ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০১৯, ০৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৭ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

ভালুক আক্রান্ত কিশোরকে হেলিকপ্টারে তুলে আনলো সেনাবাহিনী

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১২ মে, ২০১৯, ৫:৩৬ পিএম

জুম চাষ শেষে বাড়ি ফিরছিল কিশোর পণবিকাশ ত্রিপুরা। হঠাৎ ক্ষেপা বুনো ভালুকের আক্রমণ। ক্ষতবিক্ষত কিশোরের পুরো শরীর। ভালুকের থাবায় কয়েকটি দাঁতও পড়ে যায় তার। ঘটনাটি রাঙ্গামাটি জেলার সাজেকের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। সঙ্কটাপন্ন এ কিশোরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে সেনাবাহিনী। তাকে হেলিকপ্টারে এনে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে। ওই কিশোরের চিকিৎসায় গঠিত হয়েছে মেডিকেল বোর্ডও।
রোববার বেলা সোয়া ২টায় আহত কিশোরকে নিয়ে রাঙ্গামাটি থেকে আসা হেলিকপ্টারটি চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অবতরণ করে। এসময় সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা ওই কিশোরকে হেলিকপ্টার থেকে নামিয়ে সিএমএইচের অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেন। আহত পণবিকাশ ত্রিপুরা (১৬) রাঙ্গামাটির সাজেক ইউনিয়নের নিওথাংনাং পাড়ার অলীন্দ বিকাশ ত্রিপুরার ছেলে।
পণবিকাশের সঙ্গে হেলিকপ্টারে আসা তার চাচাতো ভাই হরেন বিকাশ ত্রিপুরা সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার বাড়ি থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার হাঁটা পথের সমান দূরত্বে জঙ্গলে বাবার সঙ্গে জুমচাষ করতে গিয়েছিল পণবিকাশ। বিকেলে কাজ শেষে ফেরার পথে পণবিকাশের ওপর একটি হিংস্র ভালুক ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভালুকের থাবায় পণবিকাশের বেশ কয়েকটি দাঁত পড়ে গেছে। এছাড়া ভালুকের আঁচড়ে পণবিকাশে মুখম-লসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মক জখম হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় পণবিকাশের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়।
হরেন ত্রিপুরা বলেন, গাড়ির রাস্তা থেকে আমাদের বাড়িতে হেঁটে যেতে সময় লাগে চারদিন। আমাদের এলাকায় কোনো হাসপাতাল নেই, ডাক্তার নেই। সেনাবাহিনীর সহযোগিতা পাওয়ায় আশা করছি আমার ভাইকে বাঁচানো সম্ভব হবে। সেনাবাহিনীর সহযোগিতার জন্য তাকে স্থানীয় ৫৪ ব্যাটেলিয়ন বিজিবি’র ক্যাম্পে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সেনাবাহিনীকে খবর দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোর্শেদ রশিদ বলেন, প্রাথমিকভাবে দেখে ওই কিশোরের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ মনে হয়েছে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আরও নিশ্চিত করে বলা যাবে যে রোগীর প্রকৃত অবস্থা কী। অবস্থা যা-ই হোক, আমরা সর্বোচ্চ সুচিকিৎসা নিশ্চিত করব। তার প্রাণটা যেন রক্ষা পায়, সেই চেষ্টা আমাদের অবশ্যই থাকবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন