ঢাকা, সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

সারা বাংলার খবর

বেনাপোল কাস্টম হাউস প্রযুক্তিতে কমছে

রাজস্ব ফাঁকি

বেনাপোল অফিস : | প্রকাশের সময় : ২১ মে, ২০১৯, ১২:০৪ এএম | আপডেট : ১২:২১ এএম, ২১ মে, ২০১৯

ক্রমেই আধুনিক হচ্ছে বেনাপোল কাস্টম হাউস। বদলে গেছে বাণিজ্যিক কাঠামো। রাজস্ব ফাঁকি রোধ, শুল্কায়ন ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। কাস্টম হাউসকে আনা হয়েছে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের আওতায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর।
বেনাপোল কাস্টম হাউসকে আধুনিক রাজ্স্ব বান্ধব গড়ে তোলার স্বীকৃতি হিসেবে মিলেছে ‘বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৯।’ বিশ্বব্যাংক স¤প্রতি বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরীকে দেশ সেরা ‘কাস্টমস কমিশনার’ হিসেবে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।
জানা গেছে, বেনাপোল কাস্টম হাউসের নিরাপত্তা জোরদারে স্ক্যানিং মেশিনের পাশাপাশি অত্যাধুনিক মেটাল ডিটেকটর ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ট্র্যাভেল ট্যাক্স সহজীকরণের জন্য সোনালি ব্যাংক বুথ বৃদ্ধি করা হয়েছে। যাত্রী হয়রানি বন্ধে চেকপোস্টে বহিরাগত প্রবেশ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের জন্য ১০০ ট্রলি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে। ফলে যাতায়ত ব্যবস্থা আরো সহজ হয়ে যাবে।
সংস্কারের মাধ্যমে আমদানি পণ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩৬ ধরনের রপ্তানি পণ্য দ্রুত প্রেরণে দুটি লিংক রোড চালু করা হয়েছে। কার্গো সংস্কারের আগে ভারত একটি পথ বন্ধ রাখতো। লিংক রোড চালু করায় পণ্যজট ও আমদানি-রপ্তানি ব্যয় কমেছে অনেকখানি। এছাড়া বেনাপাস সফটওয়্যার চালু, শুল্কায়ন কার্যক্রম সঠিক ও দ্রুত করণসহ একাধিক সংস্কার পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে।
অবৈধ রাসায়নিক পণ্য চোরাচালান প্রতিরোধে চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি। আগে ছিল নামমাত্র যন্ত্রপাতি। আগে রাসায়নিক দ্রব্য পরীক্ষা করতে যেখানে ৭ থেকে ১৫ দিন লাগতো, সেখানে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনের ফলে তা ঘণ্টায় নেমে এসেছে। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় গোয়েন্দা ও নিবারক তৎপরতায় ইনভেস্টিগেশন রিচার্স এন্ড ম্যানেজমেন্ট টিম গঠন করা হয়েছে। এনবিআর প্রদত্ত গাইডলাইনের আলোকে আইআরএম দলের প্রোফাইলিং ও নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বেনাপোল কাস্টম হাউস থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বন্দরটি দিয়ে পণ্য আমদানি হয়েছে ১২ লাখ ৭১ হাজার ২৪ টন। ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ বেড়ে যথাক্রমে ১৩ লাখ ৫৪ হাজার ৯৪২, ১২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৫, ১৫ লাখ ১৯ হাজার ২২০ ও ১৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৯৭ টনে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘আমি চাই ব্যবসায়ীদের আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া আরো সহজ ও গতিশীল হোক। বন্দর উন্নয়নে বেনাপাস সফটওয়্যার, আমদানি-রপ্তানিতে নতুন গেট স্থাপন, রাস্তার উন্নয়ন, উন্নত বন্দর ব্যবস্থাপনা, আধুনিক কেমিক্যাল ল্যাবরেটরিসহ বেশ কিছু বিষয় সংযোজন হয়েছে। এর ফলে পণ্য আমদানি-রপ্তানি অনেক গতিশীল হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন