শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

খেলাধুলা

মোহামেডানকে উড়িয়ে দিলো আবাহনী

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১ মার্চ, ২০১৯, ১২:১০ এএম

ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) মর্যাদার লড়াইয়ে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে উড়িয়ে দিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। গতকাল বিকেলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে আবাহনী ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে মোহামেডানকে। বিজয়ী দলের হয়ে নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবা, কোরিয়ান মিডফিল্ডার মিনহিয়োক কো এবং হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড ফিলস বেলফোর্ট একটি করে গোল করেন। এই জয়ে ঢাকা আবাহনী নয় ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয়স্থানেই রইলো। আট ম্যাচে ৫ পয়েন্ট পাওয়া মোহামেডানের অবস্থানে দশমস্থানে।
বিংশ শতাব্দির শেষ দিকেও ঢাকার ফুটবলে মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচ মানে ছিল উচ্ছাস, উত্তেজনা, মর্যাদার লড়াই অথবা সম্মান তুলে আনার মিশন। এ ম্যাচকে ঘিরে তখন পুরো দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মাঝেই থাকতো উন্মাদনা। মোহামেডান-আবাহনীর মর্যাদার লড়াইয়ে কে হারবে অথবা কারা জিতলো- এ আলোচনা থাকতো সর্বত্রই। কিন্তু বর্তমানে প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বছরের পর বছর জাতীয় দল বিভিন্ন টুর্নামেন্টে ব্যর্থ হওয়ার কারণে বলা যায়, দেশের ফুটবলের এখন পড়ন্ত যৌবন। ফলে লাল-সবুজ ফুটবলের জনপ্রিয়তা নেমে শূণ্যের কোঠায় এসে থেমেছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মোহামেডানও নামছে নীচের দিকে। যেখানে বিপিএলে আবাহনী লড়াই করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য, সেখানে মোহামেডানকে লড়তে হয় অবনমন ঠেকাতে। দেশের ফুটবলে পেশাদারিত্ব আসার পর আবাহনী ছয়বার বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন হলেও মোহামেডান একবারও শিরোপার দেখা পায়নি। লিগের একাদশ সংস্করণে সাদাকালোদের অবস্থা তো খুবই নাজুক। আট ম্যাচ শেষে তারা মাত্র একটি জয় পেয়েছে। বিপরীতে নয় ম্যাচে আবাহনীর জয় সাতটি। এতেই অনুমেয় দু’দলের শক্তির পার্থক্য।
কাল মর্যাদার লড়াইয়ে আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই প্রাণপোনে লড়েছে মোহামেডান। কিন্তু এক পর্যায়ে গিয়ে চাপ সামলাতে পারেনি তারা। আবাহনীর রক্ষণদূর্গে বেশ কিছু আক্রমণ করেও সফল হয়নি সাদাকালোরা। উল্টো একের পর এক গোল হজম করে শেষ পর্যন্ত বিধ্বস্ত হয়েই মাঠ ছাড়ে ঐতিহ্যবাহীরা। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে প্রথম গোল পায় আবাহনী। এসময় বক্সের মাথা থেকে আবাহনীর নাবীব নেওয়াজ জীবনের শট ডান বারে লেগে ফেরত আসে। ফিরতি বলে গোলবারের খুব কাছ থেকে শট করে গোল করেন সানডে সিজোবা (১-০)। গোল হওয়ার পর মোহামেডান গ্যালারিতে বেশ উত্তাপ দেখা যায়। মাঠের ফুটবলাররাও রেফারির সঙ্গে কিছুটা বাক বিতন্ডায় জড়ান। তাদের দাবী, গোলটি অফসাইড ছিল। তবে রেফারি মিজানুর রহমান নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। তবে ৪২ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে মোহামেডানের ডিফেন্ডার লিংকন শট নিলে তা দক্ষতার সঙ্গেই গ্রিপে নেন আবাহনী গোলররক্ষক সোহেল। এগিয়ে থেকে বিরতিতে গিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে আরো দু’গোল আদায় করে নেয় আবাহনী। বিরতির পরও আক্রমণের ধারায় ছিল আবাহনী। তবে গোল শোধে মরিয়া মোহামেডানও চেষ্টা করে ম্যাচে ফিরতে। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় তা আর হয়নি। উল্টো গোল হজম করতে হয় তাদের। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে বক্সের প্রায় দশ গজ দূরে ফ্রি কিক পায় আবাহনী। তবে আফগান ফরোয়ার্ড মাসীহ সাইঘানীর স্পট কিক জালে জড়ায়নি। পরের মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুন করেন আবাহনীর কোরিয়ান মিডফিল্ডার মিনহিয়োক কো। বাঁ প্রান্ত দিয়ে জোড়ালো শটে সরাসরি সাদা-কালোদের জাল কাঁপান তিনি (২-০)। ৬২ মিনিটে মোহামেডানের নিশ্চিত গোল রুখে দেন গোলরক্ষক সোহেল। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে তৃতীয় গোল পায় ঢাকা আবাহনী। এসময় রুবেল মিয়ার কর্ণারে বক্সের ভেতর বল পেয়ে মাথা নিচু করে হেড নেন হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড ফিলস বেলফোর্ট। তার এই হেড পৌঁছে যায় জালে (৩-০)। ম্যাচের বাকি সময় আর কোনো গোল না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আবাহনী।
একই ভেন্যুতে রাতে অনুষ্ঠিত দিনের অন্য ম্যাচে বসুন্ধরা কিংস ২-০ গোলে হারায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবকে। বিজয়ী দলের হয়ে কিরগিজ মিডফিল্ডার বখতিয়ার দুশবেকভ ও কোস্টারিকার মিডফিল্ডার ড্যানিয়েল কলিনড্রেস একটি করে গোল করেন। এই জয়ে বসুন্ধরা আট ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষেই থাকলো। সমান ম্যাচে মাত্র ৩ পয়েন্ট পেয়ে তলানীতে ব্রাদার্স।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন