ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

খেলাধুলা

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পাগলাটে রাত

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১২:০২ এএম

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পরশু ছিল অঘটনের রাত। পাগলাটে বললেও কি ভুল হবে?
গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডে এদিন কোন হাইভোল্টেজ ম্যাচ ছিল না ঠিকই, কিন্তু ফেভারিট দলগুলোর একের পর এক হোঁচট আলাদা রোমাঞ্চ নিয়ে আসে। সিএসকেএ মস্কোর কাছে ঘরের মাঠে রেকর্ড ব্যবধানে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গোল মিসের মহড়ায় আনকোরা ইয়াং বয়েজের মাছে হেরেছে জুভেন্টাস। বাজে খেলে পরাজয়ের মাল্য গলে পরেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। একই ভাগ্য বরণ করেছে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করা আরেক দল রোমাও। দুই পেনাল্টি, ছয় গোল আর দুই লাল কার্ডের ঘটনাবহুল ম্যাচে নাটকীয় ড্র হয়েছে আয়াক্স ও বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যকার ম্যাচটি। প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে কেবল ম্যানচেস্টার সিটি।
জয়-পরাজয় নিয়েই তো খেলা। কিন্তু বার্নাব্যুতে এদিন যা হয়েছে তা অভূতপূর্ব। সিএসকেএ মস্কোর কাছে ৩-০ গোলে উড়ে গেছে রিয়াল। ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এর আগে এত বড় ব্যবধানে কখনো হারেনি লস ব্লাঙ্কোসরা। প্রথম লেগেও মস্কোর মাঠ থেকে ১-০ গোলে হেরে এসেছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। এক দশক পর এই প্রথম একই দলের বিপক্ষে দুই লেগেই হেরে গেল রিয়াল। ২০০৮/০৯ মৌসুমে জুভেন্টাসের কাছ থেকে একই তিক্ততার অনুভুতি পেয়েছিল মাদ্রিদের দলটি।
এই জয়-পরাজয় অবশ্য টুর্নামেন্টে কোন প্রভাব ফেলেনি। আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে রেখেছিল রিয়াল। মস্কোর জয়টাও কাজে আসেনি। সমান পয়েন্ট নিয়েও মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকায় তালিকার তিনে থেকে ইউরোপা লিগে সুযোগ পেয়েছে ভিক্টোরিয়া প্লাজেন। এই ভিক্টোরিয়ার কাছেই এদিন ২-১ গোলে হেরে গেছে গ্রুপের আরেক শীর্ষ ও ফেভারিট দল রোমা।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুই গোল খেয়ে বসে অচেনা একাদশ নিয়ে মাঠে নামা রিয়াল। দ্বিতীয়ার্ধে বেল-ক্রুস-কারবাহালরা নেমেও কিছু করতে পারেননি। উল্টো ৭৩তম মিনিটে আরেক গোল খেয়ে বসায় পরাজয় আরো নিশ্চিত হয়। প্রথমার্ধে গোল মিসের মহড়ায় ছিলেন বেনজেমা-ইস্কো-আসেনসিওরা। গোড়ালিতে চোট পেয়েও পুরো সময় মাঠে ছিলেন দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা বেল।
মস্কোর তিনটি গোলই ছিল দর্শনীয়। তিনটি গোলই ছিল দলীয় প্রচেষ্টার ফল। ৩৭তম মিনিটে শিগার্ডসন অসাধারণ নৈপুণ্যে মাঝমাঠ থেকে বল টেনে নিয়ে আড়াআড়ি ডান প্রান্তে দেন শেলভকে। জায়গা বের করে নিঁখুত শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন শেলভ। দ্বিতীয় গোলটি আসে গোলরক্ষক কোর্তোয়ার কাছ থেকে ফিরে আসা বলে শেনিকভের দারুণ ভলি থেকে। বার্নাব্যুতে তখন পিনপতন নীরবতা। দ্বিতীয়ার্ধে অভিজ্ঞদের নামিয়েও মান বাঁচাতে পারেননি দলটির আর্জেন্টাইন কোচ সান্তিয়াগো সোলারি। শিগার্ডসনের করা তৃতীয় গোলটির পর মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে থাকে স্বাগতিক সমর্থকরা। হারের দায় নিয়েছেন কোচ, ‘ফলাফলের জন্য আমি দুঃখিত।...আমরা এমন একাদশ সাজানোর ঝুঁকিটা নিয়েছিলাম। আর আমি এর দায় নিচ্ছি।’
একই রাতে ম্যান ইউ ও জুভেন্টাস হেরেছে প্রতিপক্ষের মাঠে ২-১ গোলের একই ব্যবধানে। পগবা-লুকাকুরা হেরেছে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে আর রোনালদোর দলকে হারিয়ে দিয়েছে সুইস ক্লাব ইয়াং বয়েজ। দুই দলই ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর একটি করে গোল শোধ দেয় শেষ সময়ে। জুভেন্টাসের হয়ে গোলটি করেন বদলি নামা দিবালা। ইনাইটেডের সান্ত¦নার গোলটি করেন রাশফোর্ড। সুইস চ্যাম্পিয়নদের কাছে জুভাদের হারটা মানা গেলেও লা লিগার ১৫তম দলের বিপক্ষে হোসে মরিনহোর দলের হার হজম করাটা হয়ে পড়েছে কষ্টকর। এমন হারের পরও মরিনহো দাম্ভিক মন্তব্য, ‘এই ম্যাচ থেকে আমি কিছুই শিখিনি।’
জিতলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলোই উঠতে পারত রেড ডেভিলরা। যে মর্জাদা এখন জুভেন্টাসের। জুভেন্টাস এদিন হেরেছে মূলত রোনালদোর একের পর এক সহজ গোল করার সুযোগ হাতছাড়া করার কারণে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গ্রুপ পর্বে ৪৯ ম্যাচে ৫৫ গোল করা পর্তুগিজ তারকা এবারের আসরে গ্রুপ পর্বে গোল করেছেন মাত্র একটি।
অঘটনের রাতে একই ভাগ্য বরণ করতে যাচ্ছিল ম্যানচেস্টার সিটিও। ঘরের মাঠ ইতিহাদে হফেনহেইমের কাছে ম্যাচের ১৬তম মিনিটে গোল খেয়ে বসে পেপ গার্দিওলার দল। প্রথমার্ধেই লেরয় সানে দলকে সমতায় ফেরান। দ্বিতীয়ার্ধে দলের জয়সূচক গোলটি আসে সানের কাছ থেকে।
তবে রাতের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচ উপহার দিয়েছে আয়াক্সের হোয়ান ক্রুইফ অ্যারেনা। লেভান্দোভস্কির গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে ছিল বায়ার্ন। দ্বিতীয়ার্ধের ৭৫ মিনিটের মধ্যে দুই দলই দশজনে পরিণত হয়। মাঠ ছাড়েন ওবার ও মুলার। স্কোরবোর্ডেও তখন সমতা। ৮২তম মিনিটে স্বাগতিকদের হয়ে দ্বিতীয় গোল করে দলকে এগিয়ে নেন তাদিচ। নির্ধারিত সমেয়র মধ্যে লেভান্দোভস্কি ও কোম্যানের গোলে উল্টো লিড নেয়া বায়ার্ন জয়ের স্বপ্নই দেখছিল। কিন্তু তখনও যে নাটকের শেষ দৃশ্য বাকি। যোগ করা সময়েরও শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে পরাজেয়র হাত থেকে রক্ষা করেন তাগলিয়াফিকো।

এক নজরে ফল
রিয়াল ০ : ৩ সিএসকেএ
ভিক্টোরিয়া ২ : ১ রোমা
আয়াক্স ৩ : ৩ বায়ার্ন
বেনফিকা ১ : ০ এথেন্স
ম্যান সিটি ২ : ১ হফেনহেইম
শাখতার ১ : ১ লিঁও
ভ্যালেন্সিয়া ২ : ১ ম্যান ইউ
ইয়াং বয়েজ ২ : ১ জুভেন্টাস

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন