বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ০৬ মাঘ ১৪২৮, ১৬ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

রিজার্ভ চুরি ও জয়কে নিয়ে আলোচনা ধামাচাপা দিতে সরকারের আসলাম নাটক-রিজভী

প্রকাশের সময় : ১৮ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রীর ছেলে জয়ের তিনশ’ মিলিয়ন ডলার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) অর্থ লোপাটের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই সরকার আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে নাটক সাজিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, তিনশ’ মিলিয়ন ডলারের যে ঘটনাটি দেশব্যাপী প্রচারিত, এটা নিয়ে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে কথা। তারপর রাজকোষ চুরি। এখানেও সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম এসেছে। এটা নিয়ে সরকার প্রচ- সমালোচনার মুখে পড়েছে, একটা কোণঠাসার মধ্যে পড়েছে। এটাকে কাউন্টার করার জন্য এখন আসলাম চৌধুরীর একটা নাটক সাজিয়েছে। এটা করা হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকারের শুধু বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য; ইসরায়েল, ইসরায়েলÑএই কথাগুলো বলার জন্য।
ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির সদস্য মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর একটি ছবি সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই গত রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার খিলক্ষেত থেকে পুলিশ আসলামকে গ্রেফতার করে। গত সোমবার তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। সরকারের তরফ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, আসলাম চৌধুরী ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।
সরকার উৎখাতের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার বলছে গোয়েন্দা সংস্থার লোকের সঙ্গে আসলাম চৌধুরী বৈঠক হয়েছে। তিনি (আসলাম চৌধুরী) একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক কাজে ভারত গেছেন। যদি গুপ্তচরের সাথে একজন রাজনৈতিক দলের নেতার আলোচনা হয়ে থাকে, সেই ছবি কি প্রতি ঘণ্টায় ফেসবুকে পোস্ট করবে, এটা কেউ বিশ্বাস করবে না। এটা শুধু বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য বলা হচ্ছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের সাথে ভারতের নিবিড় সখ্যতা। যারা আজকে সরকারে আছেন, তারা যে নির্বাচিত নন, এটা ভারত জানে ও বার বার তাদের সমর্থন ব্যক্ত করছে। সেই ভারতের মাটিতে বসে বিএনপির একজন লোক গিয়ে বাংলাদেশ সরকার উৎখাতের ব্যাপারে ষড়যন্ত্র করবে, এটা হাস্যকর ছাড়া আর কিছু হতে পারে। এটা তামাশা।
এখন চারদিক থেকে এই সরকার যে পতনের শেষপ্রান্তে এসে পড়েছে। সেখান থেকে উদ্ধার করার জন্য কোনো কিছু ইস্যু পাওয়া যায় কিনা, এ ধরনের খোঁড়া ইস্যু সামনে তোলার চেষ্টা করছেন।
আসলাম চৌধুরীর বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ‘একপেশে’ সংবাদ হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেখুন কিছু কিছু মিডিয়াÑঅনেক মিডিয়ার মালিকদের তো আমরা জানি। দেখা যাচ্ছে, ঘুরে-ফিরে এই কথাটা (সরকার উৎখাত) বলছে। গতকাল যখন বিবিসি বাংলায় শুভজ্যোতি ঘোষের যে রিপোর্টটি প্রকাশ হলো, তখন এটা তো আমরা প্রচার করতে দেখলাম না।
আমি আপনাদের (রিপোর্টার) বলছি না। আপনারা সংবাদ কর্মী, আপনারা সাংবাদিক। কিন্তু আপনাদের মালিকরা কে কী করেন, তা তো আমরা জানি। তাদের মিডিয়াতে বারবার ঘুরে-ফিরে কায়দা করে এ বিষয়টি দেখানো হচ্ছে, বানিয়ে বানিয়ে বলা হচ্ছে। এ থেকে বোঝা যায় সরকারের উদ্দেশ্য কী?
রিজভী বলেন, আমরা বলতে চাই, ভারতের মাটিতে গিয়ে বাংলাদেশের ব্যাপারে ষড়যন্ত্র করবে, এটা হাস্যকর কিছু হতে পারে। এটা তামাশা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে রিজভী বলেন, সরকারের বিভিন্ন অনাচার আর অপকীর্তির বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া রোষানলে পড়েছেন। তার বিরুদ্ধে দেয়া হয়েছে অসংখ্য মিথ্যা মামলা, যা সম্পূর্ণ চক্রান্তমূলক।
ব্যারিস্টার রফিকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলাসমূহ প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবিও জানান তিনি।
এছাড়া দলের ঘোষিত রোববার ও সোমবারের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পটুয়াখালী, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বরিশাল, খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানে মিছিলে পুলিশি হামলা ও গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবি জানান রিজভী।
আগামী ২৮ মে ইউনিয়ন পরিষদের পরবর্তী ধাপের নির্বাচন ও আগামী ২৫ মে পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন স্থানে বিরোধী প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা, নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি হুমকি প্রদর্শন করছে বলেও অভিযোগ করে রিজভী বলেন, এখন দেশে নির্বাচন অজানা গন্তব্যে যাত্রা করছে। ভোটারবিহীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুষ্কৃতকারীদের বেআইনি বন্দুকের শাসন জারি করার কারণেই চলমান নির্বাচনগুলোতে বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে। ইউপির পঞ্চম ধাপেও ৪২ জন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন।
সরকার অভিনব নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তোলার কারণেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়জয়াকার। ভোটারবিহীন সরকারের শুভ ইচ্ছার ষোলকলা পূর্ণ করেছে তাদের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন
সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালাম, শিরিন সুলতানা, আব্দুস সালাম আজাদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আকম মোজাম্মেল হক, সাইফুল ইসলাম পটু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন