ঢাকা, শনিবার ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৯ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

বিনোদন প্রতিদিন

মা দিবসে মাকে নিয়ে তারকাদের অনুভূতি

বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১২ মে, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

আজ বিশ্ব মা দিবস। মা দিবসে প্রত্যেকেই কামনা করেন তাদের মা যেখানে যেভাবে আছেন যেন ভালো থাকেন, সুস্থ থাকেন। যারা তারকা হয়েছেন এবং আজকের যারা তারকা তাদের তারকা হওয়ার পেছনে মায়ের অবদান অসীম। তাদের বেশ কয়েকজন মা দিবসে মায়ের অবদান নিয়ে কথা বলেছেন। তাদের কথা লিপিবদ্ধ করেছেন অভি মঈনুদ্দীন।
ওমর সানী : বেশ কয়েক বছর আগে আমার মা ইন্তেকাল করেন। সবসময়ই মায়ের জন্য দোয়া করি আল্লাহ যেন আমার মা-বাবাকে বেহেস্ত নসীব করেন। সন্তান হিসেবে তাদের জন্য এখন দোয়া করা ছাড়া কিছু করার নেই। আমার জীবনের চলার প্রতিটি পদক্ষেপে মাকে খুব মসি করি। মা যখন বেঁচে ছিলেন তখন অনেক দেরিতে শূটিং থেকে বাসায় ফেরা হতো। তখন মনে মনে ভাবতাম সবাই রাতের খাবার খেয়ে ফেললেও আমার মা নিশ্চয়ই খাননি। ঠিকই বাসায় ফিরে দেখতাম মা আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। আসলে মায়ের সম্পর্কে বলে শেষ করা যাবে না। মা যে আমার জীবনে কি ছিলেন তা বলে বুঝাতে পারবোনা। এমনও হয়েছে, মায়ের হাতে রাতে টাকা দিয়েছি ঔষুধ কেনার জন্য। কিন্তু সকালে আমি টাকা চাওয়াতে আমাকে সেই টাকা থেকেই দিয়েছেন। মাকে নিয়ে কথা বলে শেষ করা যাবেনা। সবাই আমার মা বাবার জন্য দোয়া করবেন।
মৌসুমী : প্রতিদিন কেন জানি আয়োজন করে বলা হয়না মা’গো তোমায় অনেক ভালোবাসি। আমি আমার মা বাবার প্রথম সন্তান। প্রথম সন্তান হিপর থেকেই অনেক আদর, স্নেহ মায়া মমতায় আমি বেড়ে উঠেছি। মায়ের সঙ্গে সেই ছোটবেলা থেকেই আমার সখ্য। মায়ের আদর স্নেহ ভালোবাসায় প্রত্যেক সন্তানই বেড়ে উঠে। আমার কাছে মনে হয় আমার মা আমাকে একটু বেশিই ভালোবাসতেন। তাই কখনোই আমার মা আমাকে চোখের আড়াল হতে দিতেন না। আমি যখন মিডিয়ার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করলাম এবং পরর্তীতে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করলাম, আমার প্রয়াত বাবাই প্রতিটি মুহুর্তে আমার পাশে থেকে উৎসাহ দিতেন। আমার প্রতি তিনি এতটাই সচেতন ছিলেন যে আমাকে কীভাবে ভালো লাগবে, আমার অভিনয় কীভাবে ভালো হবে সেদিকে তার সজাগ দৃষ্টি থাকতো। এটা সত্য যে আমার বাবার কারণেই কিন্তু অভিনয়ে নিজেকে আমি এতোটা ভালো অবস্থানে নিয়ে আসতে পেরেছি। এখন আম্মুর বয়স হয়েছে। টুকটাক কিছু অসুস্থতা লেগেই থাকে। তারপরও আম্মু যতটুকু সময় পান আমার কাজগুলো দেখার চেষ্টা করেন। আমাকে উৎসাহ দেয়ার চেষ্টা করেন। এখনো আমি বাইরে থেকে বাসায় ফেরার পর মাম্মি বলে যখন আম্মু ডাকেন তখন প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। ছোটবেলায় আম্মুর আদরে ভালোবাসায় আমি বেড়ে উঠেছি, সেই ভালোবাসার মায়াজালেই আমার আম্মুকে সারাটা জীবন আমি আমার কাছে রাখতে চাই।
পপি : আজকের দিনে বার বার শুধু বলতে চাই, আম্মু আমি তোমাকে অনেক অনেকে ভালোবাসি। কিন্তু তোমাকে তা বলে হয়ে উঠে না। তোমাকে নানা সময় অনেক কষ্ট দিয়েছি। ক্ষমা করে দিও। আর আমাদের সব ভাই-বোনদের তুমি তোমার আশীর্বাদের মধ্যে রেখো সবসময়। তুমি ছাড়া আমার এতো সুন্দর জীবন কখনোই হয়ে উঠতোনা। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি যে আমি তোমার গর্ভে জন্মেছি মা। আমি এর আগে অভিনয়ের জন্য তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছি। কিন্তু আজ মা আমার জন্য সম্মাননা পাচ্ছেন, এটাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠতম অর্জন।
পূর্ণিমা : মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেয়ায় আমি আজকের পূর্ণিমা। তাই মায়ের প্রতি অনেক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা। মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন আমার মাকে সবসময় ভালো রাখেন, সুস্থ রাখেন। সেই মায়েরই মেয়ে আমি নিজেও একজন মা। তাই মায়ের কষ্টটা এখন খ্বু ভালোভাবে বুঝতে পারি। মায়ের কোন তুলনা হয়না। না জেনে না বুঝে মাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। কিন্তু আর কখনো মাকে কষ্ট দিতে চাইনা। সবাই আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন। আর আমার বাবাকে যেন আল্লাহ বেহেস্তবাসী করেন সেই দোয়াও চাই সবার কাছে।
বুবলী : মায়ের কথা বলতে গেলেই সবার আগে আমার নানুর কথা ভীষণ মনে পড়ে। বিশেষত রোজার মাস এলে নানুর কথা যেন একটু বেশিই মনেপড়ে। কারণ নানুর সঙ্গে থেকে থেকেই আমি নামাজ পড়া শিখেছি, রোজা রাখতে শিখেছি। সেই নানু যখন আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন তখন আমার আম্মুকে দেখেছি তিনি কতটা কষ্ট পেয়েছেন। সত্যি বলতে কী মা এমন একজন মানুষ প্রতিটি মানুষ তার মনের ভেতরে শ্রদ্ধার স্থানে রেখে দেন। নানু চলে গেছেন ঠিকই কিন্তু নানু আমার মায়ের মাঝে, আমার মাঝে বেঁচে আছেন। আমরা যখন শুধু তিন বোন ছিলাম, তখন সবার ছোট বলে আম্মু আমাকে মোহাম্মদ বলে ডাকতেন। আমাকে ছেলেদের পোশাক পড়িয়ে রাখতেন। কিন্তু যখন আমি একটু বড় হতে লাগলাম, যখন বুঝতে শিখেছি যে মোহাম্মদ ছেলেদের নাম তখন আমার খুব অভিমান হতো, কেন আমাকে ছেলেদের নামে ডাকা হবে। যাই হোক পরবর্তীতে আম্মু আমাকে ভুবন বলে ডাকতে শুরু করেন। সেই যে আমাকে আম্মু ভুবন বলে ডাকতে শুরু করলেন, এখনো ভুবন বলেই ডাকেন। আমার আজকের অবস্থানের পেছনে আম্মুরই অবদান সবচেয়ে বেশি। আমি যখন সিনেমাতে কাজ শুরু করি তখন পরিবার থেকে প্রতিবন্ধকতা ছিল। আম্মুর মত ছিলনা। কিন্তু আমি আম্মুকে কথা দিয়েছিলাম যে আমি এমন কিছু করবো না যার জন্য তোমাকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। আলহামদুলিল্লাহ আমি আম্মুকে দেয়া কথা রেখেছি, এটাই আমার ভালোলাগা।
তারিন : আমার আম্মুর নাম তাহমিনা বেগম, আমার জীবনের আদর্শ। আমার শক্তি, আমার অনুপ্রেরণা, আমার সবকিছুই আমার মাকে ঘিরে। মা মাটি দেশ, এই তিনটি বিষয়ের মানুষের জীবনে অবদান অনস্বীকার্য। মা শব্দটি পৃথিবীতে একটি শ্রদ্ধার শব্দ। এই পৃথিবীর আলো বাতাস এই যে নি:শ্বাস নিচ্ছি তা মায়ের ত্যাগের কারণেই জন্মের শুরু থেকেই নিতে পারছি। মায়ের যেমন বিকল্প হয়না, মায়ের কোন তুলনাও হয়না। আমার জীবনে মায়ের অবদান বলে শেষ করা যাবেনা। ছোটবেলা থেকে আমার বেড়ে ওঠা, আমার শিক্ষা, আমার নৃত্যশিল্পী হয়ে ওঠা, সঙ্গীত শিল্পী হয়ে ওঠা, সর্বোপরি একজন অভিনেত্রী হয়ে ওঠার পেছনে আমার মায়েরই অবদান সবচেয়ে বেশি। মায়ের কাছেই আমার গানে হাতেখড়ি। অভিনয় জীবনের শুরুতে মা’ই ছিলেন আমার কোআর্টিস্ট। যখন কোন স্ক্রিপ্ট হাতে পেতাম তখন মাই হতেন আমার কোআর্টিস্ট। অভিনয়ের চর্চা করতাম এভাবেই। আর এভাবেই আমার অভিনেত্রী হয়ে উঠা। আমার মা খুব মেধাবী ছিলেন। তার ইচ্ছে ছিল বলেই আমি আজ অভিনেত্রী তারিনে পরিণত হতে পেরেছি। আমার মা যেভাবেই থাকুন, সবসময়ই যেন আল্লাহ ভালো রাখেন এই দোয়া চাই সবার কাছে।’
জাকিয়া বারী মম : আমার আব্বু আম্মুকে আমি অনেক কষ্ট দিয়েছি। আর কোনদিন আব্বু আম্মুকে কষ্ট দিতে চাইনা। কোনভাবেই না, কোন কারণেই না। আমার জীবনে একটিই প্রধান চাওয়া আমার শেষ নি:শ্বাস পর্যন্ত তারা যেন আমার কাছ থেকে আর কোন কষ্ট না পান। তাদের মুখে যেন সারক্ষণ হাসিই লেগে থাকে। আমার জীবনে আমি যা কিছুই ভালো করেছি তার সবই আমার আম্মা আব্বার অবদান। আর যা খারাপ করেছি সবই আমার। আম্মু আমার জীবনের শেষ্ঠ শিক্ষক। তিনি আমার আদর্শ। আমার আম্মু একজন অধ্যাপক। একজন মানুষ এতো পরিশ্রমী হয় তা আম্মুকে না দেখলে বিশ্বাস করা সম্ভব না। আব্বু আমাদের পরিবারের স্তম্ভ। আমার ছোট ভাই মনন ও তার স্ত্রী মৌমিতার মতো আমার দু’জন ভালো বন্ধু আছে একই পরিবারে এটাও আমার জন্য আশীর্বাদ। আমার অনেক কিছুই নেই হয়তো কিন্তু আমার শিক্ষত মা এবং শিক্ষিত একটি পরিবার আছে। ভালো মানুষ আর শিক্ষতি মানুষ পাশে থাকার মতো খুঁটি আর কিছুই নাই জীবনে। আমার পরিবারে তা আছে। আর তাই আমি বারবার জন্ম নিলে এই পরিবারেই জন্মাতে চাই। আমি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ।
মেহজাবিন চৌধুরী : আমার আম্মু মিসেস গাজালা চৌধুরী। আমার জীবনে চলার পথের প্রতিটি পদক্ষেপে আম্মু আমাকে সাহস যুগিয়েছেন। অভিনয় জীবনের আজকের সাফল্যেও পেছনে আম্মু আমার প্রতিটি পদক্ষেপে সঙ্গে ছিলেন। যে কারণেই কিন্তু আমি আজকের মেহজাবিন হতে পেরেছি। না জেনে না বুঝে আম্মুকে কষ্ট দিয়েছি। তবে তাকে অনেক বেশি কষ্ট দেইনি আমি। তারপরও আম্মুর কাছে সরি। আম্মু প্রায়ই তার শরীরের নানান সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। তার মাথা ব্যথা করে, কোমর ব্যথা কওে, ডায়াবেটিকস’র সমস্যা। তাই এসব কথা যখন শুনি তখন মনে হয় নিজের শরীরটা কেটে যদি আম্মুকে দিয়ে দিতে যদি পারতাম, তাতেও যদি আম্মু পুরোপুরি সুস্থ থাকতেন আমি শান্তি পেতাম।
ইশানা : আমার অভিনয় জীবন, আমার ব্যক্তি জীবন এবং আমাকে সম্পূর্ণরূপে একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমার মায়ের ভূমিকা অপরিসীম। প্রতিটি মুহুর্তে আমি আমার আম্মুকে পাশে পাই নানান বিপদে আপদে কিংবা যেকোন কিছুতেই। আমার জীবনের চলার পথের প্রতিটি পদক্ষেপে আম্মুর গাইডলাইন , আম্মুর সাপোর্ট আমি ভীষণভাবে নিয়ে থাকি। চেষ্টা করি আম্মু যেন কোন কারণে আমার কাছ থেকে কষ্ট না পান। তারপরও যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন কোন কারণে আম্মু যেন আমাকে ক্ষমা করে দেন। আমার আম্মু আমাকে বাবু বলে ডাকেন। আমার আম্মুর নাম নীলিমা। তাই আম্মুকে কখনো আম্মু, কখনো মা, কখনো নীলিমা বলেও ডাকি। সবগুলো নামের মধ্যে এক অন্যরকম মায়া ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। আমি সারাটি জীবন আমার আম্মুর পাশে পাশেই থাকতে চাই।
আঁখি আলমগীর : আমি খুব ভাগ্যবান একজন সন্তান। আমার বাবার কারণে আমাদের বাসায় অনেক অনেক অভিনেতা অভিনেত্রীরা বাসায় আসতেন। আবার আমার মায়ের কারণে অনেক কবি সাহিত্যিকের আনাগোনা ছিলো বাসায়। আমার সঙ্গীত জীবনের পথচলায় আমার বাবা-মা সবসময়ই আমার পাশে ছিলেন এবং এখনো আছেন। আমার মায়ের লেখা অনেক গান আছে। মায়ের লেখা গান নিয়ে আমার গাওয়া এবং বিশিষ্ট শিল্পী যারা গেয়েছেন সেই হিট গানগুলো নিয়ে একটি অ্যালবাম করার পরিকল্পনা করছি। এটা আমার মায়ের প্রতি, মায়ের লেখা গানের প্রতি ভালোলাগা ভালোবাসা থেকেই করবো। কারণ এখন পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম কেউ শুনে না। কিন্তু আমার মায়ের গানগুলো সংরক্ষণ করার জন্যই আমি তা করবো। আমার মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন, মা যেন সবসময় ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন। কারণ মায়ের কারণেই আজকের এই সুন্দর পৃথিবী দেখা। মা’যে কতটা আগলে রেখে আদর ভালোবাসা দিয়ে আমাকে বড় করেছেন তা নিজের সন্তানের প্রতি সেই ভালোবাসার অনুভব থেকে উপলদ্ধি করি প্রতি মুহুর্তে।
লিজা : আমার সঙ্গে আমার আম্মুর সম্পর্কটা একটু অন্যরকম মধুর সম্পর্ক। আমার বাবার সঙ্গেও। তাদের দু’জনকে সবসময়ই আমার এটা ওটা গিফট করতে ভীষণ ভালোলাগে। আম্মুর সঙ্গে ঝগড়া করি , আবার কিছুক্ষণ পর সরিও বলি। মা মেয়ের সম্পর্ক যেমন মধুরতর হয় তেমনই সম্পর্ক আমাদের দু’জনের। আম্মুর হাতের রান্না করা খাবার ছাড়া আমার আর কোন খাবারই একদমই ভালোলাগেনা। তাই যখন শো’র কারণে দেশে বিদেশে থাকতে হয় তখন খাওয়া নিয়ে আমার খুউব সমস্যা পড়তে হয়। আম্মু সবসময়ই আমার গান শুনেন। আমার গানের মধ্যেই আমি অন্যরকম সুখ খুঁজে পান। আমার লিজা নামটি আমার আব্বুর রাখা। আমার আম্মু আব্বু আমাকে নিয়ে গর্ব করেন সবসময়। এটা আমাকে পুলকিত করে। আমি সবসময়ই চেষ্টা করবো আমার কারণে যেন কখনো তারা কষ্ট না পান। তাদের জন্যই আমার এই পৃথিবীতে আসা। তাই সারাটি জীবন তাদের জন্যই নিবেদিত হয়ে থাকতে চাই।
জিনিয়া জাফরিন লুইপা : আমার আম্মু বুঝেছিলেন বিধায় আম্মু আমাকে গানের সাথে ছোটবেলায় সম্পৃক্ত করে ছিলেন। আম্মু বুঝতে পেরেছিলেন আমাকে দিয়ে গানটাই ভালো ভাবে করিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। তাই আম্মুর শতভাগ চেষ্টায় আমি নিজেকে আজকের একজন সঙ্গীতশিল্পীতে পরিণত করতে পেরেছি। মহান আল্লাহর কাঝে অসীম কৃতজ্ঞতা যে তিনি আমাকে এমন একজন মায়ের গর্ভে জন্ম দিয়েছেন। আম্মুর সংস্কৃতির নানান ক্ষেত্র সম্পর্কেই সবসময় আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং জানেনও বটে। তবে তিনি আমার মধ্যে সঙ্গীতের প্রতি অনুরাগটা বেশি দেখেছিলেন বলেই আমাকে সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে গড়ে তুলেছেন। আমি মাকে জীবনে একবারই অনেক বড় কষ্ট দিয়েছি। বুঝতে পেরেছিলাম যে কষ্ট দিয়েছি। কিন্তু এটাও সত্যি পরবর্তীতে তা সবার জন্যই মঙ্গল হয়েছে। এখন আমরা পরিবারের সবাই বেশ ভালো আছি, আলহামদুলিল্লাহ। আর মা দিবসে আম্মুর প্রতি অনকে অনেক ভালোবাসা। আমার আম্মু পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আম্মু।
ইউসুফ আহমেদ খান : মা শব্দটা অনেক কঠিন প্রশ্নের সহজ উত্তর। ছোট বেলা থেকে মা ভাল কোন খবর আমি দিতে পেরেছি বলে মনে পড়েনা। আমার দুষ্টুমি আর পড়ায় অমনোযোগিতা মাকে কথা শুনিয়েছে বহুবার। কিন্তু শত আঘাতেও নীরবে কেঁদে আমার মা আমাকে বুঝিয়েছেন আমি আলাদা। সবার থেকে আলাদা। বুঝিয়েছেন আমি পারব। আমার কোন একদিনের সাফল্যের হাসির অপেক্ষায় কেটেছে মায়ের এই জীবন। মিথ্যে বলবনা। এক সময় নিজেকে খুব বেশি অপরাধী মনে হতো। এখনও হয়না তা নয়। তবে আমি বুঝে গেছি, আমি কিছু পারি আর নাই পারি, মায়ের কাছে আমি সেরা। আর সেটা বোঝার পরে বুঝেছি, আমার মা- পৃথিবীর সেরা মা। মা কে অনেক কাঁদিয়েছি, হয়তো আরও কাঁদাবো। তবে শেষ দিন পর্যন্ত চেষ্টা করব মা বাবার এই জীবনের কষ্টের দাম দিতে, জানি পারবোনা। তবে এই চেষ্টায় আমি হারবোনা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (2)
Tarin ১২ মে, ২০১৯, ৯:২০ এএম says : 0
সবার কাছেই মা সকল কিছুর উর্ধ্বে
Total Reply(0)
নাবিল ১২ মে, ২০১৯, ৯:২১ এএম says : 0
সকলের সফলতার পিছনেই মায়ের হাত থাকে
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন