ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট

সমাধানের উদ্যোগ নেই

চান্দিনা (কুমিল্লা) থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ মার্চ, ২০১৯, ৭:৫২ পিএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ছুটির দিনে মহাসড়কে গাড়ীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ী চাপ বেড়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজার গাড়ি মহাসড়কের ওপর দিয়ে পার হওয়া, মেঘনা ও দাউদকান্দি সেতু এলাকায় ধীর গতিতে গাড়ি পারাপারের কারণে যানজটের তীব্রতা বেড়ে যায়। মেঘনা-গোমতী সেতুর গজারিয়া অংশে ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজের কাছে মহাসড়ক সংস্কারের কাজ করায় এ যানজটের সৃষ্টি। যানজটের কবলে পড়ে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি কাজে নিয়োজিত যানবাহনও আটকা পড়ে যানজটে। অনেকে খুব সকালে রওনা হওয়ায় অভুক্ত অবস্থাতেই পার করছেন সময়। শিশু ও বয়স্কদের জন্য খুবই পীড়াদায়ক ছিল এই যানজট। 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কেন এত যানজট ? আর এর সমাধানই বা কী ? এই প্রশ্ন করলে এই মহাসড়কে চলাচলরত শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত বা অশিক্ষিত প্রত্যেকের কাছেই কোনো না কোনো জবাব পাওয়া যাবে। সমস্যাটা সবারই জানা আর সকলের কাছেই এর একটি সমাধান আছে! কিন্তু ভুক্তভোগিরা সমস্যা সমাধানের নানা পরামর্শ দিলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট পরিস্থিতির দিন দিন অবনতি ঘটছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এখন ভয়াবহ যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিশ্চল অবস্থায় যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এটাই যেন এ মহাসড়কের নিয়ম। এক থেকে দেড় কিলোমিটার রাস্তা পার হতেই সময় লাগছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা বা তারও বেশি। এতে জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। যানজটের কারণে যে শুধু সময় নষ্ট হয়, তা নয়। ক্ষতি হয় বিপুল পরিমাণ জ্বালানিরও। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে যানজট নিরসনে নেয়া হয়েছে নানা পরিকল্পনা এবং মহাপরিকল্পনা। অর্থনীতির লাইফলাইনখ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি ৩ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। করা হয়েছে ওয়ান ওয়ে, বন্ধ করা হয়েছে মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচলও। কিন্তু তার পরেও ফলাফলও শূন্য। কয়েকদিন আগে কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুটিও খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুরাতন সেতুটি বন্ধ করে দেয়ায় ফলাফল আগের মতোই। যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা মুক্তি পাচ্ছেন না যানজটের দুর্বিষহ যন্ত্রণা থেকে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথেই আটকে থাকছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন। নষ্ট হচ্ছে শত শত কর্মঘণ্টা। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহাসড়কের জামালদি বাসস্ট্যান্ড থেকে বাউশিয়া পাখিরমোড় পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট দেখা গেছে। গজারিয়া ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর ফিরোজ বলেন, কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায় গার্ডারের কাজ এবং সকাল থেকে দু’টি বড় পণ্যবাহী গাড়ি মেঘনা সেতুতে বিকল হয়ে যাওয়ায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করছে বলে জানান এসআই ফিরোজ।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের সোনারগাঁও উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মল্লিকেরপাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে বেপরোয়া একটি বাস মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই এর আরোহী পারভীন আক্তার (২৫) ও মেয়ে ফেরদৌসী আক্তার (৬) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মোটরসাইকেল চালক জসিম উদ্দীন (৪৫)। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এই সড়ক দুর্ঘটনায় কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকায় এ যানজটের সূত্রপাত। পাশাপাশি মেঘনা টোল প্লাজায় টোল আদায়ে ধীরগতির কারণে এ যানজট দীর্ঘ হতে থাকে। যানজটের কবলে আটকা থেকে ছুটে আসা চট্টগ্রামগামী ইউনিক পরিবহনের যাত্রী কামরুল ইনকিলাবকে বলেন, মেঘনা সেতুর গোড়ায় দীর্ঘ যানজটে আটকে আছে শত শত যানবাহন। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে রোগীবাহী এম্বুলেন্সগুলো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার ফলে রোগীদের শারীরিক সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। শ্যামলী পরিবহনের চালক আমির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, যানজট নিয়ন্ত্রণের নামে পুলিশ চাঁদাবাজি করছে। এ যানজট কখন থেকে শুরু হয়েছে, তা বলতে পারব না। আমি ভবেরচর ভোররাত চারটা থেকে সকাল নয়টা পর্যন্ত আছি। গাড়ি একচুলও নড়েনি। এস আলম পরিবহনের যাত্রী চট্টগ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী মো.আলাউদ্দিন বলেন, গতকাল রাত ৯টায় ফকিরাপুল থেকে গাড়ি ছেড়েছে। সকাল ১০টা বাজে, এখনও চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পারিনি।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন