ঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৯, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৪ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

বাংলাদেশের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন

কূটনৈতিক সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৫ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না। রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার, বিরোধী দলকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন, বাক স্বাধীনতায় বাধা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না সরকার। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র সময় সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। সেখানে বিশ্বের দেশগুলোতে ঘটা সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও নিষ্ঠুরতার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ঘটা নানা মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানে সরকারের সংসদীয় কাঠামোর কথা উল্লেখ থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ একাধারে তৃতীয়বারের মত নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় বসেছে। কিন্তু এই নির্বাচন কোন বিবেচনাতেই অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না। একইসঙ্গে ভোটার ও বিরোধীদলকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মত নানা অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া গেছে। নির্বাচনের প্রচারণার সময় বিশ্বস্থ কিছু সূত্র থেকে হয়রানি, হুমকি, গ্রেফতার ও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে যা বিরোধী দল ও তার সমর্থকদের স্বাধীনভাবে প্রচারণা ও সমাবেশে বাধা সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও সঠিক সময়ে বাংলাদেশে প্রবেশের ভিসা পায়নি। শুধুমাত্র ২২ টি সংস্থা আভ্যন্তরীণভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেয়েছে।
রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার ও কারাদন্ড দেয়ার কথাও বলা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, রাজনৈতিক পরিচয়ও অনেক সময় গ্রেফতারের কারণ হিসেবে দেখানো হয়। বিএনপি দাবি করেছে গত বছর তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বছরের ৮ ফেব্রæয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে ৫ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক ও আভ্যন্তরীণ আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন তাকে অভিযুক্ত করার জন্য প্রমাণের অভাব ছিল। তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এ রায় দেয়া হয় বলে জানান তারা। এরপর তাকে আরো একটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার রায়ের সময় প্রায় ১৭৮৬ বিএনপি কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিএনপির একজন মুখপাত্র হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানিয়েছে, তাদের ও জামায়াতে ইসলামীর হাজার হাজার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতায় বাধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়, সাংবাদিকরা হয়রানির ভয়ে সেলফ-সেন্সরশিপের দিকে ঝুঁকছে। আইনে বলা আছে ঘৃনামূলক বক্তব্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে কিন্তু এ দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে তা ¯পষ্ট করা হয়নি। যেসব গণমাধ্যম সরকারের সমালোচনা করে থাকে তারা নানাভাবে সরকারের নেতিবাচক চাপের মুখে পরে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর কার্যকরী নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম হয়েছে। মানবাধিকার রক্ষায় রয়েছে নানা ব্যর্থতা। এরমধ্যে রয়েছে, হত্যা, জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন, সরকারকর্তৃক অযথা গ্রেফতার, আইনবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশ, বাক স্বাধীনতা হরণ, সমকামীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরজুড়েই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সন্ত্রাসবাদ থামাতে নানা অভিযান পরিচালনা করেছে। কিছু কিছু অভিযানে সন্দেহভাজনরা নিহত ও গ্রেফতার হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী প্রায়ই এ ধরনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে সন্দেহভাজনকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে যাওয়ার কথা বলে থাকে। যেখানে তার সতীর্থদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অভিযুক্ত নিহত হন। সরকার এই ঘটনাগুলোকে বন্দুকযুদ্ধ বা এনকাউন্টার বলে আখ্যায়িত করে থাকে। গণমাধ্যমও প্রায়ই একই আঙ্গীকেই খবর প্রকাশ করে থাকে। গত বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪০০ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। অধিকার নামে আরেকটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে মোট ৪১৫টি বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, এর আগের বছরের তুলনায় বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে প্রায় ২৩০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে আরো ১৭০০০ জনকে। মানবাধিকার সংস্থা ও সুশীল সমাজ বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গ্রেফতার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের দাবি, এদের মধ্যে অনেকেই নিরপরাধ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশের কারাগারগুলোতে ধারণ ক্ষমতার থেকে অতিরিক্ত আসামী রাখা হয়েছে, এগুলোতে সুযোগ সুবিধার নিশ্চয়তা নেই ও শৌচাগার সুবিধারও ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। এ ধরনের পরিবেশে প্রায়ই মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে কয়েদিরা। এই পরিবেশের কারণে গত বছর মোট ৭৪ কয়েদি মারা গেছে।
রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার ও কারাদন্ড দেয়ার দাবিও করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, রাজনৈতিক পরিচয়ও অনেক সময় গ্রেফতারের কারণ হিসেবে দেখানো হয়। বিএনপি দাবি করেছে গত বছর তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বছরের ৮ ফেব্রæয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে ৫ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক ও আভ্যন্তরীণ আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন তাকে অভিযুক্ত করার জন্য প্রমাণের অভাব ছিল। তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এ রায় দেয়া হয় বলে জানান তারা। এরপর তাকে আরো একটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। এতে বলা হয়, খালেদা জিয়ার রায়ের সময় প্রায় ১৭৮৬ বিএনপি কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতায় বাধা দেয়ার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, সাংবাদিকরা হয়রানির ভয়ে সেলফ-স্পন্সরশীপের দিকে ঝুঁকছে। যেসব গণমাধ্যম সরকারের সমালোচনা করে থাকে তারা নানা ভাবে সরকারের নেতিবাচক চাপের মুখে পরে। এছাড়া সাংবাদিকদের আক্রান্ত হওয়ার কথাও বলা হয় প্রতিবেদনে। রিপোর্টার উইদাউট বর্ডারের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে হওয়া আন্দোলনের সময় ২৩ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এর ফলে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা এখনো দুর্নীতি। ২০১৮ সালে টিআইবির জরিপ থেকে জানা যায়, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোই বাংলাদেশের সব থেকে দুর্নীতিগ্রস্থ সংস্থা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (9)
Arif Hasan ১৫ মার্চ, ২০১৯, ১:৩২ এএম says : 1
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি করে, ওরা জামাত শিবির! ডোনাল্ড ট্রাম্প ছোটবেলায় শিবির করতো!
Total Reply(0)
Habib Rahman ১৫ মার্চ, ২০১৯, ৯:৩৪ এএম says : 0
awamlegue er kono ashe jai na. karon awamlegue er moddo ekhon kono valo manush nai...
Total Reply(0)
Kazi Nasir ১৫ মার্চ, ২০১৯, ১:৩২ এএম says : 0
এইটা নতুন করে আমেরিকা বলার কি আছে, সারা দুনিয়ার মানুষ জানে বাংলাদেশে কি নির্বাচন হইছে.!!
Total Reply(0)
Jalal Uddin Sarder ১৫ মার্চ, ২০১৯, ১:৩৬ এএম says : 0
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য আমেরিকা, তুরস্ক সহ যে যাই বলুক না কেন? কিছু যায় আসেনা ওরা বি এন পি জামায়াত করে ইন্ডিয়ান দাদারা বললে হয়তো কিছু হত
Total Reply(0)
Arman ১৫ মার্চ, ২০১৯, ১:৩৭ এএম says : 1
যুক্তরাষ্ট্র তো তাগো দেশের নির্বাচন নিয়েই খুশি না! সেই খানে অন্য দেশের কি হইছে না হইছে তাগো জ্বলে কেন? তাদের নির্বাচন ওহ তো সুষ্ঠু ভাবে হয় নাই! রাশিয়া নাকি কি কইরা দিছে!
Total Reply(0)
Mohammed Sohel ১৫ মার্চ, ২০১৯, ১:৩৯ এএম says : 0
আমেরিকা কি বলল আর কি করলো তা নিয়া বাংলাদেশ এর মাথা বেথা নাই কারন তারা আমাদের স্বাধীনতা থেকে আজ পর্যন্ত কোনো ভালো কাজে সহযোগিতা করে নাই সব সময় বিরোধিতা করছে তাই তারা কি বললো না বললো বাংলাদেশ কিছু মনে করে না
Total Reply(1)
nasir ১৫ মার্চ, ২০১৯, ৯:২৯ এএম says : 0
kesu bolar chelo but bol lam na
Niaz Morshed ১৫ মার্চ, ২০১৯, ১:৪০ এএম says : 0
ইলেকশন বলে কিছু নাই।।হয় শুধু সিলেকশন।।। আর জনগন হল বলির পাঠা
Total Reply(0)
Sohel Saruar ১৫ মার্চ, ২০১৯, ১:৩৩ এএম says : 0
আমেরিকা বললে মিডিয়ায় আসে আর আমরা সাড়াদিন চিল্লাইলেও মিডিয়া তখন কানেই শুনে না।
Total Reply(0)
Hossain ১৭ মার্চ, ২০১৯, ৪:১২ পিএম says : 0
এই সব ....... আর শুনে কি হবে। যুক্তরাষ্ট্র কি .... ফালাতে পারবে? এদের এম্বাসিডরকে এত অপমানিত করল, তারা কি করতে পেরেছে?
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন