বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

খেলাধুলা

ঐতিহ্য আর অমহের লড়াই

স্পোর্টস রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ২১ নভেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

আগামীকাল থেকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি। সাদা পোশাকে এর আগে ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ১০ বার জয়ের স্বাদ পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ জিতেছিল দুটি ম্যাচে। আর বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়। দুই দলের মুখোমুখিতে বোলিং আর ব্যাটিংয়ে এগিয়ে দুই অধিনায়ক জেসন হোল্ডার আর সাকিব আল হাসান। ইনজুরির কারণে শেষ মুহূর্তের ইনজুরতে ছিটকে গেছেন ক্যারিবীয়ান দলপতি আর শেষ সময়ে ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন টাইগার অধিনায়ক। ঐতিহ্যের এই লড়াইয়ে এবার তাই এগিয়ে যাবার পালা সাকিবের।
বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ মোট খেলেছে সাতটি টেস্ট সিরিজ। প্রতিটি সিরিজই ছিল দুই ম্যাচের। ২০০২ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রথম ম্যাচ খেলেছিল দুই দল। ঢাকার সেই টেস্টে ইনিংস ও ৩১০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। তিনদিনেই হেরে যায় স্বাগতিকরা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের প্রথম ইনিংসে করেছিল ৫৩৬ রান। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৩৯ রানে গুটিয়ে যাওয়া বুলবুল-দুর্জয়রা দ্বিতীয় ইনিংসে তোলে মাত্র ৮৭ রান।
বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে চট্টগ্রামে ৭ উইকেটে হেরেছিল স্বাগতিকরা। এরপর ২০০৪ সালে ক্যারিবীয় সফরে গিয়ে বাংলাদেশ ড্র করেছিল। পরের ম্যাচে হেরেছিল ইনিংস ও ৯৯ রানের ব্যবধানে। ২০০৯ সালে দুই দলের মুখোমুখি তৃতীয় সিরিজের দুটি ম্যাচেই জয় পায় টাইগাররা। ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে ক্যারিবীয়ানদের। সিরিজে প্রথম ম্যাচে কিংসটনে বাংলাদেশ ৯৫ রানের জয় তুলে নেয়। আর সেন্ট জর্জে বাংলাদেশ জেতে ৪ উইকেটের ব্যবধানে। ২০১১ সালে চট্টগ্রামে ড্র হয় দুই দলের ম্যাচটি আর সেই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিকরা হারে ২২৯ রানের ব্যবধানে।
২০১২ সালের দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে ঢাকায় বাংলাদেশ হারে ৭৭ রানের ব্যবধানে আর খুলনায় হারে ১০ উইকেটে। এরপর ২০১৪ সালে কিংসটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০ উইকেটে এবং গ্রস আইলেটে ২৯৬ রানে জয় তুলে নেয়। চলতি বছর সবশেষ দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল জুলাইয়ে। নর্থ সাউন্ডে বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ও ২১৯ রানের ব্যবধানে। দ্বিতীয় ম্যাচে কিংস্টনে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় পায় ১৬৬ রানের ব্যবধানে।
দুই দলের মুখোমুখি দেখায় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলে, ২০১২ সালের নভেম্বর খুলনায় ক্যারিবীয়ান ৯ উইকেটে ৬৪৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। বাংলাদেশের দলীয় সর্বোচ্চ ৫৫৬, ঢাকায় ২০১২ সালের নভেম্বরে একই সিরিজের প্রথম ম্যাচে। সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ বাংলাদেশের ৪৩ আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১২৯। চলতি বছর নর্থ সাউন্ডে বাংলাদেশ ১৮.৪ ওভারে ৪৩ রান তুলেই গুটিয়ে যায়। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের তালিকায় শীর্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চন্দরপল (৮৯৭)। আর বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৫০ রান করেছেন এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে না থাকা ওপেনার তামিম ইকবাল।
ব্যক্তিগত ইনিংস সর্বোচ্চ রান সারওয়ানের দখলে। ২০০৪ সালের সিরিজে তিনি ২৬১ রান করে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস খেলেছিলেন তামিম (১২৮)। সর্বোচ্চ চারটি সেঞ্চুরি করেছিলেন চন্দরপল, তিনটি করেছিলেন কার্লোস ব্রাথওয়েইট, দুটি করে সেঞ্চুরি আছে সারওয়ান, কাইরন পাওয়েল এবং ড্যারেন ব্রাভোর। বাংলাদেশের হয়ে একটি করে সেঞ্চুরি করেছেন আবুল হাসান, মোহাম্মদ রফিক, নাঈম ইসলাম, হাবিবুল বাশার, খালেদ মাসুদ পাইলট, মুশফিকুর রহিম এবং তামিম ইকবাল। সর্বোচ্চ ৭টি ফিফটির মালিক চন্দরপল আর ৬টি করে ফিফটি আছে টাইগারদের বর্তমান দলপতি সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবালের।
ক্যারিবীয়ানদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ তিনবার শূন্য রানেই সাজঘরে ফিরেছিলেন হান্নান সরকার এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সর্বোচ্চ ১০টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যারেন ব্রাভো আর বাংলাদেশের তামিম ইকবাল হাঁকিয়েছেন ৭টি ছক্কা। দুই ম্যাচের এক সিরিজে সর্বোচ্চ ৩৫৪ রান করেছিলেন চন্দরপল আর বাংলাদেশের নাসির হোসেন করেছিলেন ২৬৩ রান। দুই দলের মুখোমুখি দেখায় সাদা পোশাকে সর্বোচ্চ ৩৭ উইকেট নিয়েছেন টাইগার দলপতি সাকিব আল হাসান। আর ক্যারিবীয়ানদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩০ উইকেট নিয়েছেন পেসার কেমার রোচ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন