ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

মংলা বন্দরে জাহাজ আগমনের রেকর্ড সৃষ্টি

মংলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১ মার্চ, ২০১৯, ৯:২৪ পিএম | আপডেট : ৯:৩৭ পিএম, ১ মার্চ, ২০১৯

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে মংলা বন্দরে একমাসে সর্বোচ্চ ১০০টি জাহাজ আগমনের রেকর্ড ছুঁয়েছে। মংলা বন্দর সৃষ্টির ৬৮ বছরের ইতিহাসে এই রেকর্ড সংখ্যক জাহাজের আগমন-নির্গমন ঘটেছে। দেশে আমদানি-রপ্তানী বৃদ্ধি, বন্দর ব্যবহারকারিদের সদিচ্ছা এবং সরকারের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের ফলে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। প্রস্তুতি চলছে, পদ্মা সেতু নির্মান কাজ শেষে বন্দরের উপর বাড়তি চাপ মোকাবেলার। দাবী উঠেছে পদ্মা সেতুর সাথে তাল মিলিয়ে দ্রুত গতিতে বন্দরের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড ও জন সংযোগ কর্মকর্তা মোঃ মাকরুজ্জামান জানান, ২০১৯সালের ফেব্রুয়ারিতে মংলা বন্দরে একমাসে সর্বোচ্চ ১০০টি জাহাজ আগনের রেককর্ড ছুয়েছে। যা বন্দর সৃষ্টির সাত দশকের মধ্যে এক মাসে সবচেয়ে বেশী জাহাজ আগমনের রেকর্ড। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর হিসেবে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তথা বাংলাদেশের সামগ্রীক অর্থনীতিক উন্নয়নে এ বন্দর ব্যপক ভূমিকা রেখে চলেছে। ২০০১ হতে ২০০৮ অর্থ বছর পর্যন্ত এ বন্দর নানামুখী প্রতিকুলতার কারণে লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। বিগত ২০০৭-২০০৮ অর্থ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ৭টি জাহাজ ও পুরো অর্থ বছরে ৯৫টি জাহাজ আগমন করেএবং ২০০৪-২০০৫ অর্থ বছরে বন্দর ১১ কোটি টাকা লোকসান হয়। ফলে মংলা বন্দর লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দ্বায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে মংলা বন্দর উন্নয়নের জন্য সরকার অগ্রাধিকার ও বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে। এ বন্দর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে কাজ শুরু করে ফলে ক্রমান্বয়ে মংলা বন্দরে সর্বোচ্চ বিদেশী জাহাজ আগমনের রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক ( ট্রাফিক ) মোস্তফা কামাল বলেন, বন্দর প্রতিষ্ঠার ৬৮ বছর পর গেল ফেব্রুয়ারি মাসে রেকর্ড সংখ্যক (একশোটি) পন্যবাহী জাহাজের আগমন-নির্গমন ঘটেছে। যেসব পন্যবাহী জাহাজের আগমন-নির্গমন ঘটেছে তা হলো সার, কয়লা, ক্লিংকার, জিপসাম, স্টোন, মেশিনারীজ, গাড়ী, পাট, চিংড়ি ও কনটেইনার পন্য। একশোটি জাহাজ আগমন একটি ইতিহাস। এর ফলে বন্দরের ব্যবস্থাপনার দক্ষতা প্রমাণিত হয়। পদ্মা সেতু নির্মান শেষে যে বাড়তি চাপ পড়বে বন্দরের উপর তার জন্য এখনই উন্নয়নমূলক প্রকল্প গুলি দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা উচিত।
বন্দর ব্যবহারকারী মেসার্স নুরু এন্ড সন্সের মালিক এইচ এম দুলাল বলেন, বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্দর ব্যবহার বেড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর চেয়ারম্যান কমোডর ফারুক হাসান বলেন, দেশে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ব্যবহারকারীরা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠছে এবং সরকারের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের ফলে জাহাজ আগমন-নির্গমনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্দর সচল করতে নাব্যতা সংকট দূর করার চেষ্টা চলছে। তিনি আরো জানান, মংলা বন্দরের জন্য গত বুধবার একনেক’র সভায় ৭৫টি কার্গো এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি ক্রয় করার প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। তিনি আরও বলেন,মংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিরলক্ষ্যে ৪৫৪ কোটি ৪৭ লক্ষ ২০ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০০৯ হতে ২০১৭ পর্যন্ত মোট ৯টি উন্নয়ন প্রকল্প এবং ৪টি উন্নয়ন কর্মসূচি সমাপ্ত হয়েছে। বর্তমানে ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে ৫ টি প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন এবং ৪টি প্রকল্প ডিপিপি প্রনয়ানাধীন রয়েছে। মংলা বন্দর ব্যবহারকারীদের দক্ষ ও দ্রুত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় সুবিধাদি সৃষ্টি করে যার হয়েছে এছাড়া চলমান প্রকল্প সমূহ সম্পন্ন হলে রামপাল প্রকল্প পর্যন্ত বিদেশী জাহাজ যাতায়াত করতে পারবে। ভিটিএমআইএস এর মাধ্যমে সহজেই বন্দরের জাহাজ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা যাবে। জাহাজে সূপেয় পানি সরবরাহসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্টও সংগ্রহ করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে। পদ্মা ব্রীজ নির্মাণের পর রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুসহ অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে উঠলে বন্দরে জাহাজের আগমন বৃদ্ধির সাথে সাথে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।


এই রেকর্ড সংখ্যক জাহাজ আগমন-নির্গমন বিষয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, বিএনপি সরকারের আমলের মৃত ঘোষিত মংলা বন্দর আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ঘুরে দাড়িয়েছে এবং লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় মংলা বন্দরের ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। আ্ওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলেই মংলা বন্দরের উনśয়ন হয়। অচিরেই মংলা বন্দর সিঙ্গাপুরে পরিণত হবে।
এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের উপমন্ত্রী (মংলা-রামপালের সংসদ সদস্য) বেগম হাবিবুন নাহার বলেন, মংলা বন্দরের কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মংলা-রামপালের জনগন ঋণী। অনেক গুলি মেগা প্রজেক্ট মংলা-রামপালে বাস্তবায়িত হচ্ছে। পদ্মাসেতুর বা¯বায়নের সাথে সাথে মংলা বন্দরের ব্যবহার কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে। বন্দর ব্যবহারকারীরা মনে করছেন উন্নয়নের মহাসড়কে মংলা বন্দর সম্পৃক্ত। সরকারের আন্তরিকতায় বন্দরে সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থানসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটবে। জিডিপিতে আগের তুলনায় মংলা বন্দরের অবদান বৃদ্ধি পাবে। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে মংলা বন্দর যথাযথ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবে। মংলা বন্দরে এক মাসে একশতটি জাহাজ আগমনের রেকর্ড।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন