ঢাকা, শনিবার ২০ জুলাই ২০১৯, ০৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৬ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

হতাশা মুমিনের চরিত্র নয়-৩

মাওলানা শিব্বীর আহমদ | প্রকাশের সময় : ১৬ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রা.। তাঁর ইসলাম গ্রহণের কাহিনী আমরা অনেকেই জানি- যখন নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতি কার্যক্রমকে কিছুতেই কাফের কুরাইশরা প্রতিহত করতে পারছিল না, আবার আরবের কঠিন গোত্রপ্রীতির কারণে কেউ তাঁকে হত্যা করার মতো সাহসও করছিল না, তখন এক মজলিসে ঘোষিত হলো পুরস্কার। নবী মুহাম্মাদকে হত্যার পুরস্কার। বীর সাহসী তো সেখানে কতজনই ছিল।
কিন্তু এক উমর ছাড়া কেউ সেদিন মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। তিনি খোলা তরবারি নিয়ে ছুটলেন নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যা করার লক্ষ্যে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার রহমত ও কুদরত দেখুন। কাফেরদের পুরো সমাজ মিলে যে কাজটি করার হিম্মত করতে পারেনি, একা উমর তা সম্পন্ন করার দুঃসাহস দেখাতে বেরিয়ে পড়লেন। তাও কেমন অপরাধ- ইসলামের নবীকে সরাসরি হত্যা! উমরের এ মিশন সফল হলে তো ইসলাম এখানেই শেষ!
এমন জঘন্য ও গুরুতর এক অপরাধের দিকে ছুটে চলা উমর পথিমধ্যে আল্লাহ তায়ালার রহমত বর্ষণে এতটাই সিক্ত হলেন, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে গেলেন। এখানেই কি শেষ! তিনি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুনিয়াতেই সুনির্দিষ্টভাবে যে দশজন সাহাবিকে জান্নাতি বলে ঘোষণা করেছেন, যাদেরকে আমরা ‘আশারায়ে মুবাশশারা’ বলে স্মরণ করি, তিনি তাঁদের দ্বিতীয়জন।
আমাদের ইসলামী ইতিহাসের পরতে পরতে এমন অনেক বরেণ্য মনীষীর দেখা মিলবে, যারা শুরুর জীবনে নানামুখী পাপে ডুবে ছিলেন। পরবর্তী জীবনে তারা এতটাই বড় হয়েছেন, এখনো আমরা তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। ফুযায়ল ইবনে ইয়ায, মালিক ইবনে দিনারের মতো নামের এখানে অভাবে নেই। তাজা উদাহরণ দিই।
সারা বিশ্বের মুসলমানদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে এ দুনিয়া থেকে আকস্মিকভাবে বিদায় নিলেন পাকিস্তানের সঙ্গীতশিল্পী জুনায়েদ জামশেদ। শুরুর জীবনে ছিলেন পপতারকা। সেই জগতে তিনি ছিলেন যারপরনাই সফল। বিশ্বজোড়া তার খ্যাতি। জগৎটা যে কতটা নোংরা- তা কি বলার অপেক্ষা রাখে! অথচ সেখান থেকে তিনি উঠে এলেন এমন উচ্চতায়, বিশ্বজুড়ে দ্বীনদার মুসলমানদের কাছে তিনি হয়ে উঠলেন একজন প্রিয় মানুষ।
আর তাবলীগ জামাতের বিশ্বব্যাপী মেহনতের বদৌলতে বর্তমান পৃথিবীর আনাচে-কানাচে এমন কত জুনায়েদ জামশেদ ছড়িয়ে আছে- কে জানে? গায়ক হয়ে উঠছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। সন্ত্রাসী-ডাকাত, ইসলামের দুশমন, অমুসলিম ধর্মগুরু, মন্দির-গির্জার প্রধান ব্যক্তি উঠে আসছেন ইসলামের আলোকিত সীমানায়। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে কি দ্বীন-ধর্ম আর পরকাল নিয়ে হতাশ হওয়ার কোনো সুযোগ আছে? আল্লাহ তায়ালার কী দ্ব্যর্থহীন আহ্বান-
বলো, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেন। সন্দেহ নেই, তিনিই ক্ষমাশীল দয়ালু। -সূরা যুমার (৩৯) : ৫৩।
একই কথা পার্থিব সঙ্কট নিয়েও। এখানকার কোনো সঙ্কটই স্থায়ী নয়। দুনিয়াই যেখানে ক্ষণস্থায়ী, সেখানে এসব সঙ্কট স্থায়ী হবে কিভাবে? পবিত্র কুরআনের একটি ছোট সূরা ‘সূরা আলাম নাশরাহ’। এ সূরায় আল্লাহ তায়ালার ওয়াদা, (‘কষ্টের সঙ্গেই তো স্বস্তি আছে। অবশ্যই কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি আছে।’ (সূরা আলাম নাশরাহ : ৫-৬)।
আল্লাহ তায়ালার এ ওয়াদা সর্বকালের জন্যই সত্য। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাকের একটি বৈশিষ্ট্য এভাবে বর্ণিত হয়েছে, ‘বরং তিনি, যিনি অসহায়ের আহ্বানে সাড়া দেন, যখন সে তাঁকে ডাকে এবং তিনি বিপদাপদ দূর করে দেন আর পৃথিবীতে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করেন। আল্লাহর সঙ্গে কি অন্য কোনো মাবুদ আছে? তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো।’ (সূরা নামল : ৬২)।
তাই হতাশ নয়; মুমিন হবে আশাবাদী। আল্লাহর রহমতের আশায় থাকবে সে; নিরেট পার্থিব বিষয় নিয়েও, দ্বীনী ও পরকালীন বিষয়েও। সর্বশক্তিমান দয়ালু আল্লাহর গুণবাচক নামগুলোর প্রতি যার বিশ্বাস থাকবে অটুট, তার হতাশ হওয়ার সুযোগ কোথায়! এ বিশ্বাস হতাশাকে দূর করবেই।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (8)
রবিউল ১৬ এপ্রিল, ২০১৯, ২:২১ এএম says : 0
হতাশা-মানব জীবনের অতি পরিচিত একটি বিষয়। প্রাপ্তির আশা যেমন রয়েছে আমাদের জীবনে, তেমনি রয়েছে হারানোর বেদনা এবং হতাশা। জীবন ধারণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিভিন্ন আদান-প্রদান বা লেনদেনে অনেক কিছু না পাওয়ার আঘাতে হতাশ হই আমরা।
Total Reply(0)
মিরাজ মাহাদী ১৬ এপ্রিল, ২০১৯, ২:২১ এএম says : 0
হতাশাই আবার কাল হয়ে দাঁড়ায়। শয়তানের প্ররোচনায় হতাশ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় অনেক মানুষ। ইসলাম মানুষকে হতাশ না হওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট উৎসাহ প্রদান করেছে। এক কথায় ইসলাম ধর্মে হতাশার কোনো স্থান নেই।
Total Reply(0)
মির্জা গালিব ১৬ এপ্রিল, ২০১৯, ২:২২ এএম says : 0
পবিত্র কোরানে বহু স্থানে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন প্রসঙ্গে বারবার বলেছেন, আমার রহমত থেকে তোমরা নিরাশ বা হতাশ হয়ো না। পবিত্র কোরানের সুরা জুমারের ৫৩নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা আরো ইরশাদ করেছন, বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সব গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। সাধারণত বিভিন্ন বিপদের কারণেই হতাশাগ্রস্ত হই আমরা। কিন্তু ইসলামের নবি এই বিপদকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার শিক্ষা প্রদান করেছেন। বোখারি শরীফের একটি হাদিসে এসেছে, নবিজি [সা.] বলেছেন, আল্লাহ যার কল্যাণ কামনা করেন, তাকে বিপদেও জড়িত করেন।
Total Reply(0)
মাওলানা মিরাজ রহমান ১৬ এপ্রিল, ২০১৯, ২:২৩ এএম says : 0
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হতাশামুক্ত জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন
Total Reply(0)
তাহমিদা ১৬ এপ্রিল, ২০১৯, ২:২৩ এএম says : 0
স্বাভাবিক নিয়মে জীবনের নানা বাঁকে মুমিনের জীবনে হতাশ হওয়ার মতো পরিস্থিতি আসতে পারে; দুঃখ-কষ্ট জীবনেরই অংশ। এসব এলে হতাশ হয়ে পড়া মুমিনের লক্ষণ নয়। এগুলো এলে কি করতে হবে তা আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে বলে দিয়েছেন।
Total Reply(0)
হামিদ রেজা ১৬ এপ্রিল, ২০১৯, ২:২৪ এএম says : 0
রাতের পর যেমন দিন, ঠিক তেমনি দুঃখের পর আছে সুখ। কাজেই কোনো দুঃখে মুষড়ে পড়া কোনো মুসলমানের সাজে না। মানুষ যত বড় পাপীই হোক, আল্লাহকে ডাকলে আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন। আপনি যত পাপীই হোন, আর যত দুঃখ কষ্টের মধ্যেই থাকুন না কেন, আল্লাহকে স্মরণ করুন। আল্লাহ ওয়াদা করেছেন, তিনি নিশ্চয়ই আপনার ডাকে সাড়া দেবেন।
Total Reply(0)
রবিন ১৬ এপ্রিল, ২০১৯, ২:২৫ এএম says : 0
যিনি ঈমানদার, যিনি আল্লাহর ওপর তায়াক্কুল করেন তিনিই সর্বদা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ইসলাম ও ঈমান মানুষের আশা আকাংখাকে উৎসাহিত করে, পক্ষান্তরে নিরাশা, হতাশাকে করে নিরুৎসাহিত। প্রকৃতপক্ষে যিনি আল্লাহকে প্রভু, রাসূলকে (সা.) অনুসরণীয় অনুকরণীয় নেতা ও ইসলামকে দ্বীন বা জীবনব্যবস্থা হিসাবে গ্রহণ করেছে তার কি কোন হতাশা থাকতে পারে? না, কখনো না, হতাশা-নিরাশা তাকে স্পর্শ করতে পারে না।
Total Reply(0)
করিম বিন জলিল ১৬ এপ্রিল, ২০১৯, ২:০৮ পিএম says : 0
এই সুন্দর ধারাবাহিক লেখাটির জন্য ইনকিলাব ও মাওলানা শিব্বীর আহমদকে অসংখ্য ধন্যবাদ
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন