ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ব্যয় হ্রাসে ইস্পাত ও কয়লার অতিরিক্ত উৎপাদন কমাচ্ছে চীন

প্রকাশের সময় : ২৮ জানুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : চীন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন ১০০ থেকে ১৫০ মিলিয়ন টন কমাবে, চীনা মন্ত্রিসভার এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিএবং বিশ্বের বৃহত্তম ইস্পাত এবং কয়লা উৎপাদনকারী দেশটি তাদের অতিরিক্ত উৎপাদন ১০ থেকে ১৫ কোটি টন কমাবে। চীন অর্থনৈতিক বিপর্যয় মোকাবেলার লক্ষ্যে অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার ব্যয় হ্রাসের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার আলোকেই ইস্পাত এবং কয়লার অতিরিক্ত উৎপাদন কমানোর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ইস্পাত ও কয়লার অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা কমানোর যে সিদ্ধান্ত চীন নিয়েছে, তা ভারতের মতো দেশগুলোর জন্য লাভজনক হবে। এর ফলে চীনের উদ্বৃত্ত ইস্পাত ও কয়লা ভারতের মতো দেশগুলোতে রফতানির প্রবণতা কমবে, যা ভারতীয় ইস্পাত ও কয়লা উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোর পক্ষে যাবে।
চীনের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে কয়লা এবং ইস্পাত শিল্পক্ষেত্রের অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত কমানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ২০১৫ সালে চিনের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি বিগত ২৫ বছরের সর্বনিম্ন মাত্রা ছুঁয়েছে। গত বছর চীনের মোট জাতীয় উৎপাদন ৬.৯ শতাংশ হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সে দেশের সরকার অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কতদিনের মধ্যে ওই উৎপাদন ক্ষমতা কমানো হবে সে বিষয়ে চীনের স্টেট কাউন্সিল নির্দিষ্ট কিছু না জানালেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা ৯ কোটি টন কমিয়ে ফেলেছে বলে জানিয়েছে সরকার পরিচালিত সংবাদসংস্থা জিনহুয়া। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বিবৃতি অনুযায়ী ইস্পাতের থেকেও কয়লার উৎপাদন ক্ষমতা আরও বেশি কমানো হবে। চীন বিশ্বের বৃহত্তম কয়লা প্রস্তুতকারী দেশ হওয়ার পাশাপাশি বৃহত্তম গ্রাহকও।
কাঁচামাল জোগানের কাঠামোগত সংস্কারকে গ্রহণযোগ্য ও তা প্রসারের জন্য ইস্পাত ও কয়লার অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এর ফলে ওই দুই শিল্পক্ষেত্রই সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পাবে এবং উন্নয়ন হবে। ২০১৫ সালে চিনের অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন ২.৩ শতাংশ কমে ৮০৪ মিলিয়ন টন হয়েছে। দীর্ঘ ৩৪ বছরের মধ্যে এই প্রথম চীনের ইস্পাত শিল্পের বৃদ্ধি মার খেয়েছে। ইস্পাত এবং কয়লা ক্ষেত্রে নতুন উৎপাদন ক্ষমতা যোগ করার বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলেও বিবৃতিতে জানিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা। তবে, এই দুই ক্ষেত্রের ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের নতুন কাজের সন্ধান দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শুরু করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণে নতুন ইস্পাত ও কয়লা প্রকল্পে ছাড়পত্র না দেওয়ার পাশাপাশি, পুরোনো অনুপযুক্ত কারখানাগুলোকে বন্ধ করা হবে। কয়লা শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় ১৮ লক্ষ কর্মীর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার সঙ্গে ৩৬০ মিলিয়ন টন উৎপাদন ক্ষমতা বিশিষ্ট পুরোনো কারখানা বন্ধ করা হবে বলেও জানিয়েছে জিনহুয়া। এ মাসের গোড়ায় সরকার পরিচালিত ইস্পাত সংস্থা বাওশান আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি তাদের যে আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ২০১৫ সালে সংস্থাটির নিট মুনাফা ৮৩ শতাংশ কমে গেছে। দুর্বল চাহিদা, ইস্পাতের দাম কমে যাওয়া, কাঁচামালের দাম কমে যাওয়া এবং বৈদেশিক মুদ্রায় ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়াই মুনাফা কমে যাওয়ার কারণ। ওয়েবসাইট।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন