ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০৯ ভাদ্র ১৪২৬, ২২ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

ছাত্র রাজনীতি করেছি পদ নিয়ে চিন্তা করিনি

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ মে, ২০১৯, ২:২৫ এএম


আওয়ামী লীগ এক নম্বর পলিটিক্যাল পার্টি
মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারা বিশাল অর্জন
দেশ যেন ফের স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে না যায়

 


স্কুল জীবন থেকে রাজনীতিতে জড়িত হলেও কখনো পদ চাননি, পদ নিয়ে চিন্তা করেননি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে গতকাল গণভবনে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে একথা জানান তিনি। কখনো পদ নিয়ে চিন্তা না করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, স্কুল জীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। তারপর কলেজে গিয়ে, তারপর ইউনিভার্সিটিতে তখনো ছাত্রলীগেরই সদস্য ছিলাম। আমার রাজনীতি ছাত্র রাজনীতি থেকেই শুরু। তবে কখনো কোনো বড় পোস্টে ছিলাম না, পোস্ট চাইওনি কখনো।
তিনি বলেন, যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির একজন সদস্য ছিলাম। কখনো পদ নিয়ে চিন্তা করিনি, পদ চাইওনি। আমরা পদ সৃষ্টি করে এবং সবাইকে পদে বসানো এই দায়িত্বটাই পালন করতাম। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এছাড়া স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে যখন ফিরেছিলাম (১৯৮১ সালের ১৭ মে), সেদিন আকাশ মেঘে ঢাকা ছিল। প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছিল। বিমানটি বাংলার মাটি ছুঁয়েছে, ট্রাকে করে আমাদের নিয়ে আসা হচ্ছে। ওই সময় ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ এসেছিল। এয়ারপোর্ট থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত এত মানুষের ঢল যে এইটুকু পথ আসতে প্রায় চার ঘণ্টা সময় লেগে গিয়েছিল।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সেই নির্মম ঘটনার স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, মাত্র ১৫ দিন আগে, জুলাই মাসের ৩০ তারিখে ছোট বোন রেহানাকে নিয়ে আমি জার্মানিতে গিয়েছিলাম। রেহানা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কলেজে গেলাম। সবাইকে রেখে গিয়েছিলাম, কামাল, জামাল, রাসেল। মাত্র ১৫ দিনের মাথায় শুনলাম, আমাদের কেউ নেই, আমরা নিঃস্ব। আমাদের দেশেও আসতে দেওয়া হলো না। একপর্যায়ে চাচা এসে আমাদের নিয়ে যায়।
দেশের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই ফিরে এসেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিলাম দেশে আসব। আমি জানি না কী করব, কোথায় থাকব, কই যাব। অনেক বাধা, অনেক বিপত্তি। তবু সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাকে আসতেই হবে।
বঙ্গবন্ধুই রাজনৈতিক আদর্শ ছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রাজনীতির কাজ করে যেতাম আব্বার আদর্শ নিয়ে। তিনি দেশের জন্য কাজ করেছেন। বছরের পর বছর জেল খেটেছেন। আমরা কখনো টানা দুই বছরও আব্বাকে জেলের বাইরে পাইনি। এ নিয়ে আমাদের কোনো হা-হুতাশ ছিল না। আমার মা খুব চিন্তাশীল ছিলেন, তিনি বাসাও দেখতেন, বাইরেও দেখতেন। সাংসারিক কোনো ঝামেলা তিনি আব্বাকে দিতে চাইতেন না। আমাদের দাদা-দাদী, চাচারা পারস্পরিক সহযোগিতা করতেন। কাজেই এমন একটি পরিবেশ থেকে আমরা উঠে এসেছি, যে মাথাতেই ছিল দেশের জন্য কিছু একটা করে যেতে হবে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা সপরিবারে নিহত হওয়ার পর বেশ কয়েক বছর বিদেশে নির্বাসিত থেকে ১৯৮১ সালের আজকের এই দিনে দেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে আসার আগে বিদেশে থাকা অবস্থায় তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি টানা ৩৮ বছর বাংলাদেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠনের আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
৯৬ সালের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এক টার্ম ও ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে টানা তিনবার মিলিয়ে বাংলাদেশে ইতিহাসে ৪ টার্ম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা বলেন, আজকে সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ এক নম্বর পলিটিক্যাল পার্টি। যে পার্টি মানুষের আস্থা, বিশ্বাস অর্জন করেছে। সেই আস্থা বিশ্বাস আমরা দেখতে পারি এবারের নির্বাচনে, নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে যারা প্রথম বারের ভোটার তারা সকলে আওয়ামী লীগ কে ভোট দিয়ে তাদের আস্থা বিশ্বাসকে তারা জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতায় থাকলে সাধারণত মানুষের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। কিন্ত আমরা ক্ষমতায় এসে মানুষের আস্থা বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি বলেই মানুষের ভোট আমরা পেয়েছি। আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারণটা হলো আমরা যে ক্ষমতায় থেকে মানুষের জন্য কাজ করেছি, মানুষের জন্য উন্নয়ন করেছি, মানুষের ভাগ্য গড়ার জন্য যে কাজগুলো করেছি। সেটা মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছে। এটা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যেকোন রাজনৈতিক নেতার জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে মানুষের আস্থা বিশ্বাসটা অর্জন করা। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থেকেও মানুষের আস্থা বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি এটাও কিন্তু বিশাল অর্জন।
আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের জনগণের আস্থা বিশ্বাস ধরে রাখার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নেতা-কর্মীদের কাছে এইটুকু চাইবো, এই আস্থা বিশ্বাস যেন আমরা ধরে রাখতে পারি। ব্যক্তিগত জীবনে কি পেলাম, না পেলাম সে চিন্তা করি। দেশের মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম, কতটুকু দিতে পারলাম সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা।
আওয়ামী লীগে ধ্বংস করতে বিভিন্ন সময়ের ষড়যন্ত্র ও প্রতিকুল পরিবেশে আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, যারা বার বার চেয়েছে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে তারা সফল হয়নি। আওয়ামী লীগ কিন্তু আওয়ামী লীগের মতই ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (10)
Mahfuzur Rahman Sagar ১৮ মে, ২০১৯, ১:৫৯ এএম says : 0
সেটা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আ স ম আবদুর রব, এরা ভালো বলতে পারবে।
Total Reply(0)
শ্যামল বাংলা ১৮ মে, ২০১৯, ১:৫৯ এএম says : 0
আপনার কথা মানলাম তাহলে রব্বানি আর শোভন কে পদ থেকে বাদ দিয়ে দেন।
Total Reply(0)
Akash Khan Dn ১৮ মে, ২০১৯, ২:০০ এএম says : 0
পদের চিন্তা করলে কখনো দলকে ভালোবাসা হয় না -
Total Reply(0)
Drubo Bin Pitthu ১৮ মে, ২০১৯, ২:০০ এএম says : 0
যারা সত্যিকারের ছাত্রলীগ, তারা পদের চিন্তা করে না,,,,
Total Reply(0)
Sayed Golam Sabuj ১৮ মে, ২০১৯, ২:০১ এএম says : 0
ঠিক। রাজনীতি করতে পদ লাগেনা
Total Reply(0)
Masud Kazi ১৮ মে, ২০১৯, ২:০১ এএম says : 0
পদ নিয়ে চিন্তার দরকার নেই, সময় হলে পদই তোমাকে খুঁজে নেবে।
Total Reply(0)
আশরাফুজ্জামান রিয়াদ ১৮ মে, ২০১৯, ২:০২ এএম says : 0
তুমি ফিরে এসেছিলে বলেই মাথা উচু করে বাঁচতে শিখেছি। ১৭ মে গনতন্ত্রের মানসকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।
Total Reply(0)
Mohammed Kowaj Ali khan ১৮ মে, ২০১৯, ২:৫৭ এএম says : 0
রাজনীতি কি এবং কেন? ইসলাম শান্তি, ইসলাম মূক্তি, ইসলাম শিফা, ইসলাম রাজনীতি, ইসলাম শক্তি। politics অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি অধ্যায় ইসলামের। ............
Total Reply(0)
Rasal Haque ১৮ মে, ২০১৯, ১১:৫০ এএম says : 0
আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তার কথা বলার আগে একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিলে বিশ্বাস করতাম
Total Reply(0)
বাবুল ১৮ মে, ২০১৯, ১১:৫২ এএম says : 0
আজকে সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ এক নম্বর পলিটিক্যাল পার্টি। এটা সত্য। তবে কিসের বিবেচনায় সেটা হলো আলোচনা পর্যালোচনার বিষয়
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন