ঢাকা, রোববার ২১ জুলাই ২০১৯, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

বগুড়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কার ৩০

সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ

মহসিন রাজু, বগুড়া থেকে : | প্রকাশের সময় : ৫ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

বগুড়ায় দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির যেসব নেতা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে অংশ নিয়েছে এমন ৩০ নেতা কর্মিকে বহিষ্কারের পাশাপাশি তারা যাতে নির্বাচনে জিততে না পারে সে ব্যাপারে তৎপর হয়ে উঠেছে দলের একটি অংশ। এতে বিক্ষুদ্ধ ও হতাশ হয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় বিরুপ মন্তব্য করছেন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীরা।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই স্থানীয় বিএনপির সুপারিশ মোতাবেক বগুড়া সদর উপজেলায় সম্ভাবনাময় প্রার্থী বগুড়া সদর বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেলকে বহিষ্কার করা হয়। এরপরে বহিষ্কার করা হয় জেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি মাছুদুর রহমান হিরু মন্ডল, জেলা বিএনপির সদস্য টিপু সুলতান, সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক গোলাপী বেগম, সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক লিপন, সোনাতলা উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি রঞ্জনা খান, সাংগঠনিক সম্পাদক নয়ন তারা, শিবগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি বিউটি বেগম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রাফি পান্না, নন্দীগ্রাম উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো. আলেকজান্ডার, নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি একে আজাদ, কাহালু উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি শাহাবুদ্দিন, কাহালু উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি মমতাজ আরজু কবিতা, ধুনট পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আকতার আলম সেলিম, ধুনট পৌর বিএনপির সভাপতি আলিমুদ্দিন হারুন, সদর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি নাজমা আক্তার, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম গফুর, শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল বাশার, শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেরুল ইসলাম, শাজাহানপুর উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ, শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলেখা বেগম, কোহিনুর বেগম, বিএনপি নেত্রী অ্যাডভোকেট রহিমা খাতুন মেরি, জেলা ছাত্রদলের সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মেহেরুল আলম মিশু, বিএনপি নেতা আনোয়ার এহসানুল বাশার জুয়েল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সুরাইয়া জেরীন রনি, গাবতলী উপজেলা মহিলা দলের সদস্য সহমিনা আকতার রুমা এবং গাবতলী উপজেলা বিএনপি নেতা শ্যামল সরকার।

এছাড়াও শিবগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে জাপা মনোনীত প্রার্থী ফিরোজ আহম্মেদ রিজুকে সমর্থন দেয়ার অভিযোগে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলামকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বগুড়া জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রেস রিলিজ সূত্রে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে সাংগঠনিক শৃংখলা ভঙ্গ ও সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগ আনা হলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীরা তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। নিজের ফেসবুক একাউন্টে বগুড়া সদরের চেয়ারম্যান প্রার্থী রুবেল লিখেন, বগুড়া সদরের উপজেলা চেয়ারম্যান হবেন একজন আওয়ামী লীগার তা তার পক্ষে মেনে নেওয়া কষ্টকর। তাই তিনি দল থেকে অব্যাহতি নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। অথচ শুধু তাকে হারাবার এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে বহিষ্কারাদেশ ফলাও করে প্রচার করে প্রতিপক্ষের হাতকে শক্তিশালী করা হয়েছে।

শিবগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী বিউটি বেগমও অনুরুপ অভিযোগ তুলে বলেন, তার দলের কিছু ইর্ষাকাতর নেতা তাকে হারিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর হাতকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। বেশ কয়েকজন প্রার্থী দল থেকে বহিষ্কৃত হবার পর কিছু বিএনপি নেতা কর্তৃক তা ফলাও করে ভোটারদের মাঝে প্রচারণা চালাবার বিষয়টিকেই তারা বরং সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, বগুড়ার আদমদীঘী ও শেরপুর উপজেলায় যে দুজন আওয়ামী লীগ নেতা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান হলেন তাতে বিএনপি নেতাদের ইনডাইরেক্ট সাপোর্ট আছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন