ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ২১ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

কমলনগরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

লক্ষীপুর থেকে এস এম বাবুল (বাবর) | প্রকাশের সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:০৪ এএম

লক্ষীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকালকিনি ইউনিয়নে বাত্তিরখালের ওপর নড়বড়ে কাঠের ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে মানুষ। বাড়ছে ভোগান্তি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ব্রিজ পার হয়। সাইকেল কাঁধে নিয়ে পার হতে হয় দূরের মানুষকেও।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ও চরমার্টিন ইউনিয়নের ইউনিয়নে আসা-যাওয়ার পথে বাত্তিরখালের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের ব্রিজ রয়েছে। পাঁচ বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে বাঁশ-কাঠ দিয়ে কাঠের ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। দুই বছর না যেতেই ব্রিজটি নড়বড়ে হয়ে যায়। প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা, স্থানীয়রা কোনোরকম জোড়াতালি দিয়ে ব্রিজ পারাপার হচ্ছে।

মতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, চর কালকিনি মিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কে আলম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণমার্টিন হাজিপাড়া নূরানি মাদরাসা এবং নাছিরগঞ্জ কওমি মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, নারী-শিশু ও বৃদ্ধসহ চর কালকিনি ও চর মার্টিন ইউনিয়নের অন্তত ১০ হাজার গ্রামবাসীর চলার পথে বর্ণনাতীত ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

সিরাজুল ইসলাম,শাহ আলম ভান্ডারিসহ স্থানীয়রা জানায়, চর কালকিনি একটি কৃষিনির্ভর গ্রাম। এখানে ধান, বাদাম, মরিচ, সয়াবিন উৎপাদন হয়ে থাকে। এখানকার ফসল, শাক-সবজি উপজেলার সদর ও জেলা শহরে যায়। কিন্তু কৃষিপণ্য নিয়ে খাল পার হতে কৃষকরা ভোগান্তিতে পড়েন। শিশুদের বিদ্যালয়ে যেতে খাল পার হতে হয়। এই গ্রামের সঙ্গে অন্যগ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কিছুদিন আগে কাঠের ভাঙা ব্রিজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিশু পানিতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। এমন পরিস্থিতির কারণে অনেক অভিভাবক তাদের শিশু সন্তানকে স্কুলে দিতে অনিহা প্রকাশ করছেন। স্থানীয় কৃষকরা উৎপাদিত ফসল হাটে-বাজারে নিতে পারেন না। যে কারণে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। এমন পরিস্থিতিতে বাত্তিরখালের উপর একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান স্থানীয়রা। চর কালকিনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফ উল­াহ বলেন, বাত্তির খালের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ খুবই জরুরি। এ ব্যাপারে আবেদন করা হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন