ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ২২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

ঢাকার সমস্যা সমাধানে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নাগরিক সমস্যা সমাধানে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহŸান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, নগর উন্নয়নে ৫ বছরের জন্য পরিকল্পনা করলে হবে না। এজন্য ১০০ থেকে ২০০ বছরের জন্য মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে। মন্ত্রী হওয়ার পর গতকাল রোববার প্রথম স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিএসসিসিতে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।
এসময় মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় যথেষ্ট পরিবর্তন হয়েছে। এটা বেগবান করতে এখানে এসেছি। আজকে এসেছি আপনাদের বলার জন্য যে, আসেন একসাথে কাজ করি। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব। আপনাদের পরামর্শ থাকলে সেটাও আপনারা বলেন। কোথাও কোনো সমস্যা হলে সেটা সমাধান করা সম্ভব।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আমরা এক সঙ্গে চলতে এবং কাজ করতে চাই। যেমন মশা নিধন, রাস্তা সংস্কার, খোঁড়াখুঁড়ি- এ কাজগুলো দুই সিটি কর্পোরেশন এবং সেবা সংস্থাগুলোকে এক সঙ্গে করতে হবে। ঘিঞ্জি ঢাকার তাৎক্ষণিক কোনও সমাধান নেই। আমি যদি বলি তাৎক্ষণিক সমাধান আছে তাহলে তা হবে ড্রামাটিক্যাল কথা।
কাউন্সিলরদের তুলে ধরা সমস্যার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, হকার সমস্যা সমাধানে আপনারা একসঙ্গে বসুন, আলোচনা করুন। আমাকে জানান আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। এ সময় স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ওয়াসার এমডিকে নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, খাদ্যে ভেজাল বন্ধে একে নিয়মিত ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে হবে যেখানে কাউন্সিলররাও সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। এ সময় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিইডি) মন্ত্রী তাজুল ইসলামের কাছে সেই পুরনো দাবিগুলোই নতুন করে তুলে ধরে বলেন, নাগরিকদের আধুনিক সুবিধা নিশ্চিতে নগর সরকারের বিকল্প নেই। এ সংস্থার মাধ্যমে নাগরিক সেবা নিশ্চিতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন নগর সরকারের। আমি মন্ত্রীর কাছে এ দাবিটি পুনরায় জানাচ্ছি।
সাঈদ খোকন বলেন, আমাদের মাত্র ৪০ শতাংশ জনবল রয়েছে, যা দিয়ে কোনোভাবেই নাগরিকদের শতভাগ সেবা দেয়া সম্ভব নয়। তাই মন্ত্রীকে বলতে চাই আমাদের প্রয়োজনীয় জনবল দিন। ডিএসসিসির রাজস্ব আয় বাড়াতে মন্ত্রীকে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা ট্যাক্স অ্যাসেসমেন্ট করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের কারণে তা বন্ধ করতে হয়েছিল। আমাদের এ সেবা সংস্থাটিকে সাবলম্বী করতে ওই প্রজ্ঞাপন উঠিয়ে নেয়ার দাবি জানাচ্ছি। এ সময় কাউন্সিলরদের পদমর্যাদা বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান মেয়র সাঈদ খোকন। স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, সমন্বয়হীনতা দূর করতে পারলে ঢাকার কোনো সমস্যা থাকবে না। মেয়রকে আমরা নগরপিতা বলি, কিন্তু একটা ল্যাম্প পোস্ট সরানোর ক্ষমতা তার নেই। একটি শহরে চারটি সংস্থা ফ্লাইওভার বানাচ্ছে, কোনটা কোনদিকে যাবে কেউ জানে না। এভাবে চলতে পারে না। নগর সরকার শক্তিশালী করুন।
ডিএসসিসির ওয়ার্ড কাউন্সিলররা ছাড়াও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এসএম গোলাম ফারুক, স্থপতি রফিক আজাদ, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান, সচিব শাহাবুদ্দিন খান প্রমুখ।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন