বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯, ১১ মুহাররম ১৪৪৪

মুক্তাঙ্গন

ইসলামে ঐক্য-শান্তির শিক্ষা

প্রকাশের সময় : ২৭ জানুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আলী এরশাদ হোসেন আজাদ : সন্ত্রাস শব্দের সমার্থক ‘ফিৎনা-ফাসাদ’। মানবতা ও নৈতিকতার কোন স্তরেই ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ সমর্থনযোগ্য নয় অথচ বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনায় ইসলামের শান্তিময় ঐতিহ্য ম্লান ও মলিন হচ্ছে। যার অন্যতম কারণ: পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রতি বিদ্বেষ, দেশি-বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতা, অবৈধ অর্থ-অস্ত্রের জোগান, বেকারত্ব, অপশিক্ষা, অর্ধশিক্ষার বিরূপ প্রভাব ইত্যাদি
সন্ত্রাস একটি গুরুতর বিষয় হলেও বিচিত্র সমস্যায় অভ্যস্ত বাংলাদেশে এ বিষয়ে রয়েছে পরস্পর বিরোধী অবস্থান, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মার-প্যাঁচের নানান মেরুকরণ। এ সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন ইসলামি শিক্ষা ও অনুশাসনের ব্যাপক চর্চা-পৃষ্ঠপোষকতা, সামাজিক সচেতনতা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, অর্ধশিক্ষা-অপশিক্ষার কুফল প্রতিরোধ। কেননা, গায়ের জোরে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
প্রিয়নবীর (সা.) ‘মক্কী জীবন’ (হিজরত পূর্বকাল: ৬১০-৬২৩ খ্রি.) ছিল আত্মসংযম ও আত্ম প্রশিক্ষণের। প্রতিপক্ষের আঘাতে আঘাতে তিনি (সা.) হয়েছেন রক্তাক্ত তবু তিনি ওদের অকল্যাণ কামনা না করে বরং কেঁদে কেঁদে ওদের হেদায়েত ও ইসলামের জন্য আল্লাহ্র সাহায্য কামনা করেছেন। তাইতো শান্তির পথ চলায় হিজরি ৬ষ্ঠ সালে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল যেখানে ১৪০০ জন, সেখানে হুদাইবিয়ার সন্ধির (যুদ্ধ নয় শান্তি চুক্তি) কারণে ৮ম হিজরিতে ‘মক্কা বিজয়ে’র সময় মুসলমানদের সংখ্যা দাঁড়ায় দশ হাজার। আর দশম হিজরিতে ‘বিদায় হজ্বে’র সময় আরাফাতেই উপস্থিত ছিলেন কয়েক লাখ মুসলমান।
হটকারী ও গোপন কূটকৌশল ইসলামের দর্শন নয়। কেননা, মহান আল্লাহ্ বলেন “তোমার প্রতিপালকের রাস্তায় প্রজ্ঞার সঙ্গে এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে (মানুষকে) আহ্বান কর” (নাহল: ১২৫)। ন্যায় সংগত কারণ ও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে মেরে ফেলার অনুমতি ইসলাম দেয় না। পবিত্র কুরআনের স্পষ্ট ঘোষণা “কোন নর হত্যা কিংবা পৃথিবী বা সমাজে বিপর্যয় সৃষ্টির কারণে বিচারের রায় ছাড়া যদি কেউ কোন মানুষকে হত্যা করে, তা হলে সে যেন সব মানুষকে হত্যা করল” (মায়েদা: ৩২)। অন্যদিকে ফিৎনা-ফাসাদ শুধু অশান্তি ও নিরাপত্তাহীন উদ্বেগজনক পরিবেশ তৈরি করে, যা কারো কাম্য হতে পারে না। কেননা, মহান আল্লাহ্ বলেন “ফিৎনা-ফাসাদ হত্যার চেয়েও জঘন্য” (বাকারা: ১৯১)।
ইসলামি জীবনবোধ পারস্পরিক সংলাপ, পরামর্শ ও আলোচনার অনুপ্রেরণা দান করে। আল্লাহ্ বলেন “তাদের সব কাজ কর্ম নিজেদের পারস্পরিক পরামর্শক্রমে সম্পন্ন হয়” (শুরা : ৩৮)। আর পরামর্শ ও সংলাপ মহান আল্লাহ্র আদেশ ও ইসলামের আদর্শ। মহান আল্লাহ্ বলেন “যে কোন কাজে তোমরা পারস্পরিক পরামর্শ কর” (আল-ইমরান: ১৫৯)। প্রিয়নবী (সা.) সব সময় পরামর্শের নীতি অবলম্বন করতেন। তাঁর নীতি হলো ‘তিন জনের উপস্থিতিতে দু’জনে পারমর্শ না করা’ এমন আদর্শ ও সংলাপের পথই ইসলামের বৈশিষ্ট্য।
শুধু তাই নয়, জীবনের সবক্ষেত্রে বিপর্যয় মোকাবেলার উপায় হলো ঐক্যমত। মুসলিম ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যকে পবিত্র কুরআনে ‘শীসা ঢালা প্রাচীর’ বা ‘বুনিয়ানুম মারসুস্’ বলা হয়েছে, আর হাদিসে এ চেতনাকেই ‘একদেহ’ ‘এক সৌধ’ ‘একই আদমের সন্তান’ তুল্য বলা হয়েছে। তাই ক্ষুদ্র ব্যক্তি স্বার্থ বা গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের কারণে বৃহত্তর ঐক্যের বিনাশ সাধন ইসলামের শিক্ষা নয়। কেননা, মহান আল্লাহ্ বলেন “তোমরা আল্লাহ্র রজ্জুকে (বিধান ও রহমত) দৃঢ়তার সঙ্গে ধারণ কর, তোমরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যেও না” (আল-ইমরান: ১০৩)।
বস্তুত সারা দুনিয়াই যেন ইসলামের ইবাদতের জন্য বিস্তৃত গালিচা স্বরূপ এবং ইসলাম সবসময় উদারতা ও সহজপন্থায় বিশ্বাসী। ইবাদত, ইখলাস, দোয়া, দাওয়ৎ- ই-তাবলিগ, আধ্যাত্মিকতা, মানবসেবা, মুসলিম ভ্রাতৃত্ব ইত্যাদি চেতনার কারণে ইসলামকে বলা হয় ‘শান্তির ধর্ম’। প্রিয়নবী (সা.) বলেন “সহজ কর, কঠিন করো না; সুসংবাদ জানিয়ে আহ্বান কর ভীতি প্রদর্শন করে তাড়িয়ে দিও না” (বুখারি)। কাজেই অনাচার অনৈক্য, বিশৃংখলা পরিহার করে দেশের সেবা ও স্বার্থ সংরক্ষণ হোক আমাদের সংকল্প। প্রিয়নবী (সা.) আরো বলেন “আমি নির্দেশ দিচ্ছি দলগত জীবন, নেতার আদেশ শ্রবণ ও আনুগত্যের...”(ভাবানুবাদ: তিরমিযি)।
ষ লেখক : বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন