ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬, ২১ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

শিক্ষাদিক্ষা

জাবি’র ডাইনিংয়ের অস্থায়ী কর্মচারী ৩৫ বছরেও স্থায়ী হয়নি চাকরি

জাবি সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৬ মার্চ, ২০১৯, ৭:০৫ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার অস্থায়ী ডাইনিং কর্মচারী রোকেয়া বেগম। মাসিক পঞাশ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করেন ৩৫ বছর আগে। এখন তার বয়স ৬৫। বর্তমান তার বেতন ৮ হাজার ৪শ টাকা। এই টাকা দিয়ে তার সংসার তো দূরের কথা নিজেই চলতে পারে না। ছলছলে অশ্রুভেজা চোখ নিয়ে বিলাপ করে কথাগুলো বলছিলেন রোকেয়া বেগম।

রোকেয়া বেগম আরো বলেন, ‘আমার এই দুই হাত দিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাফেটেরিয়ার প্রথম তালা খুলেছি। দীর্ঘ ৩৫ বছর পার হয়েছে। এখন আমি খুনখুনে বুড়ি। কিন্তু আজো আমার চাকুরি স্থায়ী হয়নি। স্যারেরা আমার আশ্বাস দিয়ে রেখেছে। কিন্তু কিছুই করেনি। স্যারেরাই আমাগোর কপাল খাইছে। মরি আর বাচি রাস্তায় নামছি যখন একটা কিছু দেখেই ছাড়াবো’।

বুধবার বিকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই বয়োবৃদ্ধ নারী এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে অস্থায়ী ডাইনি হল কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সহ সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের বেতনের কথা উল্লেখ করতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। এমন হৃদয়বিদায়ক পরিস্থিতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা মরার আগে আমাদের চাকুরির স্থায়ীত্ব দেখে যেতে চাই। আমরা আমাদের শ্রমের ন্যয্য মূল্য চাই। আমরা যে বেতন পাই তাতে আমাদের সংসার চলেনা।’
এর আগে দুপুর ১২টায় কর্মচারী সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্ত্বর থেকে একটি মিছিল বের করে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে শেষ করে। সেখানে উপাচার্য বরাবর দুই দফা দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেয়। দাবি দুটি হলো- ডাইনিং কর্মচারীদের চাকুরি স্থায়ীকরণ ও হলের ডাইনিংয়ে খাবারের মান বাড়াতে ভর্তুকি প্রদান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির সভাপতি বলেন, আমরা চাকুরিতে প্রবেশ করি মাত্র চার হাজার টাকায়। আর চাকুরির বছর ৩০ হলে তারপর ৮ হাজার ৪শ আশি টাকা বেতন হয়। অবার অনেকেই ২শ আশি টাকায় চাকুরি শুরু করেছে। ২৭ বছর চাকুরির বয়স হলেও এখন তারা মাত্র ৪ হাজার টাকা বেতন পায়।’ এই বেতনে সংসার চালানো অসম্ভব দাবি করে দ্রুত তাদের স্থায়ীকরণ করে ন্যায্য বেতন দাবি করেন।

তাদের স্থায়ীকরণ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, ‘তাদের স্থায়ী করার কোন সুযোগ নেই। তবে অনেক আগের একটা সিদ্ধান্ত আছে যে, বিভিন্ন হলে স্থায়ী লোক নিয়োগ করার ক্ষেত্রে তাদের বয়সের বিষয়ে শিথিল করে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। স্মারকলিপি আমার হাতে আসার পর বাকি মন্তব্য জানাতে পারবো।’
অস্থায়ী ডাইনিং কর্মচারী সমিতির এ দাবিতে একাত্মতা প্রকাশ করে তাদের পাশে থাকার অঙ্গিকার করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রফ্রন্ট। ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ দিদার বলেন, ‘তাদের দাবি যৌক্তিক। তারা অধিক শ্রম দিয়ে কম বেতনে চাকুরি করে মানবেতর জীবন যাপন করেন। তাই তাদের দাবি মানতে প্রশাসনকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন