ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ফুল উৎপাদনে বিপ্লব

নয়নাভিরাম দৃশ্য, চাহিদা রয়েছে বিদেশে , ৭০ ভাগ উৎপাদন হয় যশোরে  গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি  নেই রফতানির নীতিমালা

মিজানুর রহমান তোতা | প্রকাশের সময় : ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

সবুজের মাঝে সাদা রজনীগন্ধা আর লাল হলুদ গোলাপের চাদর বিছানো সে এক মনমাতানো অভুতপূর্ব নয়নাভিরাম দৃশ্য। একদন্ড দাঁড়ালে মন জুড়িয়ে যায়। যে কারোরই চোখ ফেরানো হয় কঠিন। বিস্তীর্ণ এলাকার মাঠে মাঠে রং বেরং এর বাহার। যতদুর চোখ যায় শুধু ফুল আর ফুল। এটি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ফুলরাজ্যের। এখানে সারাদেশের মধ্যে ফুল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে। সৃষ্টি হয়েছে বিশাল সম্ভাবনা। সবজির মতো ফুল উৎপাদনেও যশোর শীর্ষস্থান ধরে রাখার প্রাণান্ত চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, উৎপাদনে বিপ্লব ঘটলেও চাষিদের রয়েছে নানা সমস্যা। মূল সমস্যাটা হচ্ছে ফুল রফতানি। ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বিদেশে। কিন্তু রফতানির নীতিমালার অভাবে নামকাওয়াস্তে বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে সবজি হিসেবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক চন্ডীদাস কুন্ডু জানান, দেশের ৭০ভাগ ফুল উৎপাদন হয় যশোরে। আমরা সবসময় মানসন্মত ফুল উৎপাদনে চাষি ও কৃষি কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় করে থাকি।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাগ্রো প্রোডাক্ট প্রসেসিং টেকনোলজি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, ফুল চাষ ও সংগ্রহের সময়কাল সম্পর্কে ফুলচাষিদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। শুধু কোয়ালিটি এনসিউর করলেই হবে না, ফুল ট্রান্সপোর্টে কুলিং সিষ্টেম দরকার। তিনি জানান, পর্যাপ্ত ফুল উৎপাদন হচ্ছে, এর সঠিক বাজারজাত ও রফতানির ব্যাপারে জোর দিলে সম্ভাবনাময় খাতটির স্থায়িত্ব হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, শুধুমাত্র যশোর থেকে বসন্ত দিবস, ভালোবাসা দিবস ও মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে দেড়শ’ কোটি টাকার ফুল বিক্রির টার্গেট নিয়ে ফুলের রাজ্য বেশ ব্যতিব্যস্ত এখন। তাছাড়া সারাবছরে বিভিন্ন দিবস এবং ফুল ব্যবসার জন্য পুরো মৌসুম জুড়ে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। একইসঙ্গে মানসম্পন্ন বীজ, চারা ও কলম ফুলচাষিদের মাঝে সরবরাহ এবং উৎপাদিত ফুল বিদেশে রফতানীর প্রতিবন্ধতা দুর করার সরকারি উদ্যোগ নেয়া এবং যশোরের গদখালীতে ফুল গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও রফতানির নীতিমালা তৈরীর ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে ফুল রফতানিকারক, চাষি প্রতিনিধি ও ফ্লাওয়ার সোসাইটির প্রতিনিধিরা বেশ তৎপর হয়েছেন।
ফুল সংরক্ষণের জন্য ফ্লাওয়ার কোল্ডস্টোরেজের কাজ জোরোশোরে চলছে। ইএসআইডি’র অর্থায়নে ও এলজিইডি’র তত্বাবধানে ফুলরাজ্যে কোল্ডস্টোরেজটি স্থাপন হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক হলে এবং সমস্যাদির সমাধান হলে ফুল উৎপাদনের পাশাপাশি রফতানিতেও রেকর্ড সৃষ্টি হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদেশে রফতানি বৃদ্ধির ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে চেষ্টা করে এখনো কোন ফল পাওয়া যায়নি। বর্তমানে প্রতিবছর গড়ে প্রায় আড়াইশো’ কোটি টাকার ফুল রফতানি হচ্ছে। নীতিমালা হলে এই অংক অনায়াসেই হাজার কোটিতে উন্নীত করা সম্ভব।
ফুলচাষী কল্যান সমিতির সভাপতি জানান, সরকার উদ্যোগী হলে অনায়াসেই ফুল রফতানি করে কাড়ি কাড়ি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। কারণ বাংলাদেশের রজনীগন্ধা, গোলাপ, গ্লাডিউলাস ও জারবেরাসহ বিভিন্ন ফুলের কদর রয়েছে দুবাই, সৌদিআরব ও জর্ডানে। ওইসব দেশসহ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় একচেটিয়া ফুল ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বেঙ্গালোর, পুনা ও তামিলনাড়–। অথচ তাদের চেয়েও অনেক উন্নতমানের ফুল উৎপাদন হচ্ছে বাংলাদেশে। বিশেষ করে যশোরের উৎপাদিত রজনীগন্ধাসহ প্রায় সব ফুলের মান খুবই উন্নত এবং রং উজ্বল ও হৃষ্টপুষ্ট। বর্তমানে সৌদিআরব, দুবাই ও জর্ডানসহ কয়েকটি দেশে ফুল রফতানী হচ্ছে। যা চাহিদার তুলনায় একেবারেই কম এবং তা রফতানীর ক্ষেত্রে দেখানো হচ্ছে সবজি হিসেবে।
সংশিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সারাদেশের ১৯টি জেলায় প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে রজনীগন্ধাসহ বিভিন্ন ফুল চাষ হচ্ছে।। যার সিংহভাগই যশোর এলাকায়। যশোর এলাকার ফুল চাষীরা আবাদ ও উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। যশোর-বেনাপোল সড়কের গা ঘেষা গদখালী এলাকার মাঠে মাঠে বছরের বারোমাসই থাকে নানা জাতের ফুল আর ফুল। বিশ্বে সর্বপ্রথম সৌন্দর্য বৃদ্ধির ঝাউ কলম ফুল আবাদ ও উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টির পর দেশের মধ্যে প্রথম লিলিয়াম ফুল উৎপাদন হচ্ছে গদখালীর মাঠে। ওই ফুলের বীজ আমদানী করা হয়েছে হলান্ড থেকে। শাপলা ফুলের মতো দেখতে লিলিয়াম আবাদ ও উৎপাদন রজনীগন্ধার মতো সম্প্রসারিত হচ্ছে গদখালীর মাঠে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন