ঢাকা সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৫ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

সরিষাবাড়ীতে দাফনের ২২দিন পরে কবর থেকে লাশ উত্তোলন

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১২ মার্চ, ২০১৯, ৫:৩১ পিএম

সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ফুলদহ গ্রামের কৃষক আঃ ওয়াহেদের ছেলে কাঠের ব্যবসায়ী ফজলুল হককে গত ১৯ ফেব্রুয়ারী দাফন করার ২২দিন পর মঙ্গলবার সকালে তার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট সাইফুল ইসলাম ও মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এস আই রাকিবুল হাসান । উল্লেখ্য গত ১৮ই ফেব্রুয়ারী রাত ৮টায় দিগপাইত থেকে জামালপুর যাওয়ার পথে সিএনজি পিক আপ ভ্যানে সংঘর্ষে নিহত হয় ব্যবসায়ী ফজলুল হক। নিহত হওয়ার ১০দিন পর ২৭ ফেব্রুযারী বুধবার আদালতে মামলা হয়। স্থানীয় এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, ঐ কাঠের ব্যবসায়ী ঋন নেওয়ার জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারী সন্ধা ৭টায় তার অপর বন্ধু ফুলদহ গাবতলী বাজারের মুদি দোকানদার এরশাদকে নিয়ে জামালপুরে এক ব্যাংক কর্মকর্তার বাসায় যাচ্ছিল জমির দলিল পত্রাদি নিয়ে। যাওয়ার পথে জামালপুরের বেলটিয়া নামক স্থানে নিহত ফজলু ও এরশাদের বহনকারী সিএনজি অপর দিক থেকে আসা পিকআপ ভ্যানের সাথে সংঘর্ষে তারা দুজনই আহত হয়। গুরুতর আহত ফজলুকে তার সাথে থাকা বন্ধু এরশাদ পথিমধ্যে লোকদের সহায়তায় জামালপুরের জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। হাসপাতাল ফজলুর অবস্থা আশংকা জনক দেখে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। ফজলুকে বহনকারী এম্বুলেন্স ময়মনসিংহ মেডিক্যালে পৌছা মাত্র সে শেষ নিঃস্বাশ ত্যাগ করে। পরে রাতেই তাকে তার গ্রামের বাড়ীতে আনা হয়। পরের দিন মঙ্গলবার দুপুরে ফজলুকে তার পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। ফজলুর লাশ দাফনের দুদিন পরে গুন্জন উঠে সে দুর্ঘটনায় মারা যায়নি। কে বা কারা তাকে মেরে আহত করে রাস্তায় ফেলে দিলে পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে গ্রামের কতিপয় লোক এ মৃত্যুর জন্য নিহত ফজলুর সঙ্গে থাকা তার বন্ধু এরশাদকে দোষী বানাতে তৎপর হয়ে উঠে। বিষযটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ভাটারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বোরহান উদ্দিন বাদলের কানে পৌছলে তিনি তা মিমাংশার দায়িত্ব নেন। চেয়ারম্যান বোরহান উািদ্দন বাদল এ ব্যাপারে ১৫ সদস্যে একটি তদন্ত টিমও গঠন করে। তদন্ত টিমকে তোয়াক্কা না করে নিহত ফজলুর লোকজন গ্রামের কিছু কুচক্রি মহলের প্ররোচনায় ২৭ ফেব্রুয়ারী জামালপুর আদালতে নিহত ফজলুর স্ত্রী আন্জুয়ারা থাতুন বাদী হয়ে এরশাদকে প্রধান আসামী করে তিন জনকে দায়ী করে একটি হয়রানি মুলক মামলা দায়ের করে। এদিকে এ ঘটনার দুদিন পরে সরিষাবাড়ী থানার ওসি মাজেদুর রহমান এমন ঘটনার খবর পেয়ে বিষয়টি মিমাংসার জন্য ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাদলের উপর দায়িত্ব দেয়। কারন ওসি সাহেব বাদী পক্ষকে জানিয়ে দেন যে, মামলা মোকাদ্দমা ভালনা। এতে উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এদিকে ওসি মাজেদুর রহমান সরিষাবাড়ী থানায় যোগদানের পর থেকে তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন যাতে তার থানার আইনশৃঙ্গলা ভাল থাকুক, মামলা মোকাদ্দমা যেন কম হয়। সেই স্বার্থে তিনি মাসে মাসে থানায় সব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনপ্রতিনিধি মসজিদের ইমাম আলেম সাংবাদিক সহ সর্বস্তরের লোকদের নিয়ে আইনশৃঙ্গলা নিয়ন্ত্রনে মিটিং সমাবেশ করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে ভাটারা ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উািদ্দন বাদলের সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি জানান, নিহতের পক্ষের লোকজনদের ডেকে বিষয়টি মিমাংসার জন্য কথা বলেছি, সময়ও বেধে দেয়া হয়েছে, দুএকদিরে মধ্যে তা নিস্পত্তি করা হবে। যদি নিহতের পক্ষের লোকজন গ্রাম্য আদালত (ইউনিয়ন পরিষদের) সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে তবে তার ঘেষারত তাদেরকেই বহন করতে হবে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহতের স্ত্রী আদালত মামলা দায়ের করলে আদালত সরিষাবাড়ী থানা ওসিকে ৬ মার্চের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের সময় সীমা বেধে দিলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই রাকিবুল হাসান র্নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিলে আদালত অবশেষে লাশ উত্তোলনের আদেশ করে। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে ব্যবসায়ী ফজলুর লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্যে মর্গে প্রেরন করা হয়।
ক্যাপশন-সরিষাবাড়ীতে ব্যবসায়ী ফজলুল হকের হকের লাশ উত্তোলন করছেন ইউএনও সাইফুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ছবি- এম এ মান্নান

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন