ঢাকা, শনিবার ২০ জুলাই ২০১৯, ০৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৬ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

রূপসা রেলসেতু নির্মাণ কাজ চলছে পুরোদমে

আবু হেনা মুক্তি : | প্রকাশের সময় : ১৬ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

খুলনার রূপসাপাড়ে বিশাল কর্মকাণ্ডের উৎসব চলছে। এটি স্বপ্ন বাস্তবায়নের উৎসব। দিনরাত কাজ চলছে নদীর দুইপাড়ে। সেখানে পুরোদমে চলছে রূপসা রেলসেতু নির্মাণ কাজ। কর্মী, শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের কাজের শব্দে মুখর পুরো এলাকা। সেতু এখন স্বপ্নের খোলস থেকে বেরিয়ে রূপ নিয়েছে দৃশ্যমান বাস্তবতায়। বহুদূর থেকেও সেতুর অবয়ব চোখে পড়ছে।
খুলনা-মংলা রেল লাইন প্রকল্পের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। ইতিমধ্যেই এ প্রকল্পের প্রধান অংশ রূপসা নদীর ওপর রেলসেতুতে পাঁচটি স্প্যান স্থাপন হওয়ায় দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর অবয়ব। এছাড়া রেললাইন স্থাপন ও পাইলিংসহ প্রকল্প কাজের ৫০ ভাগ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে রেল লাইন এবং বাংলাদেশে প্রথম সুপার স্ট্রাকচারের রেলসেতু নির্মাণ কাজ। প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশকিছু সমস্যা থাকলেও সেগুলোকে টপকিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে খুলনা-মংলা রেল প্রকল্প সম্পন্নের আশা কর্মকর্তাদের।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সার্কভুক্ত প্রতিবেশি দেশগুলোর যোগাযোগ সহজিকরণ, মংলা বন্দরের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও আমদানি-রফতানি বাড়াতে ২০১০ সালে খুলনা-মোংলা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। প্রকল্পের আওতায় রেললাইন, সেতু নির্মাণ ও জমি অধিগ্রহণসহ প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ৩ হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ইতিমধ্যেই প্রকল্পের ৫০-৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী রেলসেতু ও রেললাইন নির্মাণ কাজ চলছে। তাই নির্ধারিত সময় ২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে প্রত্যাশা প্রকল্প পরিচালকের। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রæত খুলনা-মোংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প সম্পন্ন হলে মোংলা বন্দরের সঙ্গে কম খরচে ভারত, নেপাল ও ভূটানসহ প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থ-বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হবে বললেন জেলা প্রশাসক। বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ অর্থায়নে খুলনা-মোংলা রেল প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে রেললাইনের জন্য ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, সেতুর জন্য ১ হাজার ৭৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং বাকি টাকা জমি অধিগ্রহণে ব্যয় করা হয়েছে।
সেতুর পশ্চিম পাড় বটিয়াঘাটা উপজেলার পুটিমারী ও পূর্ব পাড় খাড়াবাদ এলাকায় দিনরাত অবিরাম চলছে ব্যাপক কর্মকাণ্ড। কাক্সিক্ষত গতিতেই এগিয়ে চলছে কাজ। পাইল স্থাপনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ভারী সব যন্ত্রপাতি। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে মোংলা বন্দরের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। নির্মাণকাজ শেষে ২০২০ সালের মধ্যে খুলনা ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হবে সারাদেশের রেল যোগাযোগ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খুলনা-মোংলা রেললাইন চালু হলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
এদিকে খুলনা থেকে মোংলা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের আগেই শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন রেলপথ সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন