ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ০৬ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

ইতিকাফে মাবুদের সান্নিধ্য লাভের অপূর্ব সুযোগ-১

মাওলানা মুহাম্মাদ শুয়াইব | প্রকাশের সময় : ২৭ মে, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

ইতিকাফ আরবি শব্দ, আভিধানিক অর্থ অবস্থান করা, বসা, বিশ্রাম করা, সাধনা করা, ধ্যান করা ইত্যাদি। শরিয়াতের পরিভাষায় ইতিকাফ হলো- ইবাদত ও আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির নিমিত্তে পুরুষের জন্য মসজিদে ও নারীদের জন্য আপন ঘরে অবস্থান করা।
রমজানের শেষ ১০ দিন মসজিদে ইতিকাফ করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা-ই-কিফায়া। মহল্লার কোনো একজন ব্যক্তি ইতিকাফ পালন করলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়। কেউ যদি ইতিকাফ না করে তবে সবাই সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ত্যাগের জন্য দায়ী থাকবে। ইতিকাফ বর্জনের জন্য সবাই গুনাহগার হবে।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সা. রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন। (সহীহ বুখারি ১/২৭১ হাদীস নং ২০২১, সহীহ মুসলিম ১/৩৭১, হাদীস নং ১১৭১)। রাসূলুল্লাহ সা. অত্যন্ত গুরুত্বের সাথেই ইতিকাফ করতেন। তাঁর সাথে সাহাবায়ে কেরামও ইতিকাফ করতেন। তিনি পুরো মাদানী জীবনে শুধু একবার জিহাদে যাওয়ার কারণে ইতিকাফ করতে পারেননি। তাও পরবর্তী বছরে বিশ দিন ইতিকাফ করে তার কাজা করে নিয়েছেন। তিনি জীবনের শেষ রমজানে ২০ দিন ইতিকাফ করেছিলেন। হাদীস শরিফে এসেছে, ‘নবী করীম সা. প্রত্যেক রমজানে দশ দিন ইতিকাফ করতেন।
তবে ওফাতের বছর বিশ দিন ইতিকাফ করেছেন।’ (সহীহ বুখারি ১/২৭৪, হাদীস নং ২০৪৪)। সুতরাং ইতিকাফ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিসীম মাহাত্ম্যপূর্ণ ইবাদত। রমজানের বরকত, ফজিলত ও মাগফিরাত পাওয়ার জন্য ইতিকাফের বিকল্প নেই। হাদীস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশে একদিন ইতকাফ করবে আল্লাহ তাআলা তার এবং জাহান্নামের মাঝে তিন খন্দক দূরত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। অর্থাৎ আসমান ও জমিনের মাঝে যত দূরত্ব আছে তারচেয়ে বেশি দূরত্ব সৃষ্টি করে দেবেন।’ (শুয়াবুল ঈমান ৩/৪২৫, হাদীস নং ৩৯৬৫)।
ইতিকাফের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল ‘লাইলাতুল কদর’ তালাশ করা। রমজানের শেষ দশকেই আসে ‘লাইলাতুল কদর’। ‘লাইলাতুল কদর’ বা সৌভাগ্য রজনী লাভ করা মুমিনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। এই সৌভাগ্য রজনীকে আল কুরআনের সূরা ক্বাদরে ‘লাইলাতুল কদর’ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এ রাতটি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই সৌভাগ্য রজনীকে অন্বেষণের অন্যতম মাধ্যম হলো ইতিকাফ।
হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “নবী কারীম সা. রমজানের মাঝের দশদিন ইতিকাফ করতেন।
একবছর এভাবে ইতিকাফ শেষ করার পর যখন রমাজানের ২১তম রাত এল (অর্থাৎ যে রাত শেষে সকালে তিনি ইতিকাফ থেকে বের হবেন) তিনি ঘোষণা করলেন, যে ব্যক্তি আমার সাথে ইতিকাফ করেছে সে যেন শেষ দশকে ইতিকাফ করে। কারণ, আমাকে শবে কদর সম্পর্কে অবগত করানো হয়েছে (যে তা শেষ দশকের অমুক রাত) এরপর তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। ... সুতরাং তোমরা শবে কদর শেষ দশকে খোঁজ কর।” (সহীহ বুখারি ১/২৭১, হাদীস নং ২০২৭)।
ইতিকাফ আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের অপূর্ব সুযোগ। ইতিকাফের সওয়াব যেমন বেশি, তেমনি তার গুরুত্বও বেশি। ইতিকাফের মাধ্যমে দুুনিয়াবী ও সাংসারিক যাবতীয় ঝামেলা থেকে মুক্ত হয়ে মহান রবের সান্নিধ্য লাভ করার সাধনা করা হয়। ইতিকাফের দ্বারা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা যায়। ইতিকাফের কয়েকদিন (পানাহার ও যৌন কর্ম বর্জন দ্বারা) ফেরেশতাদের সঙ্গে সাদৃস্য হয়। ফেরেশতাসূলভ আচরণে অবিচল থাকার কঠোর প্রশিক্ষণ লাভ হয়। রোযার যাবতীয় আদব ও হক যথাযথ আদায়ের মাধ্যমে রোযা রাখার সৌভাগ্য হাসিল হয়। মসজিদে অবস্থান করার কারণে ইতেকাফকারী যে সব আমল করতে অক্ষম যেমন জানাযায় শরিক হওয়া, অসুস্থদের সেবা করা ইত্যাদি, সে সব আমল না করেও তার সাওয়াব পাওয়া যায়। সর্বোপরি ‘লাইলাতুল কদরের’ ফজিলত ও হাজার মাসের সওয়াব তথা ৮৩ বছর ৪ মাসের পুণ্য লাভ করা যায়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (10)
হাসিবুল ইসলাম ২৭ মে, ২০১৯, ২:৩৬ এএম says : 0
রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কেফায়া। অর্থাৎ বড় গ্রাম বা শহরের প্রত্যেকটা মহল্লা এবং ছোট গ্রাম-এলাকার পূর্ণ বসতিতে কেউ কেউ ইতিকাফ করলে সকলেই দায়িত্ব মুক্ত হয়ে যাবে। আর কেউই না করলে সবাই গোনহগার হবে।
Total Reply(0)
মাহমুদুল হাসান রাশদী ২৭ মে, ২০১৯, ২:৩৬ এএম says : 0
মাহে রমজানের মর্যাদাকে কাজে লাগিয়ে কদর রাতপ্রাপ্তির সুনিশ্চিত প্রত্যাশায় সর্বোপরি মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভের জন্য রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফকে সুন্নাত করা হয়েছে।
Total Reply(0)
বিবেক ২৭ মে, ২০১৯, ২:৩৬ এএম says : 0
মহান আল্লাহ পাক হজরত ইবরাহিম (আ.) এবং হজরত ঈসমাইল (আ.) এর কথা উল্লেখ করে ইরশাদ করেন ‘আর আমি ইবরাহিম ও ঈসমাইলকে আদেশ করলাম’ তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১২৫)
Total Reply(0)
তামিম ২৭ মে, ২০১৯, ২:৩৭ এএম says : 0
শরিয়তের পরিভাষায় যে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতসহকারে নিয়মিত আদায় করা হয় এমন মসজিদে মহান আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে নিয়তসহকারে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে। রাসূলুল্লাহ সা: স্বয়ং ইতিকাফ করেছেন এবং ইতিকাফ করার জন্য সাহাবাদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছেন।
Total Reply(0)
মো রিয়াজুল ইসলাম ২৭ মে, ২০১৯, ২:৩৭ এএম says : 0
ইতিকাফ করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভের সুযোগ পাওয়া যায়। তাই সবার উচিত যথানিয়মে ইতিকাফ করা।
Total Reply(0)
মুহাম্মদ রহমতউল্লাহ ২৭ মে, ২০১৯, ২:৩৮ এএম says : 0
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ইতিকাফকারী যাবতীয় গোনাহ থেকে মুক্ত থাকে এবং তার জন্য ওই পরিমাণ নেকি লেখা হয়, যে পরিমাণ আমলকারীর জন্য লেখা হয়ে থাকে। (মিশকাত, হাদিস নং: ২০০৪)
Total Reply(0)
মুহাম্মদ রহমতউল্লাহ ২৭ মে, ২০১৯, ২:৩৯ এএম says : 0
শুকরিয়া। যে রাতে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে, সে রাতই লাইলাতুল কদর। আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি মর্যাদাপূর্ণ কদর রজনীতে। আপনি কি জানেন, মহিমাময় কদর রজনী কী? মহিমান্বিত কদর রজনী হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম সমভিব্যাহারে অবতরণ করেন; তাঁদের প্রভু মহান আল্লাহর নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে, সব বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে। এই শান্তির ধারা চলতে থাকে উষা পর্যন্ত। (আল কোরআন, সুরা-৯৭ [২৫] আল কদর (মাক্কি), রুকু: ১/২২, আয়াত: ১-৫, মঞ্জিল: ৭, পারা: ৩০ আম্ম-সি পারা, পৃষ্ঠা ৬০৫/১৯)।
Total Reply(0)
মাওলানা রূহুল আমীন'সানী' ২৭ মে, ২০১৯, ২:৪০ এএম says : 0
রমজান মাস পবিত্র কোরআন নাজিলের মাস। শবে কদর কোরআন নাজিলের রাত। এ রাতেই প্রথম পবিত্র মক্কা মুকাররমার হেরা পর্বতের গুহায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের সরদার হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি মহাগ্রন্থ আল কোরআন অবতীর্ণ হয়।
Total Reply(0)
শেখ তামিম ২৭ মে, ২০১৯, ২:৪০ এএম says : 0
আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় আমি লাইলাতুল কদরে কোরআন নাজিল করেছি। লাইলাতুল কদর কী তা আপনি জানেন? লাইলাতুল কদর হলো হাজার মাস ইবাদত করার চেয়েও উত্তম।’ লাইলাতুল কদর সম্পর্কে রসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘লাইলাতুল কদরে হজরত জিবরাইল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট বাহিনী নিয়ে অবতীর্ণ হন এবং যারা দাঁড়িয়ে, বসে, ইবাদত-বন্দেগি করে তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’
Total Reply(0)
মহিবুল ২৭ মে, ২০১৯, ২:৪১ এএম says : 0
সুন্দর আলোচনা। সর্বোপরি কোরআনের সংস্পর্শে একটি সাধারণ রাত ‘লাইলাতুল কদর’ বা ‘শবে কদর’ রজনীর সম্মানে বিভূষিত হয়েছে। কোরআনের সঙ্গে যার যতটুকু সম্পর্ক ও সংস্পর্শ থাকবে, তিনি ততটুকু সম্মানিত ও মর্যাদার অধিকারী হবেন।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন