ঢাকা, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ১২ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

খেলাধুলা

যাবার আগে আক্ষেপ বাড়াচ্ছেন ওয়ার্নার ঢাকার নায়ক ডায়নামিক সাকিব

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ৬:৩৬ পিএম

চলে যাবেন বলেই কি না সবটুকু উজার করে দিয়ে খেললেন, পেলেন ব্যাক টু ব্যাক ফিফটি। সেই ডেভিড ওয়ার্নার সিলেট সিক্সার্সকে এনে দিয়েছিলেন লড়ার মতো রান। তবে দুই অধিনায়কের লড়াইয়ে ঠিকই জিতে গেলেন সাকিব আল হাসান। বল হাতে নিলেন গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট। ব্যাট হাতে এবারের আসরের প্রথম ফিফটি। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ঢাকার জয়ের নায়কও তাই ‘ডায়নামিক’ অধিনায়ক। বিপিএলে আজ বুধবার সিলেটে সিলেট সিক্সার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস।

সিলেটের সর্বোচ্চ দুই স্কোরার ওয়ার্নার ও লিটন দাসের উইকেট দুটি নিয়েছেন সাকিব। পরে ৪১ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলে ফিরেছেন দলের জয় সঙ্গে নিয়ে। চোটের কারণে সিলেট পর্ব শেষে ফিরে যাবেন যিনি, সেই ওয়ার্নার ছাপ রেখে গেলেন আরও। তার ইনিংসের সৌজন্যেই ২০ ওভারে ১৫৮ পর্যন্ত যেতে পেরেছিল সিলেট। কিন্তু সাকিবের ফিফটি আর শেষ দিকে আন্দ্রে রাসেলের তা-বে ঢাকা জিতেছে ১৮ বল বাকি রেখেই।

সিক্সার্সের হয়ে প্রথম চার ম্যাচে ওপেন করেছিলেন ওয়ার্নার। সেভাবে রান না পেলেও এক ফিফটি পেয়েছিলেন। রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ব্যাটিং পজিশন পাল্টে তিনে নামেন এই অস্ট্রেলিয়ান। কৌশলটি কাজেও দেয়। খেলেছেন ৩৬ বলে ৬১ রানের দুর্দান্ত এক বিনোদন দেওয়া ইনিংস। যে ইনিংসে ‘ডান হাতি’ ওয়ার্নারকে অনেক দিন মনে রাখবে সবাই। আজ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকার বিপক্ষে তিনে নয়, চারে নেমেছিলেন এই ওপেনার। যথারীতি রানের ফল্গুধারা!

আগে ব্যাটিংয়ে নামা সিলেটের হয়ে মোটামুটি ভালোই শুরু এনে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার সাব্বির রহমান ও লিটন দাস। ১৪ বলে ১ ছক্কা ও ৪ চারে ২৭ রান করা লিটন ছিলেন বেশি আক্রমণাত্মক। পঞ্চম ওভারে সাকিব আল হাসান তাঁকে তুলে নেওয়ার পরের ওভারেই বিপর্যয় বাড়ে সিলেটের। ১৬ বলে ১১ রান করা সাব্বির উইকেট দেন আন্দ্রে রাসেলকে। সিলেটের স্কোর তখন ৫.১ ওভারে ২ উইকেটে ৩৮। ওয়ার্নার এখান থেকে টেনেছেন গোটা দলের ইনিংস। ওয়ার্নার ছাড়া সিলেটের আর কেউ ন্যূনতম ত্রিশ রানও করতে পারেননি।

তিনে নামা আফিফ হোসেনের সঙ্গে ৩৩ বলে ৪০ রানের জুটি গড়েন ওয়ার্নার। ১০ ওভার শেষে সিলেটের রান ছিল ২ উইকেটে ৭২। ১৫ ওভার শেষে তা ৫ উইকেটে ১০২। অন্য প্রান্তে উইকেট পরলেও ওয়ার্নার নিজের মতোই ব্যাট করে গেছেন। দুর্দান্ত এই ইনিংস খেলার পথে ৩৭ বলে ফিফটি তুলে নেন ওয়ার্নার।

১৯তম ওভারে আউট হওয়ার আগে দেড় শ ছুঁই ছুঁই (৬ উইকেটে ১৪৯) সংগ্রহ দিয়ে যান সিলেটকে। অস্ট্রেলিয়ান এই ওপেনারের ৪৩ বলে ৬৩ রানের ইনিংসটি মূলত সিলেটের ব্যাটিংয়ের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৫৮ রান তোলে সিলেট।

জবাবে ওপেনার সুনিল নারাইনের ব্যটে ঢাকার শুরুটাও হয় মারমুখি। ১০ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ২০ রানে তাসকিনের বলে এই ক্যারিবীয়ান ধরা পড়েন সাব্বিরের হাতে। হাত খুলে মারার চেষ্টায় একটি করে চার-ছক্কায় ১৩ রান করা রনি তালুকদারকে বোল্ড করেন সন্দীপ লামিচানে।

চারে নামা সাকিব কিছুটা রক্ষণাত্মক শুরু করলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হতে থাকেন মারমুখী। সঙ্গী ডারউইশ রাসুলিও টেষ্টা করেন তাল মেলাতে। আর তাতেই বাধে বিপত্তি। সেই সাব্বিরের হাতে লং লেগে ধরা পড়েন মোহাম্মদ ইরফানের বলে (১৫ বলে ১৯)।

বাকি পথটুকু আন্দ্রে রাসেলকে নিয়ে সাবলীল ব্যাটিংয়ে পাড়ি দেন সাকিব। ৪১ বলে ঢাকা অধিনায়কের অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংসটি ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় মোড়ানো। ২১ বলে ৪ ছক্কা আর ২ চারে ক্যারিবীয়ান তারকা খেলেন ৪০ রানের ঝড়ো ইনিংস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

সিলেট সিক্সার্স : ২০ ওভারে ১৫৮/৮ (লিটন ২৭, সাব্বির ১১, আফিফ ১৯, ওয়ার্নার ৬৩, অলক ০, পুরান ৬, জাকের ২৫, তাসকিন ১, লামিচানে ০*; রাসেল ৩-১-২০-১, বার্চ ৪-০-৪২-৩, সাকিব ৪-০-৩৪-২ , নারাইন ৪-০-৩২-১, আলিস ১-০-২-০, রুবেল ৪-০-২৪-১)।

ঢাকা ডায়নামাইটস : ১৭ ওভারে ১৬৩/৪ (মিজানুর ১, নারাইন ২০, রনি ১৩, সাকিব ৬১*, রাসুলি ১৯, রাসেল ৪০*; তাসকিন ৩-০-৩২-১, ইরফান ৪-০-৩৮-২, লামিচানে ৪-০-২৭-১, আল আমিন ৩-০-৩০-০, অলক ৩-০-৩১-০)।

ফল : ঢাকা ডায়নামাইটস ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা : সাকিব আল হাসান (ঢাকা)।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন