ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬, ২১ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

সম্পাদকীয়

রাস্তায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

| প্রকাশের সময় : ২৭ মে, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় মহাসড়কটিকে চারলেনে উন্নীত করা এবং বেশ কয়েকটি পুরনো সেতু সংস্কারের পাশাপাশি নতুন সেতু নির্মান করা জরুরী হয়ে পড়েছিল। মেঘনা-গোমতী ও কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতু নির্মান এবং দ্রæততার সাথে চালুর উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে একটি মাইল ফলক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তিনটি জাপানী কোম্পানী নির্ধারিত সময়ের ৬ মাস আগেই সেতু নির্মানের কাজ শেষ করা এবং প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা ফেরত দিয়ে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দেশের অবকাঠামো নির্মান খাতে যে অপচয়-লুটপাট ও অস্বাভাবিক সময় ক্ষেপণের অভিযোগ আছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই তিন সেতু নির্মানের ক্ষেত্রে তা যেন এক বিরল ব্যতিক্রম। ইতিমধ্যে মার্চ মাসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। গত শনিবার গণভবণ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মেঘনা, গোমতী সেতু ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের উন্নয়নের অংশ হিসেবে এসব সেতু, রেলযোগাযোগ, মেট্রোরেলের মত প্রকল্পগুলো জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সেই সাথে সড়কে শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার প্রশ্নেও প্রধানমন্ত্রী কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।
পদ্মাসেতুসহ বেশ কিছু মেগা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থার উপর চাপ আরো বাড়বে। মেট্রোরেল চালু হলে গণপরিবহণে এর ইতিবাচক পড়বে বলে আশা করা যায়। গণপরিবহণে মালিক-শ্রমিকদের মনোপলি, ফিটনেস বিহীন গাড়ী, অদক্ষ চালক, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, ফুটপাত ও রাস্তা ব্যবহারে পথচারিদের অসচেতনতা এবং উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির পর দীর্ঘদিন ফেলে রাখার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ঢাকার যানজট ও জনভোগান্তি সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসা সম্ভব নয়। একইভাবে মহাসড়কের চারলেন-ছয়লেনে উন্নীতকরণ, পুরনো সেতুগুলোর মেরামত ও নতুন সেতু নির্মানের প্রকল্পগুলো যথাসাধ্য কম সময়ে শেষ করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। লেন বাড়ানো বা সেতু সংস্কার করার আগে প্রথমেই যান চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়ন ও সংস্কারের কাজ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বছরের পর বছর সময় ক্ষেপণ একদিকে জনভোগান্তি বাড়ায় অন্যদিকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের গতিকেও শ্লথ করে দেয়। মেঘনা-গোমতী ও কাঁচপুর সেতু নির্মানে জাপানী সংস্থা কোম্পানী যে উদাহরণ সৃষ্টি করল, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার প্রকল্প একইভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে তা আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে আরো অন্তত এক শতাংশ বেশী অবদান রাখতে পারত বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের ধারণা।
স্থল পথে যাতায়াতের প্রশ্নে নানাবিধ বিড়ম্বনার অন্যতম ইস্যুই হচ্ছে যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা এবং গণপরিবহণে বিশৃঙ্খলা। সড়ক উন্নয়নে সরকারের নানাবিধ উদ্যোগ সত্তে¡ও রাজধানীসহ দেশের মেট্টোপলিটান শহরগুলোতে অস্বাভাবিক যানজট ও ক্রমবর্ধমান মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পেছনে একদিকে যেমন ট্রাফিক ব্যবস্থা যথাযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রিত না হওয়া, গণপরিবহন চালকদের অদক্ষতা ও বেপরোয়া মনোভাব দায়ী, অন্যদিকে যাত্রি সাধারণের অসচেতনতা, ট্রাফিক আইন না মেনে জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভারব্রীজ ব্যবহার না করে যত্রতত্র রাস্তা পারাপারের অভ্যাসও অনেকাংশে দায়ী। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জনসচেতনতা সৃষ্টিতে স্কুলের পাঠ্যসূচিতে ট্রাফিক আইন বিষয়ে সিলেবাস অন্তর্ভুক্তি ও প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই উপলব্ধি যথার্থ। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, গার্মেন্ট শিল্পসহ শ্রমঘন শিল্পকারখানার শ্রমিক ও সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও ট্রাফিক আইন ও নাগরিক শৃঙ্খলা সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তোলা ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিলে খুব সহজেই বিদ্যমান অবস্থার পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হতে পারে। তবে সেতু, ফ্লাইওভার ও মেট্রোরেলের মত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ণের সময় কমিয়ে এনে জনভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ সরকারের সংশ্লিষ্টদেরই নিশ্চিত করতে হবে। মেঘনা-গোমতী ও কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতু নির্ধারিত সময়ের আগেই সমাপ্ত করে যানচলাচলের জন্য খুলে দেয়া এ ক্ষেত্রে অনুকরণীয় উদাহরণ। মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বাস্তবায়ন চলছে। পরিবেশ দূষণ রোধে বিদ্যুত চালিত ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ণে গতানুগতিক ধীরগতি ও সময়ক্ষেপণের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। একইভাবে গণপরিবহণ ও রাস্তায় নিরাপত্তাসহ শৃঙ্খলা, স্বাচ্ছন্দ ও গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে ট্রাফিক আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং ট্রাফিক আইন ও নাগরিক শৃঙ্খলা সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে প্রয়োজনীয় ভ’মিকা রাখতে হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন