ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৫ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ইউএসএআইডির উন্নয়ন কর্মসূচি

কূটনৈতিক সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৯ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার পার্বত্য চট্টগ্রাম সফরে ইউএসএআইডির গুরুত্বপূর্ণ কিছু কর্মসূচি পরিদর্শন করেন। চলতি সপ্তাহে তিনি রাঙামাটির জনগণ, স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। ইউএসএআইডির মিশন পরিচালক ডেরিক ব্রাউন এসময় তার সঙ্গে ছিলেন।
এসব সাক্ষাত ও আলোচনায় রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী অংশীদারদের সাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের কাজে সহযোগিতা করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
সফরকালে রাষ্ট্রদূত মিলার স্থানীয় লোকালয়ে টেকসই জীবিকার ব্যবস্থা, জীববৈচিত্র্য ও পানির উৎসের জন্য অনুকূল বন ব্যবস্থাপনা এবং উপার্জন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউএসএআইডির কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করেন। ইউএসএআইডি শাকসব্জি চাষ এবং হাঁস, মুরগি,শূকর ও ছাগল পালনের মাধ্যমে স্থানীয় ২৪ হাজার মানুষের জীবিকা অর্জনে সহায়তা করেছে। ইউএসএআইডির কর্মসূচি এখানকার মানুষের জন্য নিরাপদ পানীয় পাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি করেছে। অন্যদিকে কাঠ ও অন্যান্য বনজাত পণ্যের ওপর এলাকাবাসীর নির্ভরশীলতা হ্রাস করেছে। ইউএসএআইডি বাংলাদেশ বন বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মিলে সংরক্ষিত বনে ৬২৫ হেক্টর জমিতে বৃক্ষরোপনও করেছে। এ বছর আরও ৯২০ হেক্টরে পুনঃবনায়ন করা হবে।
রাষ্ট্রদূত মিলার এ অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার দক্ষতা বৃদ্ধিতে চলমান প্রচেষ্টা সম্পর্কেও অবহিত হন। রাষ্ট্রদূত মিলার ও মিশন পরিচালক ব্রাউন জরুরি সেবা কর্মীদের জন্য ইউএসএআইডির প্রশিক্ষণ দেখতে রাঙামাটি সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এই প্রশিক্ষণ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল জুড়ে কোন দুর্যোগের পর বড় ধরনের হতাহতের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাসপাতাল কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। মিলারের এই সফর বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির সহযোগিতার আয়োজন করা হয় ।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইউএসএআইডি-র মাধ্যমে ১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে ৭শ’ কোটি ডলারের বেশি দিয়েছে। ২০১৮ সালে ইউএসএআইডি উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রায় ২১ কোটি ৯০ লাখ ডলার দিয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও চর্চাকে এগিয়ে নেওয়া, পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে এ অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন