ঢাকা, মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬, ১৪ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে চাপা ক্ষোভ

ফরিদগঞ্জে ইমামকে মারধর

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৭ এএম

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মসজিদে ফজরের নামাজ শেষে ইমামের ওপর বোরকা পরিহিত ৩ নারীর হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। পাল্টা-পাল্টি বক্তব্যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনায় হতবাক হচ্ছেন মুসল্লীরা। হামলাকারী নারীদের পিতা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রকিব। পুলিশকে না জানিয়ে ফোন করায় উস্মা প্রকাশ করেছেন ওসি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
নারীদের পিতা নুরুল আমিন ইনকিলাবকে বলেন, তিনি প্রায় ৩০ বছর সৌদি আরবের জেদ্দা প্রবাসী। দু’ বছর পর পর তিনি রমজান ও ঈদ সামনে রেখে দেশে আসেন। ছুটি শেষে ফিরে যাবেন। তিনি বলেন, মসজিদের ইমাম মো. সৈয়দ আহাম্মেদ আরো ২/৩ জন যুবকের সহায়তায় উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ুয়া আমার মেয়েকে উত্যক্ত করতো। মসজিদ কমিটির সভাপতির কাছে নালিশ দিয়ে কোন সুরাহা হয়নি। এ কারনে মেয়েরা ক্ষিপ্ত হয়ে ইমামকে ধরতে মসজিদের সামনে যায়। কিন্তু ইমামের সহযোগীরা মেয়েদের টেনে-হিচঁড়ে মসজিদে ঢুকিয়ে মারধর করে অলঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে আমি গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করি।
ইমামের ওপর হামলার কথায় তাৎক্ষনিক মুসল্লীদের চাপে আমি বলেছি, আল্লাহর ঘর কোন কারণে অসম্মানিত হলে আমি ক্ষমা চেয়ে নিব। কিন্তু তারা ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করছে। নুরুল আমিন আরো বলেন, তার বড় মেয়ে রিক্তা সুলতানা মসজিদের সামনে অর্তকিত হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে আছেন। মেয়ের শ্বাশুড়ি জনপ্রতিনিধি। তিনি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
মসজিদের ইমামের সঙ্গে নুরুল আমিনের কলেজ পড়ুয়া মেয়ের সম্পর্ক রয়েছে এমন অভিযোগ তোলেন মসজিদ কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। বিষয়টি তিনি মসজিদ কমিটির অন্য কোন সদস্যকে না জানিয়ে নিজেই ইমামকে চলে যেতে বলেছেন বলে দাবি করেন। অপরদিকে মসজিদের সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন মুসল্লী ইমামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেন।
মুসল্লী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আবু জাফর, আবদুর রহিম, মো. বিপ্লব পাটওয়ারী, সুলতান আহম্মেদ ও সাইফুল ইসলাম বলেন, ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার বিচার করার সুযোগ ছিলো। আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া যেতো। কিন্তু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নারীরা ঢুকে হামলার ঘটনা খুবই দুঃখজনক।
এদিকে মুসল্লী ও সাধারণ মানুষ আল্লাহর ঘর মসজিদে এ ধরনের হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ইস্কান্দর সঠিক বিচার করার আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ইমাম মো. সৈয়দ আহাম্মেদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অনৈতিকতার অভিযোগ রয়েছে। এজন্য নিজ থেকেই ইমামকে চলে যেতে বলেছি। আমার কথা না শোনার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে মসজিদে গিয়ে হামলা করার ঘটনা খুবই দুঃখজনক।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ইমাম সাহেব এ বছর ফাজিল পরীক্ষা দিয়েছেন। পরীক্ষার পরে আর দায়িত্ব পালন করবে না, অন্য ইমাম নিয়োগ দিতে হবে এ কথাটি শুধু সভাপতি আমাকে জানিয়েছেন।
ইমামের বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগ আছে এমন কথা আমাদেরকে সভাপতি বলেননি। মসজিদে হামলার ঘটনার পর এসব কথা জানতে পেরেছি। ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটা নিয়মানুযায়ী বিচারের ব্যবস্থা ছিলো। কিন্তু মসজিদে মুসল্লীদের ওপর হামলার বিচার হওয়া দরকার।
৩ নারীর হামলায় আহত ইমাম মো. সৈয়দ আহাম্মেদকে ঘটনার পর পাশ্ববর্তী লক্ষীপুর জেলার রায়পুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রকিব বলেন, এখনো অভিযোগ পাইনি। পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন