসব প্রসাধনী তৈরি করা হচ্ছে। স্যাম্পু তৈরিতে ব্যবহার হয় সাবান পানি, কেমিক্যাল এবং পারফিউম। বিভিন্ন সাবান কারখানা থেকে উচ্ছিষ্ট বা নিন্মমানের সাবান পানি সংগ্রহ করে পারফিউমের সাথে মিশিয়ে স্যাম্পু তৈরি করা হয়। পরে নামী-দামি ব্র্যান্ডের স্যাম্পুর খালি বোতল সংগ্রহ করে অথবা নামী-দামি ব্র্যান্ডের লেবেল লাগিয়ে বোতলজাত করে বাজারে ছাড়া হয়।
শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে নাকি নামী-দামি ব্রান্ডের মেয়াদোত্তীর্ন স্যাম্পু সংগ্রহ করে তাতে আরো সাবান পানি এবং কেমিক্যাল মিশিয়ে স্যাম্পু তৈরি করা হচ্ছে। যা দেখে কারো বোঝার উপায় নেই যে এটি আসল, নাকি নকল। একইভাবে স্পিরিট ও সুগন্ধি কেমিক্যাল মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে পারফিউম, যা পরে বিশেষ কায়দায় নামী-দামি ব্র্যান্ডের বোতলজাত করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। বিশেষ দিনকে সামনে রেখে নকল সুগন্ধি তেল, সেভিং লোসন তৈরিতেও একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। তা ছাড়া গ্রামাঞ্চলে ফেরিওয়ালারা ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছে বাসা-বাড়ীতে। মহিলারা এসব নকল প্রসাধনসামগ্রী বেশী দামে কিনে সবচে বেশি প্রতারিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জানান, নকল প্রসাধন সামগ্রীতে যে সব কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে তা মাত্রাতিরিক্ত এবং কোন রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই। ফলে এসব ব্যবহারে এলার্জি, ক্ষত, কিলয়েড ( চামড়া কালো হয়ে যাওয়া ) একজিমা ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি দীর্ঘদিন নকল কসমেমেটিক ব্যবহারে স্কিন ক্যান্সারেরও প্রচন্ড ঝুঁকি রয়েছে বলে তিনি জানান।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন