ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

সম্পাদকীয়

দূষণ ও মৃত্যুর ফাঁদ নয়, নিরাপদ টেকসই সবুজ উন্নয়ন ও শান্তি চায় মানুষ

জামালউদ্দিন বারী | প্রকাশের সময় : ৩ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

দেশের উন্নয়ন বলতে কি বোঝায়, উন্নয়নের গতি কোনদিকে, অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা টেকসই উন্নয়নের সাথে যায় কি না ইত্যাদি প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক হলেও এ নিয়ে তেমন একটা আলোচনা হয়না। তবে আমরা যখন উন্নয়নের রোডম্যাপ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে গর্ববোধ করি তখন বৈষম্য, বেকারত্ব ও নিরাপত্তাহীনতা সংক্রান্ত রিপোর্ট বাংলাদেশের ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরে। গত ফেব্রæয়ারীতে পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে সত্তুর জনের বেশী মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেল। ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে আগুন জ্বলল, আমাদের অগ্নিনির্বাপক বাহিনীতে অনেক নিবেদিত প্রাণ কর্মী থাকলেও রানাপ্লাজা ট্রাজেডির সময়, কারওয়ান বাজার, নিমতলি বা চুড়িহাট্টা অগ্নিকান্ডের সময় তাদের অসহায়ত্ব আমরা দেখেছি। একটি অক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা বা ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অনুরূপ পরবর্তি দুর্ঘটনায় তা কাটিয়ে উঠার প্রস্তুতি গ্রহণ করবে, এটাই ছিল সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত। কিন্তু গত এক দশকেও সেই প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। বনানীর এফ আর টাওয়ার অগ্নিকান্ডের পর একডজনের বেশী ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের পাশাপাশি সেনা-নৌ ও বিমান বাহিনীর ইউনিটগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করেও প্রায় তিরিশজন মানুষকে অসহায়ভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। এটা এমন নয় যে, হঠাৎ কোনো দাহ্যবস্তুর গুদামে আগুন লেগে তা দ্রæত ছড়িয়ে পড়েছিল। বহুতল ভবনটির অষ্টম তলায় বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে আস্তে আস্তে তা উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রতিটা দুর্ঘটনা এবং অগ্নিকান্ডের পরই সংশ্লিষ্ট ভবনের নকশা, নির্মান ত্রæটি, অননুমোদিত অংশ এবং নিরাপত্তা ও রক্ষনাবেক্ষণে নানা ত্রæটি-বিচ্যুতি ও আইনগত ব্যত্যয় ও গলদ ধরা পড়ে। অত:পর এসব বিষয়ের সাথে কোনো রকমে রাজনৈতিক গন্ধ বিশেষত বিরোধিদলের সাথে কোনো দূরবর্তি সম্পর্ক পাওয়া গেলে তা নিয়েই রং মাখানো হইচই শুরু হতে দেখা যায়। রানাপ্লাজা এবং বনানীর এফ আর টাওয়ারের নিমার্ন, মালিকানা ও দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। রানাপ্লাজা ধসের আগেই ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। প্রায় পরিত্যক্ত ভবনটিতে শ্রমিকদের জড়ো করা হয়েছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচি প্রতিরোধে নারী শ্রমিকদের মাঠে নামাতে তাদেরকে সেই ভবনে কাজে যোগ দিতে বাধ্য করেছিল ভবন মালিক স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা। আর ভবন ধসে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি সংঘটিত হওয়ার পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য একটি বিষ্মযকর কৌতুক হিসেবে স্মরনীয় হয়ে আছে। তিনি বলেছিলেন, বিএনপি কর্মীরা ভবনটির পিলারে ধাক্কা বা ঝাকুনি দেয়ার কারণে রানাপ্লাজা ধসে গেছে। শহশ্রাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যে ট্রাজেডির ইতিহাস রচিত হয়েছিল তা বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাতকে বিশ্বের কাছে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই আমাদের তৈরী পোশাক রফতানী খাত তার প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। তৈরী পোশাক রফতানীসহ দেশের রেমিটেন্স প্রবাহে যে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে তার পেছনে রয়েছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামান্য বেতনে সউদি আরব, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গমনকারী ও কর্মরত লাখ লাখ প্রবাসি শ্রমিক এবং দারিদ্রসীমার নিচে বাস করা দেশের পোশাক কারখানাগুলোতে কর্মরত নারী-পুরুষ শ্রমিকদের নিরলস শ্রম ও ঐকান্তিক প্রয়াস।
গত এক দশকে দেশে মানুষের গড় আয় বেড়েছে, পদ্মাসেতু, মেট্টোরেল, পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্রসহ বড় বড় অবকাঠামো নির্মানের মেগাপ্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। দেশের উন্নয়ন দৃশ্যমানভাবে ফুটিয়ে তুলতে এসব চিত্র তুলে ধরাই শাসকদলের অন্যতম রাজনৈতিক শ্লোগান। এর বিপরীত পার্শ্বে বেড়ে ওঠা শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, নাগরিক সমাজের নিরাপত্তাহীনতা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি এবং সব স্তরের নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা ও মানবাধিকার নিয়ে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমাগত উদ্বেগ ইত্যাদি পর্যালোচনায় শাসকদের দাবী জনমনে তেমন কোনো ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারছে না। দেশীয় মূল ধারার গণমাধ্যমের উপর সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ থাকায় সেখানে অনেক কিছুই সরাসরি বা কাঙ্খিত মাত্রায় প্রতিফলিত না হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনমতের প্রতিফলন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এসব বিষয় নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা ও উঠে আসতে দেখা যাচ্ছে। তবে কোনো কোনে ক্ষেত্রে সরকারের তরফ থেকে মাত্রাতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন, আন্তর্জাতিকভাবে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যমের উপর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মত ঘটনা বিশ্বের সামনে সরকারের নৈতিক অবস্থানকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দফতরের সাথে জড়িত মন্ত্রী ও নীতি নির্ধারকদের আরো সতর্ক ও সুচিন্তিত কর্মপন্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা যাচ্ছে। গুম, অপহরণ ও বিচারবহিভর্’ত হত্যাকান্ডের মত ঘটনার সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একশ্রেনীর সদস্যের জড়িত থাকাসহ মানবাধিকার সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ তুলে প্রকাশিত আল জাজিরা রিপোর্টের পর আল জাজিরা নিউজ ওয়েবসাইট বাংলাদেশে বøক হয়ে যাওয়ার ঘটনা আরো বেশী প্রচার পেয়েছে এবং এর ফলে সেই বিতর্কিত রিপোর্টের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়ে নানাভাবে তা আরো বেশী প্রচার লাভ করেছে। দেশের মানুষ ভোট দিয়ে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ হারানো বিনিময়ে, রাজনৈতিক সংগঠনের অধিকার খর্ব করে এবং সরকারের সমালোচকদের প্রতি অসহিষ্ণু আচরণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবয়বের বেলুন, কার্টুন নিয়ে মিছিল করতে দেখা যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করার অপরাধেও কেউ কেউ মামলা ও গ্রেফতারের সম্মুখীন হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে এসব ঘটনা ও তার প্রতিক্রিয়া কোনোকিছুই চাপা থাকে না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে এভাবেই নেতিবাচকভাবে উঠে আসছে বাংলাদেশের নাম। একেকটা অগ্নিকান্ড, মমার্ন্তিত ট্রাজেডির মধ্য দিয়ে যখন অসংখ্য মানুষের মৃত্যুর খবর, বিপদসঙ্কুল সমুদ্র পথে অবৈধভাবে বাংলাদেশী যুবকদের বিদেশে পাড়ি দেয়ার খবর, বিদেশের কারাগারে শত শত বাংলাদেশী নাগরিকের মানবেতর জীবন ও ধুঁকে ধুঁকে মরার তথ্য যখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, তখন দেশীয় মিডিয়া ও সরকারের উন্নয়নের দাবী-দাওয়া সম্পর্কে মানুষের মধ্যে একটি প্রচ্ছন্ন অনাস্থা তৈরী হয়।
নিরাপত্তাহীনতা ও উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের সীমাবদ্ধতা একসাথে যায় না। আর মানুষের নিরাপত্তাহীনতার পেছনে কাজ করছে দুর্নীতি, দু:শাসন, সামাজিক- রাজনৈতিক বিভাজন ও বিশৃঙ্খলা। উন্নয়ন মানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু গড় আয়বৃদ্ধি অবকাঠামো নির্মানের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন আর বাকি সবকিছুতে দাবিয়ে রাখার নীতি দিয়ে উন্নয়নের ধারণা প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না। টেকসই উন্নয়নের ধারণা গ্রহণের মধ্য দিয়ে উন্নয়নের গতানুগতিক ধারণা ও বিবেচনা এখন পাল্টে গেছে। এমনকি জিডিপি (গ্রোস ডমেস্টিক প্রোডাক্ট) প্রবৃদ্ধির প্রতিযোগিতার বদলে জিএনএইচ (গ্রোস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস) ইনডেক্সের প্রতি বেশী আগ্রহী হয়ে উঠেছে বিশ্বের মানুষ। পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থা ক্রমেই দেউলিয়াত্বের দিকে ধাবিত হচ্ছে। মানুষ একটি বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অনুসন্ধান করতে শুরু করেছে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক হ্যাপি প্লানেট ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো অনেক অর্থনৈতিক পরাশক্তি রাষ্ট্র এবং দক্ষিন এশিয়ার আঞ্চলিক পরাশক্তি ও প্রতিবেশীদের চেয়ে ভালো। তবে জাতিসংঘ পরিচালিত চলতি বছরের হ্যাপিনেস ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ১০ ধাপ অবনতি ঘটেছে। গত বছর এই ইনডেক্সে বাংলাদেশ ছিল দেড়শতাধিক দেশের মধ্যে ১১৫ নম্বরে। এবার তা ১২৫ নম্বরে নেমে গেছে। এরপরও বাংলাদেশের অবস্থান ভারত (১৩০তম), শ্রীলঙ্কা(১৪০তম) ও মিয়ানমারের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও পাকিস্তান, ভ’টান, নেপালের চেয়ে বেশ পিছিয়ে। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান সবচেয়ে এগিয়ে (৬৭তম) এবং আফগানিস্তান( ১৫৪ তম) সবচেয়ে পিছিয়ে। সত্তুরের দশকে ভ’টানের রাজা ওয়াংচুক বিশ্বে প্রথম জিডিপির বদলে জিএনএইচকে রাষ্ট্রীয় লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেন। বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশটি প্রথম এই ধারণা বিশ্বের কাছে শুধু তুলেই ধরেনি, এই ইনডেক্সে তারা সব সময়ই প্রথম দিকে অবস্থান করছে। সুখী হওয়ার জন্য ধনী হওয়ার প্রয়োজন নেই। হ্যাপিনেস ইনডেক্সের দিকে তাকালে এটাই প্রতিয়মান হয়। শাসনব্যবস্থা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক চালচিত্র হ্যাপিনেস ইনডেক্সে কেমন প্রভাব ফেলে একবছরে বাংলাদেশের ১০ ধাপ অবনমনের বাস্তবতা থেকে তা ধরা পড়ে। গত কয়েক মাস ধরে ঢাকায় একের পর এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে মানুষ হতাহতের ট্রাজেডি এবং রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মানুষের হতাশা ও বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সাম্প্রতিক বিষয়গুলো এ বছরের হ্যাপিনেস ইনডেক্সে স্থান না পেলেও আগামীতে হয়তো বাংলাদেশের এ অবস্থানে আরো অবনমন সৃষ্টি করবে। তবে বাংলাদেশে মানুষের নিরাপত্তা, সুখ-স্বাচ্ছন্দ, মানবাধিকারের অবস্থান সম্পর্কে যে কোনো বিদেশী সংস্থার চেয়ে দেশের সাধারণ মানুষই ভাল বলতে পারবেন। দেশে নির্বাচন ব্যবস্থায় সত্যিকার অর্থে জনমতের প্রতিফলনের সুযোগ থাকলে দেশের মানুষ ব্যালটেই এসব অব্যবস্থাপনার জবাব দিতে পারতো। সে সুযোগ আপাতত নেই বললেই চলে।
উন্নয়ন আগে নাকি গণতন্ত্র আগে, কম গণতন্ত্র বেশী উন্নয়ন ইত্যাদি বেহুদা বিতর্কও তৈরী হতে দেখেছি। যারা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন তারা শুধুমাত্র গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও কিছু মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের শো-ডাউন করে জনগনের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশাকে অগ্রাহ্য করতে পারেন না। অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও মুক্তবাজার অর্থনীতির গেøাবালাইজেশনের যুগে মানুষ তার স্বপ্নের কথা প্রত্যাশার কথাগুলো নির্ভয়ে বলতে চায়, অপ্রাপ্তি ও হতাশায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হালকা হতে চায়। রাজনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করা সাংবিধানিক- গণতান্ত্রিক অধিকার। উন্নয়নের কথা বলে এই অধিকার হরণ বা বাঁধাগ্রস্ত করার এখতিয়ার কোনো কর্তৃপক্ষ বা সরকারের নেই। বর্তমানে দেশে কর্মক্ষম মানুষের বেকারত্বের হার প্রায় ২০ ভাগ। কয়েক বছর আগে বিশ্বব্যাংকের এক রিপোর্টে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ১৪. ২ ভাগ বলে উল্লেখ করা হলেও ২০১৫ সালে আইএলও থেকে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বাংলাদেশে ৩ কোটি মানুষ বেকার বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। বিশ্বে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব কবলিত ২০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১২ তম স্থান লাভ করে। দেশের কোটি কোটি মানুষকে বেকারত্বের অভিশাপে রেখে সত্যিকার অর্থে কোনো চেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। যেখানে গেøাবাল ওয়ার্মিং, পরিবেশ বিপর্যয়, পানি সংকট, নদনদী শুকিয়ে মরুভ’মিতে পরিনত হওয়ার মত বাস্তবতা আমাদের এবং বিশ্বসম্প্রদায়ের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ, তখন একশ্রেনীর মানুষের লুটপাটের জৌলুস এবং ইট-কংক্রীটের চোখ ধাঁধাঁনো অবকাঠামোর ফাঁদ এখন আর টেকসই উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হয়না। রাষ্ট্র ও বিশ্বকে শিশুদের জন্য নিরাপদ আবাসভ’মি হিসেবে গড়ে তোলার অগ্রগতির নামই উন্নয়ন। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়নের কারণে দেশের রাজধানী থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহরগুলো পর্যন্ত মানুষের নিরাপদ বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। আন্তর্জাতিক নদী আইন অমান্য করে উজানে ভারতের পানি আগ্রাসনের কারণে দেশের শত শত নদী এবং হাজার হাজার কিলোমিটার নৌপথ বিলীন হয়ে দেশের কোথাও কোথাও মরুপ্রক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গুম হওয়া পিতার জন্য শিশুদের মর্মন্তুদ কান্না, সন্তান হারানো পিতা-মাতা ও স্বামী হারানো স্ত্রীদের আর্তি, বার বার ভোট দিতে না পারার ক্ষোভ এবং উন্নয়নের দাবী একসাথে চলতে পারেনা। রাস্তায়, গণপরিবহণে, বাড়িতে মানুষ চরম নিরাপত্তাহীন। সড়কের নিরাপত্তার দাবীতে শিশুরাও এখন স্কুল ছেড়ে রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হয়। নিরাপদ সড়কের দাবী নিয়ে গত বছর আগস্টে বাংলাদেশের শিশুরা এক বিষ্ময়কর আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সে খবর সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। এ বছর মার্চের মাঝামাঝিতে বিশ্বের ১২৩টি দেশের শত শত শহরে শিশুরা এরকযোগে পরিবেশ রক্ষার দাবীতে রাজপথে নেমে আসার দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। আমরা যখন উন্নয়নের কথা ভাবব, উন্নয়নের দাবী তুলব তখন পরিবেশ, মানবাধিকার ও বৈষম্য নিরসনে আমাদের সরকারের সাফল্যের পরিসংখ্যানই দেখতে চায়। যে উন্নয়ন দেশের নদীগুলো দূষিত ও বিষাক্ত হয়ে মরে যায়, যে উন্নয়নে শত শত মানুষ অহসহায়ভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করতে বাধ্য হয়, সে উন্নয়নের ফাঁদ থেকে মুক্তির পথ খুঁজে বের করাই এখনকার মূল বিবেচ্য হওয়া বাঞ্ছনীয়।
bari_zamal@yahoo.com

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন