ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

আন্তর্জাতিক সংবাদ

মেশিনগানের জবাবে গাজাবাসীর গান

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৫ অক্টোবর, ২০১৮, ৭:৪৬ পিএম

হামাস জঙ্গিরা অস্ত্রশস্ত্র মজুত রেখেছে, এই অভিযোগে গাজ়াতে ‘সৈয়দ আল-মিশাল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ইজ়রায়েলি হানাদাররা। এ সময় নিহত হয়েছিলেন এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও তাঁর দু’বছরের শিশুকন্যা। জঙ্গি নিধনের নাম করে সাধারণ মানুষকে মারার এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে গাজ়াবাসী আর এর প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে তারা বেছে নিয়েছেন গান!
বেশ কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল প্যালেস্তাইনের এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজ়ায় যে কয়েকটি হাতে গোনা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল, তার মধ্যে অন্যতম এই ‘আল-মিশাল’। প্রতি বছর একাধিক সঙ্গীতানুষ্ঠান হত সেখানে। শুধু অনুষ্ঠানই নয়, এই কেন্দ্র ছিল বিভিন্ন শিল্পী ও সংস্কৃতিমনস্ক নতুন প্রজন্মের সংযোগের ক্ষেত্র।
সেই সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এ ভাবে গুড়িয়ে দেওয়ার পিছনে ইজ়রায়েলের বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই। যেমন থিয়েটারকর্মী, ২৩ বছরের যুবক হানিন আল-হোলির কথায়, ‘‘আল-মিশাল কেন্দ্র আমাদের প্যালেস্তাইনি অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য খুবই জরুরি ছিল। তাই ইচ্ছে করেই হামাসের অজুহাত দিয়ে বাড়িটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইজ়রায়েলি সেনা।”
ইজ়রায়েলি সেনাদের ক্ষেপণাস্ত্র, বুলেটের জবাবে গানকেই বেছে নিয়েছেন আল-মিশালের সঙ্গে যুক্ত ছেলেমেয়েরা। সপ্তাহে অন্তত এক দিন তারা জড়ো হন ধ্বংসস্তূপে। কাঁধে গিটার, গলায় গান। কোনও দিন হচ্ছে একক সঙ্গীতের অনুষ্ঠান। কোনও দিন বা ব্যান্ডের গান। তিন-চারটি পথনাটিকাও হয়েছে ওই ধ্বংসস্তূপের উপরে। কিশোরী সঙ্গীতশিল্পী আলা খুদেই বলল, “প্রতিবাদের খুব গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে শিল্প। সেটা বুঝতে পেরেই মনে হয় ইজ়রায়েল এ রকম হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু আমরাও প্রতিবাদ থামাব না। গান-নাটক চালিয়েই যাব। মেশিনগানের জবাব দেব গান গেয়েই।” সূত্র : দি গার্ডিয়ান।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন