ঢাকা, বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

প্রথমবারের মত কোনও প্রকল্পে সুদ নিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৫ অক্টোবর, ২০১৮, ১০:৪৯ পিএম | আপডেট : ১১:৩৪ এএম, ২৬ অক্টোবর, ২০১৮

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো প্রকল্পে অর্থ দিয়ে তা থেকে সুদ নিতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিসারিজ প্রকল্প সার্ভিস চার্জের সঙ্গে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে সুদ নেবে আন্তর্জাতিক এই প্রতিষ্ঠানটি। এতদিন বিশ্বব্যাংকের আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) তহবিলের ঋণে কোনো সুদ ছিল না। শুধু সার্ভিস চার্জ ছিল শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ। নতুন প্রকল্পটির মাধ্যমেই বিশ্বব্যাংক সুদ হার বাস্তবায়ন শুরু করলো। প্রকল্পটিতে বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে ২৪ কোটি ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।
গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঋণ চুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. জাহিদ হোসেন। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শুধু সুদের হারই যোগ করা হয়নি, পাশাপাশি কমে এসেছে রেয়াতকাল ও ঋণ পরিশোধের সময়ও। এতদিন ৬ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ (রেয়াতকাল) ৩৮ বছরে ঋণ পরিশোধের নিয়ম ছিল। কিন্তু এ প্রকল্প থেকে ৫ বছরের রেয়াতকাল এবং ৩০ বছরে ঋণ পরিশোধের নিয়ম চালু হলো। বিশ্বব্যাংকের দেওয়া এই ঋণের ক্ষেত্রে আগের শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জের সঙ্গে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে।
এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সামুদ্রিক একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে মৎস্য জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে চিংড়ি, তলদেশীয় ও ভাসমান প্রজাতির মৎস্যে মজুদ নিরূপণ জোরদার করা সম্ভব হবে। এছাড়া বøু-ইকনোমি ব্যবস্থাপনা জোরদারের জন্য সরকারি গবেষণা বৃদ্ধি, ক্ষুদ্রায়ন ও বাণিজ্যিক মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে কার্যকর পরিবীক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। চারটি অংশে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। প্রথম অংশে থাকছে এনাবিলিং অ্যাকটিভিটিস ফর সাসটেইনেবল ফিশারিজ সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড গ্রোথ। দ্বিতীয় অংশে ইমপ্রুভমেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড প্রোডাকশন প্র্যাকটিস করা হবে। তৃতীয় অংশে কমিউনিটি ইমপ্রæভমেন্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড এবং চতুর্থ অংশে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং করা হবে।
কাজী শফিকুল আযম বলেন, এটুকু বেশি সুদে এই প্রকল্পে ঋণ নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রকল্পটি যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা গেলে সেটি কোনো সমস্যা হবে না। প্রকল্পটি নীল অর্থনীতিকে উন্নত করতে ভূমিকা রাখবে।
ড. জাহিদ হোসেন বলেন, কৃষি খাতের যে প্রবৃদ্ধি, তার মধ্যে মৎস্য খাতের অবদান অনেক। জাতীয় অর্থনীতিতে ৩ শতাংশ অবদান রাখছে মৎস্য খাত। এছাড়া মোট কৃষি খাতের যে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, তার ২২ শতাংশ আসে মৎস্য খাত থেকে। গত কয়েক বছরে মৎস্য উৎপাদন তিন থেকে চার গুণ বেড়েছে। কিন্তু এর সঙ্গে যারা যুক্ত অর্থাৎ মৎস্যজীবীদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেনি। বছরের একটি বড় সময় তারা কাজ পায় না। ফলে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে জীবন চালায়। পরবর্তীতে কম দামে মৎস্য আগাম বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এই প্রকল্পটি একদিকে যেমন নীল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে, তেমনি মৎস্যচাষীদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত-
পাঁচ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি
দরিদ্র জনগোষ্ঠির প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার ঋণ ও অনুদান দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। দুইটি প্রকল্পে এই অর্থ দিচ্ছে উন্নয়ন সংস্থা এডিবি। চতুর্থ প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-(পিইডিপি-৪) এবং আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিস ডেলিভারি প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হবে।
গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে দুটি ঋণ ও অনুদান চুক্তি সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এডিবি দেবে ১১ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর মধ্যে ১১ কোটি ডলার ঋণ এবং ২০ লাখ ডলার অনুদান দেবে সংস্থাটি। প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রকল্প এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণ, বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে তাদের স্বাস্থ্যর মান উন্নত করা এবং সেবাসমূহের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি সেবার কমপক্ষে শতকরা ৩০ ভাগ বিনামূল্যে দরিদ্রদের দেয়া হবে।
এছাড়া, নগরের দরিদ্র জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্য চাহিদা পূরণে এবং কার্যকর স্বাস্থ্য সেবা দেয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার নারী, শিশু, মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হবে। প্রকল্পভুক্ত ১১টি সিটি কর্পোরেশন হচ্ছে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর, রাজশাহী, খুলনা,নারায়নগঞ্জ, সিলেট, রংপুর, কুমিল্লা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম। এছাড়া ১৪টি পৌরসভা হচ্ছে গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, তারাব, শরিয়তপুর, নেত্রকোণা, বেনাপোল, জগন্নাথপুর, দিরাই, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা পৌরসভায় এই সেবা দেয়া হবে।
এদিকে ফোর্থ প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (পিইডিপি-৪) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক ও প্রাক প্রাথমিক ফোর্থ প্রাইমারী ইডুকেশন ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম (পিইডিপি-৪) শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। কর্মসূচির অনুমোদিত প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪৭ কোটি ২৮ লাখ মার্কিন ডলার । তার মধ্যে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এডিবি ৫০ কোটি ডলার দিচ্ছে ঋণ এডিবি। এটি মোট ব্যয়ের ৩ দশমিক চার শতাংশ। বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে ৭০ কোটি মার্কিন ডলার বা ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন দিচ্ছে সাড়ে ১৭ কোটি ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং ইউনিসেফ দিচ্ছে শূণ্য দশমিক ৫ মিলিয়ন। এছাড়া সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৩২ কোটি ২৮ লাখ ডলার খরচ করা হবে।
এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, চতুর্থ প্রথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচীটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সকলের জন্য উন্নত শিক্ষা ও শিক্ষণ পদ্ধতি নিশ্চিত করা, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বজনিন অভিগম্যতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে বৈষম্য কমা, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণ এবং প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনার উন্নতি করা হবে।
কাজী শফিকুল আযম জানান, এডিবি বাংলাদেশের বিশস্ত উন্নয়নসহযোগী। দুই প্রকল্পে সংস্থাটির দেয়া সহজ শর্তের ওসিআর ঋণ ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া, বার্ষিক সুদের হার দিতে হবে ২ শতাংশ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন