ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

রাজধানীতে চলে ১২ লাখ

দুই সিটির কাগজপত্রে বৈধ রিকশা ৮৬ হাজার

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৬ মে, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

রাজধানীর অলিতে-গলিতে, মহাসড়কে, ভিআইভি রোডে সবখানে শুধু রিকশা আর রিকশা। রিকশার নৈরাজ্যে বিশৃঙ্খল, অনিরাপদ ও গতিহীন হয়ে উঠছে রাজধানী ঢাকা। রিকশার কারণে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও যানজটকে কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। অথচ যানজটের প্রধান অনুসঙ্গ রিকশা নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেন না। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও এ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় না শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে। রমজানে ঢাকার রাস্তায় যানজট ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। দুপুরের পর একবার যানজটে আটকা পড়লে ইফতারির আগে ছাড়া গাড়ি নড়েই না। এর নেপথ্যের কারণও রিকশা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর যানজট নিরসনের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবসম্মত নয়, প্রকল্পসর্বস্ব। এ কারণেই যানজট নিরসনে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ থেকে সফলতা আসছে না। রিকশার কারণে ঢাকার রাস্তায় যানবাহনের গতি আসছে না। চলতে গিয়ে রিকশার ভিড়ে আটকে যায় গাড়ি। বিশ্বব্যাংকের তথ্যও বলছে, এক দশকে ঢাকায় যানবাহনের গড় গতি ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার থেকে নেমে এসেছে মাত্র সাত কিলোমিটারে। কয়েক বছরের মধ্যে তা ঘণ্টায় চার কিলোমিটারে চলে আসবে, যা হাঁটার চেয়েও মন্থর।
রিকশা নিয়ন্ত্রণের জন্য এর আগে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন বোর্ড (ডিটিসিবি) বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও রাজনৈতিক কারণে সফল হতে পারেনি। সিকি শতাব্দী ধরে নিবন্ধন বন্ধ থাকলেও ভোটের রাজনীতি ও ২৫টি সংগঠনের বাণিজ্যে ১২ লাখেরও বেশি অবৈধ রিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রাজধানীর রাজপথে। সিটি কর্পোরেশন দুই ভাগ হওয়ার পর প্রথম নির্বাচনে নবনির্বাচিত দুই মেয়রেরই প্রতিশ্রুতি ছিল নগরবাসীকে ‘ক্লিন ঢাকা’ উপহার দেয়া। উত্তর সিটির মরহুম মেয়র আনিসুল হক অভিজাত এলাকায় রিকশা নিয়ন্ত্রণে সফল হলেও দক্ষিণে এ নিয়ে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লিন ঢাকার জন্য নয়, যানজট নিয়ন্ত্রণ তথা নগরবাসীর ভোগান্তিতে কমাতে রিকশা নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে মহানগরীতে বৈধ লাইসেন্সধারী রিকশার সংখ্যা প্রায় ৮৬ হাজার। আর অবৈধ রিকশা আছে ১২ লাখেরও বেশি। নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর নজরুল ইসলাম বলেন, রাজধানী শহরে আসলে রিকশা থাকার কথা নয়। এগুলোকে অবশ্যই কমিয়ে ফেলতে হবে। প্রধান সড়কগুলোতে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে। আর যেগুলোতে চলবে সেগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে চলার ব্যবস্থা করতে হবে।
১৯৩৮ সালে কলকাতা থেকে ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ঢাকায় আনা হয়েছিল রিকশা। কলকাতা পৌরসভা রিকশাকে ‘অমানবিক যান’ ঘোষণা করেছে। পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন শহরে যানজট ও বিশৃঙ্খলা কমাতে রিকশা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ ঢাকায় রিকশার সংখ্যা বাড়ছেই। কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না থাকার পরেও গ্রাম থেকে রাজধানীতে এসেই এলাকাভিত্তিক গ্যারেজের সূত্র ধরে রিকশার চালক বনে যাচ্ছে শত শত মানুষ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল ইএনএফপিএর পরিসংখ্যান মতে, দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ, ঢাকায় এই হার ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। এ হিসাবে প্রতিদিন রাজধানীতে গড়ে বাড়ছে ১৭০০ মানুষ। এই বাড়তি মানুষের একটি অংশ ভূমিহীন, যাদের অল্প জমি আছে বাড়তি আয়ের জন্য তারাও ঢাকায় আসছে। কৃষিকাজ ছেড়ে শহরে এসে তার একটি অংশ বনে যাচ্ছে রিকশাচালক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে, ঢাকায় রিকশার চেয়ের রিকশা চালকের সংখ্যা দ্বিগুনের কাছাকাছি। অর্থাৎ ১৫ লাখেরও বেশি। উইকিপিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪১ সালে ঢাকায় রিকশা ছিল ৩৭টি। ১৯৪৭ সালে বেড়ে হয়েছিল ১৮১টি। সে সময় বিদেশ থেকে ঘোড়ার গাড়ির সঙ্গে রিকশাও আনা হয়েছিল। রিকশা নিয়ে ঢাকাবাসীর ব্যাপক কৌতুহলও ছিল সে সময়। কৌতুহলের সেই রিকশা ঢাকাবাসীর জন্য যন্ত্রণাদায়ক হবে কে জানতো। ঢাকার রাস্তায় ১৯ ধরনের যান্ত্রিক যানবাহনের সঙ্গে একই রাস্তায় চলছে রিকশা, রিকশাভ্যান, ঠেলাগাড়ির মতো অযান্ত্রিক যানবাহন। সাথে যোগ হয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক। এসব মিশ্র পরিবহন যান চলাচল করছে লেন, বিধি না মেনেই। এতে করে সড়কে দুর্ঘটনার হার বেড়েই চলেছে। আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী, রাজধানীর রাস্তায় সর্বোচ্চ দুই লাখ ১৬ হাজার গাড়ি চলতে পারে। সেখানে ঢাকায় চলছে ১২ লাখের ও বেশি রিকশা। অর্থাৎ সব ধরনের যান্ত্রিক গাড়ির চেয়েও বেশি হারে রিকশা চলছে। রাজধানীর যানজটের এটা একটা প্রধান কারণ।
পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা ও এর আশপাশে এক কোটি ৭০ লাখ বা তার কিছু বেশি মানুষের বসবাস। এক সমীক্ষার হিসাবে, ঢাকায় রিকশার যাত্রী ১৭ লাখ ৬০ হাজার। রিকশায় দৈনিক যাতায়াতের সংখ্যা দুই কোটি ৯৩ লাখ। কোনো আদর্শ মহানগরীতে আয়তনের ২৫ শতাংশ সড়ক থাকতে হয়। ঢাকা মহানগরীতে আছে প্রায় ৭ শতাংশ। মহানগরীর দুই হাজার ২৮৯ কিলোমিটার সড়ক আছে। প্রধান প্রধান সড়কের মধ্যে যন্ত্রচালিত গাড়ি চলাচল করতে পারে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ সড়কে। দখল, অপ্রশস্ততা, নির্মাণ সামগ্রীর কারণে ব্যবহার করতে না পারাসহ বিভিন্ন কারণে ৯৬ শতাংশ সড়কেই বড় গাড়ি চলতে পারে না। সরকারের আরএসটিপির সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর প্রধান সড়ক, বাইলেনসহ বিভিন্ন সড়কের ৯৫ শতাংশেই রিকশার আধিক্য থাকে। নগরীতে রিকশার সংখ্যা কতো এর কোনো সঠিক হিসাব নেই কারো কাছে। রাজউকের মাস্টার প্লান অনুযায়ী ঢাকায় রিকশার সংখ্যা ৫ লাখ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী নগরীতে রিকশার সংখ্যা ৫ লাখেরও বেশি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঢাকায় এখন রিকশার সংখ্যা ১২ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে ৮০ হাজারেও বেশি মোটরচালিত রিকশা। সাথে আরও ৮০ হাজার আছে ইজিবাইক।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, রিকশা চলছে রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের নেমপ্লেট লাগিয়ে। একেক এলাকায় একেক সংগঠনের ব্যানারে রিকশা চলে। প্রতিদিনই ঢাকার রাস্তায় শত শত রিকশা নামছে। আগে সাধারণ রিকশা নামানো হলেও এখন মোটরচালিত রিকশাই বেশি নামছে। নগরীতে চলাচলের জন্য রিকশার লাইসেন্স বা নম্বরপ্লেট প্রদানের এখতিয়ার একমাত্র ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের। অথচ সেই নিয়ম অমান্য করে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এবং পুলিশের সহযোগীতায় বিভিন্ন সংগঠনের নামে রিকশার নম্বরপ্লেট বিতরণ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর শ্রমিকলীগের ব্যানারে শুরু হয় রিকশার নম্বরপ্লেট বাণিজ্য। ইতিমধ্যে কয়েকটি সংগঠন নম্বরপ্লেট বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে ইনসুর আলীর নেতৃত্বাধীন সংগঠন জাতীয় রিকশা শ্রমিক লীগের ব্যানারে ৫০ হাজারেরও বেশি রিকশা চলছে রাজধানীতে। এছাড়া রিকশা কেন্দ্রীক মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সংখ্যা ৩৫/৪০টির মতো। এর মধ্যে ১৮টি সংগঠনের নামে রিকশার নম্বরপ্লেট ব্যবহার হয়ে আসছে। এসব সংগঠন বিভিন্ন সরকারের আমলে নির্দিষ্ট নম্বরপ্লেট বিতরণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত বলে দাবি করে। যেমন-১৯/ডি টোলারবাগ মিরপুরের ঢাকা সিটি করপোরেশন রিকশা মালিক সমিতি। সিটি কর্পোরেশনের বাতিলকৃত ৮ হাজার ৫শ’ ৪৪টি রিকশার নেমপ্লেট বিতরণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত এই সংগঠনের নামে হাজার হাজার রিকশা চলছে নগরীতে। যাত্রাবাড়ীর বাংলাদেশ রিকশা ভ্যান মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ। এই সংগঠনও ৪৩ হাজার রিকশা ভ্যানের নম্বরপ্লেট ছাপিয়ে বিতরণ করেছে। রিকশা চোর প্রতিরোধের নামে এই সংগঠনের নেতারা বহু বছর ধরে চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আরেক সংগঠনের নাম মুক্তিযোদ্ধা পূর্নবাসন কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ। এই সংগঠনের নামেও কিছুদিন পর পর নতুন করে নম্বরপ্লেট ছাপিয়ে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ রিকশা ভ্যান মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ নামের সংগঠনও ৪৩ হাজার নম্বরপ্লেট বিতরণের দাবিদার। এভাবে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে নম্বরপ্লেট বিক্রিল আড়ালে ক্রমেই বেড়ে চলেছে রিকশার সংখ্যা।
যানজটের কারণ
নগরীর যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ রিকশা। যেসব রাস্তায় রিকশা চলাচল করে না সেখানে যানজট খুব একটা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ট্রাফিক পুলিশের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, অদক্ষ ও আনাড়ী রিকশাচালকদের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। ধীর গতির যানবাহন বলেও রিকশার কারণে দ্রুতগতিসম্পন্ন যানবাহন চলতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়। এতেও যানজটের সৃষ্টি হয়। ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পসহ ঢাকার যানজট নিরসন ও পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নে যে সব প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে সেগুলো প্রতিটিতে রিকশা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক অনেক আগেই ঢাকা শহরের প্রধান রাস্তাগুলোতে রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে। এরই মধ্যে নগরীর শাহবাগ থেকে ফার্মগেইট, সায়েন্স ল্যাবরেটরী থেকে মিরপুরসহ কয়েকটি প্রধান রাস্তায় রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও এসব রাস্তায় উল্টোপথে রিকশা চলতে দেখা যায়। যাতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। #

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (12)
সৌভিক আহমেদ ২৬ মে, ২০১৯, ১:০৬ এএম says : 0
এই অবৈধ রিকশাগুলোকে তাঁদের চালকসহ, প্রত্যেক চালকের নিজ জেলা বা উপজেলায় চলে যেতে বাধ্য করা হোক। প্রয়োজনে সরকার ফ্রি ট্রেন বা ট্রাক সার্ভিস দিয়ে বিষয়টি সহজ করে দিক। রিকশা চালিয়ে চলার জন্য ঢাকা আসার দরকার কি, নিজের গ্রামের বাড়িতে থেকে খেয়েপড়ে বাচুক।
Total Reply(0)
Shahjahan Ali Musa ২৬ মে, ২০১৯, ১:০৪ এএম says : 0
রাজধানীর মূল সড়কগুলোতে রিক্সা চলাচল বন্ধ হওয়া দরকার, তাতে যানজন কিছুটা হলেও কমবে।
Total Reply(0)
Raf i ২৬ মে, ২০১৯, ১:০৪ এএম says : 0
Someone needs to figure out this mess ! so many people dying from road accident every day !!
Total Reply(0)
Toukir ahmed ২৬ মে, ২০১৯, ১:০৫ এএম says : 0
আপাতত বাসগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করুন, পরে এগুলো দেখা যাবে।
Total Reply(0)
Babar ২৬ মে, ২০১৯, ১:০৫ এএম says : 0
এই অননুমোদিত রিক্সাগুলোই যানজট সৃষ্টির প্রধান কারণ । এগুলো উঠিয়ে দিলে আবার লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকার হবে সাথে মানুষের কষ্ট ও বাড়বে ! উচ্ছেদের আগে পরিবহন বাড়াতে হবে।
Total Reply(0)
Deepak Eojbalia ২৬ মে, ২০১৯, ১:০৫ এএম says : 0
They are doing labour from sun rise to sun set. City corporation should give them licence.
Total Reply(0)
MD.ROJJOB ২৬ মে, ২০১৯, ১:০৫ এএম says : 0
আগে বাস গুলো নিয়ন্ত্রণ করে সব রুটে অনেক অনেক বেশি করে এসি নন এসি বাস নামান যাতে করে কেউ জিম্মি করতে না পারে।তারপর না হয় রিকশা লেগুনা এসব বন্ধ করে দিয়েন
Total Reply(0)
মাহমুদুল হাসান রাশদী ২৬ মে, ২০১৯, ১:০৪ এএম says : 0
কয়েকটি নিদির্ষ্ট সমস্যা দৃশ্যমানঃ ১। যত্রতত্র পার্কিং। ২। পাবলিক বাসগুলো যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা করানো। ৩। লেন না মেনে গাড়ি চালানো। ৪। ট্রাফিক সিগনাল অমান্য করা। ৫। পথচারী পারাপার/জেব্রাক্রসিং না ব্যবহার করে রাস্তার মাঝদিয়ে দৌড়। ৬। রিকশা গুলো সব এলোপাথারি চলাচল। ৭। ট্রাফিক সিগনাল এর অপ্রতুলতা। ৮। প্রশিক্ষিত চালকের অভাব। ৯। নাগরিক সচেতনাতার অভাব। ১০। ফিটনেসবিহীন যান চলাচল। ১১। মহসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল। ১২। নাই কোন নিদিষ্ট গতিসীমা। ১৩। জরিমানার সুষ্ট ব্যবস্থাপনা। ১৪। ঘুস দিয়ে চালকের লাইসেন্স/গাড়ীর লাইসেন্স ইত্যাদি সহজলভ্যতা। ১৫। চালকের জন্য প্রশিক্ষণ ক্লাসের কোন ব্যবস্থা নাই। ১৬। রিকশা/স্বল্প গতির যানবাহন আলাদা লেনে/রাস্তায় চলে না। ১৭। নগরে, নাগরিক ও যানবাহন এর তুলনায় রাস্তা সংখ্যা কম। ১৮। একমূখী চলাচল রাস্তা নাই, থাকলেও খুবই কম। ১৯। নগরের রাস্তা যে গুলো আছে তার সুষ্ট ও সঠিক কোন ম্যাপ নাই। ২০। সব লেভেল ক্রসিং -এ ফ্লাইওভার/পথচারী পারাপার ব্রিজ নাই। ২১। মহাখালী/গাবতলী/সায়দাবাদ এই তিন দুরপাল্লার বাসস্টেশন ঢাকার ভিতরে। বিভাগ ভাগ করে আরও কয়েকটা দুরপাল্লার বাসস্টেশন স্থাপন করা প্রয়োজন। যাতে ঢাকার ভিতরে বাসের চাপ কমে। ২২। পন্যবাহী ট্রাকগুলো ঢাকায় ঢুকে যার দুরুন রাস্তা গুলো নষ্ট হয়ে যায়। ২৩। কাওরান বাজার পাইকারি আড়ৎ সহ আরও যেসকল আড়ৎ ঢাকার ভিতরে সেগুলো ঢাকার বাইরে স্থানান্তর করা নাই। করলে ঢাকার ভিতরে চাপ কমবে। সর্বপুরি, ঢাকার যানজট ও ট্রাফিক শৃক্ষলা ফিরিয়ে আনতে সুনিদিষ্ট রোডম্যাপ ও পরিকল্পনা গ্রহন করে যে সকল রাস্তা বিদ্যমান সেগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে, ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের আইনের আওতায় এনে, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যে যারা অসৎ তাদের চিহ্নিত করে, বিআরটিএ কে সঠিক পথে এনে, চালকদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করে একটা মাষ্টার প্লান করা যায় কিনা তা খাতিয়ে দেখা দরকার। যা পারবে বর্তমান সরকার।
Total Reply(0)
Sadique Rajonno ২৬ মে, ২০১৯, ১:০৭ এএম says : 0
ঢাকা শহরে কোনো গণপরিবহন নাই। কিছু লেগুনা ছিল কিন্তু বিকল্ব বাস না নামিয়ে বন্ধ করে দেয়া হলো। এখন রিকশা ও বন্ধ করেন। শুধুমাত্র যাদের গাড়ি আছে তারাই চলবে বাকিরা হাটবে। গোড়ান থেকে গুলিস্তান , এই তিন কিলোমিটার কোনো পাবলিক যানবাহন নাই , আগে লেগুনা ছিল. এখন সম্পূর্ণ প্রধান সড়ক অবৈধ রিক্সার দখলে আর দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ কেবল হাঁটার উপর নির্ভরশীল। মানুষের ক্ষোভ চরমে।
Total Reply(0)
S. M. Abdul Haque ২৬ মে, ২০১৯, ১:০৭ এএম says : 0
এদের কারনে রাস্তায় হাটতে পারি না তাই বাধ্য হয়ে আমাকেও রিক্সা নিতে হয়।
Total Reply(0)
সৌভিক আহমেদ ২৬ মে, ২০১৯, ১:০৭ এএম says : 0
এই অবৈধ রিকশাগুলোকে তাঁদের চালকসহ, প্রত্যেক চালকের নিজ জেলা বা উপজেলায় চলে যেতে বাধ্য করা হোক। প্রয়োজনে সরকার ফ্রি ট্রেন বা ট্রাক সার্ভিস দিয়ে বিষয়টি সহজ করে দিক। রিকশা চালিয়ে চলার জন্য ঢাকা আসার দরকার কি, নিজের গ্রামের বাড়িতে থেকে খেয়েপড়ে বাচুক।
Total Reply(0)
M. Zakir Hossain ২৬ মে, ২০১৯, ২:৩৭ পিএম says : 0
rikshar bishay ti tule dharar janno dhannobad. amar manay hay riksha 12 lakh hale van gari habe 20 lakh. gold er business sara emon kono babsha nei ja van garite nei. pura dhaka shaharer rasta ghat shab bandha haye jache van garir janno. van er janno rastay gari chalano pray oshamvab haye geche. balte gele Dhaka shahar achal haye geche van garir janno. gold chara onno kon babsha ta van gari te nei, ebong van garir janno kono road tax ache kina janle daya kare janaben. pls. daya kare e bapare kichu likhun.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন