ঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৯, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৪ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

অভ্যন্তরীণ

দুঃখিনী মায়ের করুণ কাহিনী

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৫ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

বৃদ্ধ বয়সে কেউ ঠিকমত খোঁজ রাখছেনা ব্দ্ধৃ মায়েদের। বয়সের ভারে এখন নানা রোগ শোকের বাসা বাঁধছে তাদের শরীরে। কিছুটা হলেও সরকারের দেওয়া বয়স্কভাতার টাকায় চলে তাদের ওষুধপত্র। আল্লাহ যেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হায়াত দারাস করেন। হ্যাঁ এভাবেই কথাগুলো বলেছেন সন্তানদের অবহেলার নূরজাহান (৮৭) ও রাবেয়া আক্তার বেলি (৮০) নামে দু‘বৃদ্ধ মা। ওই দুই বৃদ্ধ মহিলার একজন নূরজাহান পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং অপরজন রাবেয়া আক্তার উপজেলার সোহাগদ গ্রামের হলেও থাকেন নেছারাবাদ উপজেলার ৭নং ওয়ার্ডে ভাইয়ের ছেলেদের কাছে। বৃদ্ধ বয়সে তাদের চলার সম্বল কেবল লাঠি। সঙ্গ দেয়ারও মানুষ নেই।

নূরজাহান বেগমের বয়স নব্বই বছরে ছুই ছুই অবস্থা। দুই ছেলে ও এক মেয়ের জননী তিনি। স্বামী মারা গেছে প্রায় বছর খানেক। চোখের পাশে, কপালে ও হাতে যে দাগগুলো দেখছেন, তা কিন্তু তার বয়সের ছাপ নয়। হোচটে আঘাতের চিহ্ন ওগুলো। বুধবার (১৩ মার্চ) অন্ধকার ঘরে মধ্যে নামাজ পড়তে গিয়ে কোন কারনে ঘরের বেড়ায় ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়ে এ অবস্থা তার। ব্যথার যন্ত্রনায় নূরজাহান এখন হাউ মাউ করে কাঁদছেন। ভাল করে চলাফেরাও করতে পারছেন না। ডাক্তার দেখাতে পারেননি অর্থ সংকটে। তিনি অন্ধকার ঘরের মধ্যে একা বসবাস করেন। ছোট ছেলের খোঁজ নেই। বড় ছেলের ওঠানো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ঘরের মধ্যে থাকেন একা। বড় ছেলে নূর জামাল কাজের জন্য পরিবার নিয়ে ফরিদপুরে থাকেন। বছরে এক-দুই বার অথবা মায়ের কোন বিশেষ সংবাদ শুনলে গ্রামে আসেন। সেখানে ভাল অবস্থায় আছেন তিনি। এতো গেল ছেলের কথা। বৃদ্ধ নূর জাহানের জায়গায়ই ঘর তুলে জামাই নিয়ে পাশে থাকেন মেয়ে মাকসুদা। মেয়ে মাকসুদা ও জামাই দুজনেই দৈনিক মজুরীতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের ঘরে রয়েছে একটি প্রতিবন্ধি সন্তান। সব মিলিয়ে তাদের বিশেষ কোন জমা-জাগি না থাকলেও খেয়ে পড়ে তারাও ভাল আছেন। তাদের ঘরে বিদ্যুৎ রয়েছে। কিন্তু বৃদ্ধ মায়ের ঘরে একটি বাতিও দেন না তারা। প্রতিবেশিরা বার বার বলা সত্তে¡ও বেশি বিলের ভয়ে মাকসুদা লাইন দেননি মায়ের ঘরে। অবশ্য মাকসুদা একটু বেশি মুখচোাঁ (ঝগড়াতে) হওয়ায় এজন্য প্রতিবেশিরা তাকে বিশেষ কিছু বলছেও না। নূরজাহান বেগম বলেন, বুধবার মেয়েকে বলেছিলেন একটু ডাক্তার দেখানোর কথা। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে মাকসুদা তার সাথে একটা কথাও না বলে কাজে চলে গেছেন। দূরে থাকা ছেলের সাথেও কথা বলতে পারিনি এখনো। এই বলে হোচটের ব্যথায় কেবল কাঁদছেন এ বৃদ্ধ।
রাবেয়া আক্তার স্বামী হারিয়েছেন অনেক বছর হয়েছে। ছোট একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ভিক্ষা করে চলতেন তিনি। ছেলের নাম মো. মনির হোসেন। মা রাবেয়া আক্তার আদর করে ছেলেকে মনি বলে ডাকেন। সে ছেলে অনেক কষ্ট করে বড় হয়ে সে এখন ঢাকায় কাঁচামালের ব্যবসায়ী। মনিরের বয়স এখন (৪৫)। ঘর সংসার নিয়ে সুখেই আছেন। ব্যবসার কারনে বেশির ভাগ সময়ই ঢাকায় থাকা হয় মনিরের। স্ত্রী ও সন্তান থাকেন নিজ গ্রাম সোহাগদলে। ভাল ঘর দরজা উঠিয়েছেন তিনি। বলতে গেলে এলাকায় মোটামুটি নাম ডাকও আছে তার। কিন্তু খোঁজ রাখেন না বৃদ্ধ মা রাবেয়ার। রাবেয়ার শরীরে এখন অনেক রোগ বাসা বেধেছে। বৃদ্ধ মায়ের খোঁজ না রাখার বিষয়ে তার আত্মীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মা রাবেয়া মাঝেমধ্যে এখনো ভিক্ষা করেন। এবং অপরিস্কারভাবে চলাফেরা করেন। এতে ছেলে মনিরের মর্যাদার হানী ঘটে। এলাকার লোকজন নাকি তাকে মন্দ বলে। এজন্য মা রাবেয়াকে মন্দ বলেন ছেলে ও ছেলে বউ। এজন্য তিনি ছেলের সাথে রাগ করে বাড়ী ছেড়ে চলে এসে থাকেন ভাইয়ের ছেলেদের কাছে। খাওয়া দাওয়া করান তারাই। রাবেয়া বয়সের ভারে কাহিল।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
মো,রফিকুল ইসলাম ১৫ মার্চ, ২০১৯, ১২:৪৬ এএম says : 0
সরকারের পক্ষথেকে এই দু-জনার প্রতি সদয় হোক
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন