ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

নিবন্ধ

চিঠিপত্র : ভূমিকম্পের ভয় নয় চাই সতর্কতা

প্রকাশের সময় : ২৮ জানুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে আতঙ্ক নয় সচেতনতাই এখন সময়ের দাবি। ভূমিকম্প এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যার পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব নয়। ভূমিকম্প রোধের কোনো উপায়ও আমাদের জানা নেই। আমাদের দেশের ইতিহাসে ৯৩ বছর আগে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে সর্বশেষ বড় মাপের অর্থাৎ ৭ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হয়েছিল। ১২৫ বছর আগে মধুপুরে আরেকটি ভূমিকম্প হয়েছিল যার মাত্রা ছিল ৭ এর কাছাকাছি।
গত ৯২ বছরে বাংলাদেশ নামের এ ভূখ-ে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির তেমন কোনো নজির নেই। তারপরও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নানা কারণে। প্রায় একশ বছরের রেকর্ডে দেশ ভূমিকম্পের থেকে নিরাপদ থাকলেও কখন যে সে আঘাত হানবে তা আমাদের জানা নেই। ভূমিকম্পের ইতিহাসের দিক থেকে বাংলাদেশ অনিরাপদ অথবা বড় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বলার অবকাশ নেই। তারপরও সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক থাকাই বাঞ্ছনীয়। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় ভূমিকম্প হলে তা বড় ধরনের বিপদ ঘটাবে। ইমারত নির্মাণ নীতিমালা না মেনে রাজধানীতে বাড়িঘর তৈরি করা হচ্ছে। বড় কোনো ভূমিকম্পের সময় এগুলোই হবে ধ্বংসযজ্ঞের প্রধান শিকার। এ ব্যাপারে নগরবাসী এখনও তেমন সচেতন নয়। ভূমিকম্প প্রতিরোধী বাড়ি ঘর তৈরির ব্যাপারে গড়ে ওঠেনি কোনো সচেতনতা।
রাজধানী ঢাকা এবং এর আশপাশের অপরিকল্পিত নগরায়নের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ব সরকারের। আর মানুষের নাগরিক দায়িত্ব সেই সচেতনতায় সাড়া দেয়া। সেই দায়িত্বে সাড়া দিতে হবে সরকারি বেসরকারি দুই পর্যায়ে থেকেই। দায়িত্ববোধ থাকতে হবে দু’দিকেই। ভূমিকম্পের ঝুঁকি ভয়ে ভোগ্য নয়, নিজেদের রক্ষায় রাজধানী ঢাকার অধিবাসীদের সচেতন করে তুলতে হবে। ভূমিকম্প সম্পর্কে রাজধানীবাসীকে ধারণা দান, অগ্নিনির্বাপন ও প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ভূমিকম্পের সময় ভবন থেকে জরুরিভিত্তিতে কিভাবে বের হওয়া যায় তা আগে থেকে জেনে রাখা এবং ভবন নির্মাণে যাতে সবাই বিল্ডিং কোড মেনে চলেন বা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি হাসপাতালে আহতদের সেবা দানের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ বার্ন ইউনিট চালু করতে হবে।
ভূমিকম্প হলে উদ্ধার কাজ চালানো, আগুন নেভানো, যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার ইত্যাদি সম্পর্কেও আগাম প্রস্তুতি থাকতে হবে।
সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহীম রওনক
ঢাকা।

গ্যাসের অপচয়
লসের নামে বিদ্যুৎ নিয়ে দুর্নীতি, বিদ্যুতের অপচয় বা চুরিজনিত সমস্যাটি অনেক দিনের। এ সমস্যা নিরসনে কর্তৃপক্ষ আজ পর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এরই মধ্যে গ্যাসের অপচয় বা দুর্নীতি বিষয়ক বিভিন্ন খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। দেশে জ্বালানি খাতে ব্যবহারকারী ১০ খাতে প্রতিদিন ২.৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস অপচয় হচ্ছে। এ অপচয়ের খাতগুলো গ্যাস চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে, সার কারখানা, নিট পোশাক কারখানা, শিল্প কলকারখানা, বয়লার গৃহস্থালিতে ব্যবহার বার্নার ইত্যাদি। এতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস অপচয় হচ্ছে। অথচ ইদানীং মানুষ গৃহস্থলির অতি প্রয়োজনীয় কাজেও ঠিকভাবে গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছেন না। বিদ্যুৎ গ্যাস সঙ্কট পূরণ করতে হলে গ্যাস ও বিদ্যুতের অপচয় কড়াকড়িভাবে বন্ধ করতে হবে।
একিউএম মাহফুজউল্লা
২৪৪ উত্তর শাহজাহানপুর
ঢাকা-১২১৭।

ধুমপানমুক্ত দেশ গড়ি
ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এই ক্ষতির চূড়ান্ত ঠিকানা, ক্যান্সার থেকে মৃত্যু। ধুমপানে মৃত্যু জেনেও সরকার টোব্যাকো কোম্পানিগুলোকে বন্ধ না করে মানুষকে ধুমপান করার সুযোগ করে দিচ্ছে। রোগ সৃষ্টিকারী টোব্যাকো পণ্য উৎপন্ন করার মাধ্যমে কার্যত রোগমুক্ত নয় রোগযুক্ত বাংলাদেশ উপহার দেয়া হচ্ছে। ধুমপানমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে ক্যান্সারের মতো বড় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য সর্বপ্রথম টোব্যাকো কোম্পানিগুলোকে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় হাজার চেষ্টা করেও ধুমপানমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব হবে না।
মো. আজিনুর রহমান লিমন
আছানধনী মিয়াপাড়া, চাপানীহাট, ডিমলা, নীলফামারী।

নকল-ভেজাল ওষুধ
ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক এলাকার ফ্ল্যাট বাড়ির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদন ছাড়া বিদেশ থেকে আমদানি করে ঘরে বসে প্যাকেটজাতে কর বাজারজাত করছে নকল ভেজাল ওষুধ। এসব ওষুধের মধ্যে রয়েছে অ্যাম্পিসিলিন, মাল্টিভিটামিন, ক্যালসিয়াম, নানা ওষুধ। আর এ সব ওষুধের বিক্রির সঙ্গে জড়িত আছে এক শ্রেণীর চিকিৎসক অসাধু ব্যবসায়ী, মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ ও ফার্মেসি। নিরীহ ও সাধারণ মানুষ এ সব নকল ও ভেজালে ওষুধ সেবন করে জনগণ নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগছে। আমরা আশা করব, এ সব ভেজাল ও নকল ওষুধের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।
একিউএম মাহফুজ উল্লা
২৪৪ উত্তর শাহজাহানপুর
ঢাকা-১২১৭।

হাতিরঝিলের বেহাল অবস্থা
অপরিচ্ছন্নতা, হকারদের দৌরাত্ম, উল্টোপথে যানবাহন চলাচল, ড্রাইভিং শিখানো এবং সন্ধ্যার পর অসামাজিক কাজকর্মে হাতিরঝিলের সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। উল্লেখ্য, এই হাতিরঝিল প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ খুব কঠিন ছিল। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক ইচ্ছার কারণেই এই প্রকল্প আলোর মুখ দেখতে সক্ষম হয়েছে। এখনো এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এই হাতিরঝিলের প্রকল্পকে গুলশান বনানী লেকের সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং হাতিরঝিলের পানি পরিশোধের মাধ্যমে দুর্গন্ধমুক্ত করার কথা রয়েছে হাতিরঝিলের। নিরাপত্তা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি একটু গুরুত্বে সঙ্গে দেখা উচিত হবে। এর রক্ষণাবেক্ষণে উদাসীনতাকে প্রশ্রয় না দেয়ার অনুরোধ জানাই। মানুষ যে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে হাতিরঝিলে চলাচল করতে ও ঘুরে বেড়াতে পারে সে দিকে দৃষ্টি দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানাই।
মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী।

প্রতারণার মাধ্যম বিকাশ
বাংলাদেশে টাকা আদান-প্রদানের সুবিধার্থে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি ‘বিকাশ’-এর সুবিধাও অনেক এগিয়ে। জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে বিকাশের সুবিধা। সুবিধার দিক থেকে বিকাশ এগিয়ে থাকলেও অসুবিধার সংখ্যাও কিন্তু কম নয়। প্রতারক চক্র টাকা আদান প্রদানের সুবিধার্থে বিকাশকেই বেছে নিচ্ছে। মানুষকে জিম্মি করে বিকাশের মাধ্যমে খুব সহজেই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। মোবাইলে কথা বলে লোভনীয় অফার দিয়ে টাকা কামানোর মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছে বিকাশকে। টাকা আদান প্রদানের সুযোগ সুবিধা বেশি হওয়ার কারণে গুম, খুন, জিম্মি, সন্ত্রাস, প্রতারণা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিকাশের বিরোধিতা করছি না। তবে, বিকাশ একাউন্টকারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অনুরোধ করছি, যাতে প্রতারণা চক্রদের দ্রুত ধরিয়ে আইনের আওতায় আনা যায়। বিষয়টি দেখার জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
মো. আতিকুর রহমান
চাপানীহাট, ডিমলা, নীলফামারী।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন