ঢাকা, রোববার ২১ জুলাই ২০১৯, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

‘জীবদ্দশায় হয়তো এটাই আমার শেষ বক্তব্য’

৯০তম জন্মদিনে এরশাদ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২১ মার্চ, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

৯০ পাউন্ড ওজনের কেক কেটে ৯০তম জন্মদিন পালন করলেন জাতীয় সংসদে সরকার নিয়ন্ত্রিত বিরোধী দলের নেতা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। গতকাল বুধবার গুলশানের একটি কনভেনশন সেন্টরে বিশাললাকৃতির এই কেক কেটে জন্মদিনের উৎসব শুরু করেন। এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, হয়তো জীবদ্দশায় এটাই আমার শেষ বক্তব্য। তোমরা জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করে তোলো, যাতে আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় যেতে পারে।
এরশাদের জন্মদিন উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী শ্লোগানে-শ্লোগানে উৎসবমূখর করে তোলে গুলশানের ইমানুয়েলস মিলনায়তন। বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল ও কেক নিয়ে হাজির হন আনন্দঘন পরিবেশে। বেলা ১২টার দিকে হুইল চেয়ারে করে এরশাদ মিলনায়তনে পৌঁছিলে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তাঁর সাথে মিলনায়তনে প্রবেশ করেন ছোট ভাই জিএম কাদের এমপি। এর আগেই পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশান এরশাদ এমপি সভা স্থলে পৌঁছেন। ১২টার কিছু পরে ৯০ পাউন্ড ওজনের কেক কেটে নিজের জন্মদিনের উৎসবের সূচনা করেন সাবেক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
এরশাদের জন্মদিন উদযাপন কমিটির আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বক্তৃতা করেন। এর আগে সংক্ষিপ্ত এক বক্তব্যে এরশাদ বলেন, এদেশে আমার মত অত্যাচারিত নিষ্পেষিত ব্যক্তি আর নেই। আমার বিপক্ষে রায় দেয়ার জন্য ৭ বার জজ পরিবর্তন করা হয়েছে। বিনা বিচারে আমাকে ৬ বছর কারাগারে রাখা হয়েছে। অত্যাচার আমাকে দমাতে পারেনি। হয়তো জীবদ্দশায় এটাই আমার শেষ বক্তব্য।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেন, শত অত্যাচার ও অবিচারের পরও জাতীয় পার্টি টিকে রয়েছে। দীর্ঘ অত্যাচারে যে জাতি টিকে থাকে সে জাতিকে কেউ ধ্বংস করতে পারেনা। আমাদেরকেও শেষ করতে পারবে না। দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত-বিতর্কিত এই নেতা দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জাতীয় পার্টির সম্ভাবনা আছে। তোমরা দলকে আরো শক্তিশালী করো। ইনশাল্লাহ আগামীতে জাতীয় পার্টি ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে যাবে।
রওশন এরশাদ তার বক্তব্যে এরশাদের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরলে কর্মীরা সিএমএইচে এরশাদের ভূল চিকিৎসার জন্য বিচারের দাবিতে শ্লোগান দিতে থাকেন। এসময় কিছু সময়ের জন্য অনুষ্ঠানে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। শ্লোগানের একপর্যায়ে রওশন বলেন, এ বিষয়ে তারা আমাদের বিরদ্ধে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। সিএমএইচে ভূল চিকিৎসা হতে পারে না। কর্মীরা প্রতিত্তরে দলের মহাসচিব এ বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানান। রওশন বলেন, সেনাবাহিনী নিয়ে কোনো বিরূপ মন্তব্য করা যাবে না। এতে পরিণিতি ভালো হবে না। জিএম কাদের তার বক্তব্যে এরশাদের দীর্ঘায়ু কামনা করে বলেন, তিনি আমাদের পিতার মত লালন পালন করেছেন, পুরো পরিবারকে আগলিয়ে রেখেছেন। শুধু আমাদের পরিবারকে নয়, ৯ বছয় পুরো দেশকেই আগলিয়ে রেখেছিলেন। আমরা শপথ নিয়েছি। এরশাদের আদর্শে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
বক্তব্য পর্ব শেষে জাতীয় পার্টির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন নেতাদের আনা কেক কাটেন এরশাদ। পরে পার্টির বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীরা এরশাদকে ফুলের তোড়া দিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছো জানান। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি, সৈয়দ আব্দুল মান্নান. এ্যাড. শেখ সিরাজুল ইসলাম, মাসুদা এম. রশিদ চৌধুরী এমপি, ফখরুল ইমাম এমপি, মোঃ আজম খান, এটিইউ তাজ রহমান, মেজর অব. মোঃ খালেদ আখতার, লেঃ জেঃ (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এমপি, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, উপদেষ্টা ক্বারী হাবিবুল্লাহ বেলালী, রওশন আরা মান্নান এমপি, নাজমা আখতার এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, জহিরুল ইসলাম জহির, মোঃ আরিফুর রহমান খান, আলমগীর সিকদার লোটন, নুরুল ইসলাম নুরু, সরদার শাহজাহান, এমরান হোসেন মিয়া, আবু বক্কর, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, নুরুল ইসলাম ওমর, আশরাফ সিদ্দিকী, শেখ আলমগীর হোসেন, ইয়াহইয়া চৌধুরী, জহিরুল আলম রুবেল, আমির উদ্দিন আহমেদ ঢালু প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন