ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

মীরসরাই ছুটি খাঁ মসজিদ

কালের সাক্ষী

মীরসরাই (চট্টগ্রাম) থেকে ইমাম হোসেন | প্রকাশের সময় : ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

বহু যুগের ইতিহাসকে নিজের বুকে ধারণ করে রেখেছে আমাদের এই জন্মভূমি। বাংলার এখানে সেখানে ছড়িয়ে থেকে আজও সগর্বে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে পুরোনো আমলের নিদর্শনগুলো। শেকড় সন্ধানীদের নিরাশ করে না এই স্মৃতিচিহ্নগুলো। পরম আন্তরিকতায় হাত বাড়িয়ে টেনে নিয়ে যায় ইতিহাসের পাতায়।

এই অঞ্চলের ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রাচীন বাংলা বিভক্ত ছিল বিভিন্ন অংশে। এক এক অংশ ছিল এক এক রাজার পরাক্রম। সমগ্র অঞ্চলকে বিভক্ত ছিল পাঁচটি প্রাচীন জনপদে। পুন্ড্র, গৌড়, বঙ্গ, সমতট, হরিকেল। এর মধ্যে হরিকেল জনপদের একটি অংশ হচ্ছে আজকের বৃহত্তর চট্টগ্রাম।

ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অংশে বহিরাগত আরবীয়, তুর্কি, ইরাকি, ইরানি, আফগানরা ক্ষমতা দখল করে শাসন প্রতিষ্ঠা করে। শুরু হয় খলিফা, শাহ বা সুলতানদের শাসন, এক কথায় মুসলিম শাসন। তলোয়ারের মাধ্যমে রাজতান্ত্রিক ইসলাম বিজয়ী হলেও এই অঞ্চলে মানবতাবাদী ইসলামের সঙ্গে মানুষের পরিচয় ঘটে মূলত পীর-আউলিয়াদের মাধ্যমে। তারাই এখানে এসে শুনিয়েছিলেন মানবপ্রেমের বাণী।

গৌড়ের সুলতান হোসেন শাহের আমলে চট্টগ্রামের শাসনকর্তা ছিলেন লস্কর পরাগল খাঁ তারপরে শাসনকর্তা হন তার সন্তান ছুটি খাঁ। পরাগল খাঁর পিতা রুকনুদ্দীন বারবাক শাহের আমলে চট্টগ্রামের শাসনকর্তা ছিলেন। পরাগল খাঁ আর ছুটি খাঁর শাসনামলে চট্টগ্রামের শাসনকেন্দ্র ছিল পরাগলপুর। নাম শুনেই বোঝা যায় শাসনকর্তার নামানুসারেই পরাগলপুরের নামকরণ করা হয়েছে। তার শাসনামলে জোরারগঞ্জসহ আশেপাশের বেশ কিছু অঞ্চলে দীঘি খনন ও মসজিদ নির্মাণ করা হয়। জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দেওয়ানপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ছুটি খাঁ মসজিদটি। পঞ্চদশ শতাব্দীর শুরু দিকে যেসকল মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হয় তার অন্যতম একটি নিদর্শন ছুটি খাঁ মসজিদ। মূল মসজিদটি অনেক আগেই ভেঙে পড়েছে। পরবর্তীতে নতুনভাবে মসজিদ ভবনটি নির্মাণ করা হয়। মূল মসজিদের বেশ কিছু ছোট বড় পাথর শিলালিপি সেখানে দেখতে পাওয়া যায়। প্রত্মতাত্তিক বিভাগ ও চট্টগ্রাম বিশ্বদ্যিালয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ ঐতিহাসিক নিদর্শন সমূহের কিছু সংরক্ষণ করেছে। মূল মসজিদ তৈরিতে ব্যবহৃত পাথরগুলো ভারতের রাজস্থান ও অন্যান্য রাজ্য থেকে আনা হয়েছে বলে জানা য়ায়। কালো রঙের নানা ডিজাইন ও আকৃতির কিছু পাথর এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মসজিদের আঙিনায়। মসজিদের ভেতরে একাধিক শিলালিপির একটিতে সুন্দর লিখনচিত্র (ক্যালিওগ্রাফি) পবিত্র কোরআন শরীফ থেকে আয়াতুল কুরশী লিখিত আছে।

চট্টগামের ইতিহাস নিয়ে লিখিত বিভিন্ন বইয়ে ছুটি খাঁ মসজিদের কথা উল্লেখ রয়েছে। এসব বইয়ে লেখা আছে ছুটি খাঁ মসজিদ খোদিত পাথরের ব্লক দিয়ে নির্মিত ছিল। পাথরের সবগুলোতেই ছিল তোগরা হরফে আল- কোরআনের নানা আয়াত ও আরবী দোয়া।
ইচ্ছে হলেই গিয়ে দেখতে আসতে পারেন যে কোনো এক ছুটির দিনে। চট্টগ্রাম শহর থেকে যেতে সর্বোচ্চ সময় লাগবে ২ ঘন্টা। সকালে রওনা দিয়ে বিকেলেই ফিরে আসতে পারবেন। আবার হয়তো দুপুরবেলার নামাজটিও সেখানেই আদায় করে নিতে পারবেন। চট্টগ্রাম শহরের মাদারবাড়ি শুভপুর বাসষ্ট্যান্ড থেকে চয়েস বা উত্তরা বাসে করে জোরারগঞ্জ বাজাারেই নামতে পারবেন। ভাড়া নেবে সর্বোচ্চ ৮০টাকা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে বারইয়ারহাট নেমে সিএনজি যোগে জোরারগঞ্জ আসলে দেখা মিলবে সড়কের পাশে দন্ডায়মান ঐতিহাসিক ছুটি খাঁ মসজিদটির।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন